রমজানে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ

সেতুমন্ত্রীকে মেয়রের চিঠি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ
501

ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ’ কার্যক্রমটি রমজান মাসে স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে চিঠি দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল তিনি এ দাপ্তরিক পত্র পাঠান। ওই চিঠিতে, ‘এক্সেল লোড পরিবহনে বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ করা হয়।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক আজাদীকে মেয়র বলেন, ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পরিবহনে দুই এক্সেল (ছয় চাকা) বিশিষ্ট মোটরযানে ১৩ টনের বেশি ওজন পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। অথচ দেশের অন্য কোন মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে অপরাপর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সাথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাছাড়া ওজন নির্দিষ্ট করার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। বাজারে অসম হারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে বিদ্যমান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে একটি ডি.ও লেটার পাঠিয়েছি।

এদিকে গতকাল সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে পাঠানো পত্রে মেয়র বলেন, দেশের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অধিকারী বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে আমদানিকৃত নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সারাদেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে সরকার সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে উলেহ্মখিত ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সারাদেশের সাধারণ মানুষ এসব পদক্ষেপের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে এবং ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।

পত্রে মেয়র বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার লক্ষ্যে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই এক্সেল বিশিষ্ট মোটরযানে ১৩টন ওজন পরিবহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ করেন।

পত্রে আরে বলা হয়, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দুই এক্সেল (ছয় চাকা) বিশিষ্ট মাটরযানের মাধ্যমে মাত্র ১৩ টন ওজন নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় কেজি প্রতি ৩/৪টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

x