মীরসরাইয়ে মটরশুটি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

মীরসরাই প্রতিনিধি

শনিবার , ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ
30

সহজ চাষাবাদ পদ্ধতি ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষি প্রধান জনপদ মীরসরাইয়ে মটরশুটি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। মাত্র কয়েক বছর আগে থেকে এখানে এটি চাষাবাদ শুরু হলেও ইতোমধ্যে তা প্রায় ৫ হেক্টর জমি ছাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে ৫শ থেকে এক হাজার হেক্টর পর্যন্ত জমি মটরশুটি চাষাবাদের উপযোগী। তবে আগের তুলনায় দিনদিন এর চাষাবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাবাদী কৃষি বিভাগসহ স্থানীয় কৃষকরা।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম জানান, উপজেলার ১২নং খৈয়াছরা ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছরা গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান ও সুবাস কান্তি নাথসহ বেশ কয়েকজন কৃষক প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে মটরশুটি চাষ করেছেন। বর্তমানে তারা যে পরিমাণ মটরশুটি চাষাবাদ করেছেন তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে না হলেও নিজেদের ঘরের সারা বছরের ডালের চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে অভিমত তাদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবজি কিংবা আমিষের বিকল্প হিসেবে মটরশুটির চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের পোলাও ও সবজিতে মটরশুটি ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। তবে চাষাবাদ উপযোগী পর্যাপ্ত জমি থাকা স্বত্ত্বেও এখানকার বাজারে উত্তর বঙ্গ থেকে মটরশুটি আমদনি করা হয়। অথচ এসব পতিত জমিতে চাষাবাদ করলে উল্টো এখান থেকে রপ্তানি করা সম্ভব হতো।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, আমরা কৃষকদের মটরশুটি চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করছি শীঘ্রই তা ব্যাপক ভাবে শুরু হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জমিতে মাত্র একটি চাষ দিয়েই অক্টোবরনভেম্বর মাসে মটরশুটির বীজ বপন করা সম্ভব। এরপর আর ব্যয় তেমন নেই বললেই চলে। বিঘা প্রতি ১২ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। জমিতে শুধুমাত্র টিএসপি ও পটাশ সারের প্রয়োজন পড়ে। সেচের প্রয়োজন হয় না। এক মওসুমে তিন দফায় গাছ থেকে মটরশুটি সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা। বিপরীতে বিঘা মটরশুটি উৎপাদিত ২৫ মণ। যার বাজার দর মণ প্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে ৬২ হাজার টাকা। খৈয়াছারার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৩০ শতক জমিতে মটরশুটি আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে গাছ থেকে মটরশুটি পেয়েছি প্রায় ২ মণ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় আরও কয়েক মণ মটরশুটি পাব বলে আশা করছি। এতে তার সারা বছরের ডালের চাহিদা মিটবে বলে জানান মোস্তাফিজ।

অপর কৃষক সুবাস কান্তি নাথ বলেন, অক্টোবরে, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে পানি নামতে দেরী হওয়ায় নীচু জমিতে মটরশুটির ফলনে একটু ব্যাঘাত ঘটেছে। তারপরও গড় ফলন মন্দ নয়। মটরশুটির জমিতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয় না। অধিকন্তু পরবর্তী ফসল চাষাবাদে ঐ জমিতে ২০ ভাগ ইউরিয়া কম ব্যবহার করলেই চলে। কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, মটরশুটির গুণাগুণ ও উপযোগিতার তথ্য কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার পর থেকে কৃষকরা এটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে মটরশুটি এই এলাকার অন্যতম অর্থকরি ফসলে পরিণত হবে বলে আশা করছেন বুলবুল আহমেদ।

x