মূলধন লাগে না বলে পাহাড়ে বাড়ছে কলার চাষ

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই

বুধবার , ১৬ মে, ২০১৮ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
27

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে পাহাড়ে সারা বছর প্রচুর কলা চাষ হয়। পাহাড়ের এমন কোন অঞ্চল নেই যেখানে কলার চাষ দেখা যায়না। পাহাড়ে উৎপাদিত কলা সমতলের মানুষের কাছে অনেক প্রিয়। তাই প্রায় প্রতিদিন পাহাড়ি এলাকা থেকে ট্রাক, চাঁদের গাড়ি ইত্যাদি যানবাহন বোঝাই করে কলা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। কাপ্তাই, বিলাইছড়ি, রাজস্থলী ইত্যাদি উপজেলা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রতিটি হাট বাজারে বিশেষ করে হাটবারের দিন কলার ছড়াছড়ি।

পাহাড়ি নারী পুরুষ সবাই কলার ছড়া নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে আসেন। পাহাড়ি কলার মধ্যে বেশিরভাগ দেখা যায় চাঁপা কলা ও বাংলা কলা।

তবে এছাড়াও আরো নানান জাতের কলা পাহাড়ে উৎপাদিত হয়। কলা ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান, তারা চট্টগ্রাম থেকে কলা সংগ্রহ করার জন্য কাপ্তাই, বিলাইছড়ি, রাজস্থলী, কাউখালী, বরকল ইত্যাদি উপজেলায় যান। সেখানকার স্থানীয় বাজার থেকে কলা কিনে বিভিন্ন উপায়ে তারা শহরে নিয়ে আসেন। তবে সংগ্রহ করা সব কলা হয় কাঁচা। কেননা পাকা কলা পরিবহণ করা সম্ভব হয়না। পাকা কলা পরিবহনে নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। এক ছড়া কলায় সর্বোচ্চ ২০টি পর্যন্ত কাঁদি থাকে। কোন কোন কলার ছড়া এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিকিকিনি হয়। আবার দেড়শ থেকে দুইশ টাকায়ও কলার ছড়া পাওয়া যায়। কলা চাষে বিশেষ কোন মূলধন খাটাতে হয় না বলে কলার চাষ বাড়ছে পাহাড়ে। একবার কলার চারা লাগানোর পর মাঝে মধ্যে সামান্য পরিচর্যা করলে প্রায় ১২ মাস কলা পাওয়া যায়। তবে কলা গাছের প্রধান শত্রু হলো বন্য হাতি। একবার যদি বন্য হাতির দল কলাবাগানে নামে তাহলে পুরো বাগান সাবাড় না হওয়া পর্যন্ত হাতি কলাবাগান ছাড়ে না বলে একাধিক কলা চাষি জানান। বন্য হাতির উপদ্রব না থাকলে কলাচাষ সবচেয়ে লাভজন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

x