মুশফিকের অধিনায়কত্ব হারানোর গুঞ্জন

সোমবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৭ at ১২:০৭ অপরাহ্ণ
105

ম্যাঙ্গাউং ওভালে তৃতীয় দিন মাঠে নামছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। ড্রেসিংরুমে বসে মলিন মুখে দেখছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সুপার স্পোর্টসের ক্যামেরায়ও তা ধরা পড়ল। গুঞ্জন চারদিকে ডালপাল মেলছেÑ অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুশফিকে। এ প্রসঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) আলোচনা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরই নাকি শেষ টেস্ট মুশফিকের অধিনায়কত্বে। অবশ্য মুশফিক এ প্রসঙ্গে বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্তই হবে প্রধান। বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই হবে চূড়ান্ত। মুশফিক নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মুশফিক বলেন, আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তা শোধরানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। কেননা মানুষমাত্রই ভুল করে। বোর্ড আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, আমি সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। টানা দুই টেস্টে ব্যর্থতার ভার একাই কাঁধে নিয়ে মুশফিক জানান, দল যদি খারাপ খেলে ব্যর্থতার দায় অধিনায়ককেই নিতে হয়। আর যদি দল ভালো করে প্রশংসা পায় টিম ম্যানেজমেন্ট। কোনো কথায় যদি বোর্ড হতাশ হয়ে থাকে, তা হলে মুশফিকের দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছুই করার নেই।মুশফিক জানান, সবাই দেশের জন্য খেলেন। এখানে কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রধান নয়। অধিনায়কের ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাকেই সাধুবাদ জানাবেন মুশফিক।

ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিন টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। বোলিংয়ে তিনটি পরিবর্তন এনেও সফল হয়নি বাংলাদেশ। প্রথম দিনের খেলা শেষে অধিনায়ক মুশফিক নিজেই আসেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। বোলারদের একহাত নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। টস সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমার হয়তো টস জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে।’ অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও বাউন্ডারির কাছে গিয়ে ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে ভাই, আমি ফিল্ডার হিসেবে ভালো নই। সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে বেশি রান হয়ে যায়। এ জন্য আমাকে দূরে ফিল্ডিংয়ের কথা বলা হয়েছে।’ এ ছাড়া মুশফিক বলেন, ‘আমি হয়তো দলকে সেভাবে উৎসাহ দিতে পারছি না।’ এমনই ব্যক্তিগত ব্যর্থতা জানিয়ে মুশফিকের সব হতাশাজনক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, পেছন থেকে কেউ কলকাঠি নাড়ছে! মুশফিক বলেছেন, সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হয় সম্মিলিতভাবে।এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে বিতর্কে জড়ান মুশফিক। প্রশ্ন উঠেছিলÑ এ অধিনায়ক নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের কথা শোনেন না! উইকেটরক্ষক, ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক তিন বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চাপ হয়ে যায় মুশফিকের। এ জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট সিরিজে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব থেকে মুশফিককে অব্যাহতি দেওয়া হয়; গ্লাভস তুলে দেওয়া হয় লিটন দাসের হাতে। কিন্তু টানা দুই টেস্টেই লড়াকু ক্রিকেট খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে চ্যালেঞ্জিং সিরিজে বিশ্রাম নেন দলের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। ইনজুরিতে পড়ায় দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি দলের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। ইনজুরির কারণে সৌম্য সরকারও প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি। বড় দুই খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতে ব্লুমফন্টেইনে বোলিং-ব্যাটিং দুই বিভাগেই সমানভাবে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ১০টি জয়ের মধ্যে মুশফিকের নেতৃত্ব ছিল ৭টিতেই। ৯টি টেস্টে ড্র করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে বড় জয়গুলোও এসেছে মুশফিকের হাত ধরেই। ব্যাটিং, কিপিং ও অধিনায়ক হিসেবে ভালো করেছেন। কিন্তু হঠাৎ কেন মুশফিককে সরিয়ে দেওয়ার কথা উঠছে? প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে মুশফিকের কিপিং পছন্দ করেন না। অবশ্য এর আগে বিসিবি-প্রধান নাজমুল হাসান পাপনও অধিনায়ক মুশফিককে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। সব মিলিয়ে মুশফিক নেতৃত্ব হারানোর পথে! কিন্তু মুশফিকের বিকল্প হিসেবে সাকিব, তামিম ও মাহমুদউল্লাহর নাম নিয়ে গুঞ্জন উঠছে। সামনে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। কিন্তু নতুন অধিনায়ক নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট কতটুকু এগিয়ে নেওয়া যাবে, তা-ই এখন ভাবনার বিষয়।

x