রাঙ্গুনিয়ার ইছামতি থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন

ভাঙছে ফসলি জমি ও সড়ক

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ১৫ মে, ২০১৮ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
24

রাঙ্গুনিয়ার ইছামতি নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালি উত্তোলন করছে অসাধু ব্যক্তিরা। ইজারাবিহীন বালুমহাল থেকে বিভিন্ন সময় তারা সরকারি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পদ পদবীর দোহাই দিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করছে। ইছামতি ছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তারা কোটি টাকা আয় করছে। এতে ভেঙে যাচ্ছে তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। তবে এবিষয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। তাদের বেপরোয়া বালি উত্তোলনের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্পটে নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বালুবাহী ট্রাকের কারণে ধসে গিয়ে তীব্র খানাখন্দেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার প্রায় শতাধিক স্পটে প্রতিনিয়ত ইজারাবিহীন স্থান থেকে বালু উত্তোলন চলছে। বেপরোয়া বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও তাদের দমানো যাচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্র জানায়।

দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ফুলবাগিচা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ গ্রামের সাথে ইছামতি নদীর উপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করে অপর পাড়ের রাজানগর ইউনিয়নের শিয়ালবুক্কা গ্রামের মানুষ। শিয়ালবুক্কা, ফুলবাগিচা সহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি কাজ। শুধুমাত্র নদীর পাড়েই কৃষি কাজ করে দিনাতিপাত করছে দুই গ্রামের প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষ। কিন্তু গ্রামের মানুষের তৈরি বাঁশের সাঁকোর নিচ থেকেই বালু তুলছে সরকারি দলের পরিচয়ে একটি মহল। আধা কিলোমিটারের মধ্যেই দুটি আলাদা ড্রেজার মেশিনে তারা প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছে না। তাদের বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ইছামতী নদীর এই স্পট দিয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লায়লা বেগম নামে এক মহিলা বলেন, নদীর পাড়ে আমি দুই কানি কাকড়লের চাষাবাদ করেছি। ফসল তোলার সময়ে নদী থেকে বালি উত্তোলনের কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ইতিমধ্যেই আমার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হতে শুরু করেছে।

শিয়ালবুক্কা গ্রামের আবুল বশর বলেন, আমাদের চলাচলের জন্য একমাত্র এই শিয়ালবুক্কা বাঁশের সাঁকোই ব্যবহার করি। প্রতি বছর আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করি। ড্রেজার বসিয়ে এই সাঁকোর নিচ থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। এতে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সাঁকোটি। আমাদের এলাকার কৃষক, স্কুলকলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছে নিয়মিত।

দক্ষিণ রাজানগর ইউপি সদস্য মো. আবদুল কাদের তালুকদার বলেন, ফুলবাগিচা এলাকায় বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার ফসলী জমি নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। নদীতে প্রায়ই ভেঙ্গে গেছে শিয়ালবুক্কা সংলগ্ন সর্দার পাড়া সড়ক। পারশুয়া ডিসি সড়কও ইছামতী খালের ভাঙনে ঝুঁকিতে রয়েছে। বেপরোয়া বালু উত্তোলন বন্ধে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু এখনো এর কোন সুফল পাওয়া যায়নি। এদিকে পারুয়া ইউনিয়নের রাবার ড্যাম সংলগ্ন ইছামতি নদী থেকেও বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ রাবার ড্যামের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জহুরুল হক বলেন, আইন অনুযায়ী রাবার ড্যামের দুই পাশের দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বালু উত্তোলনের কোন নিয়ম নেই। যারা এখানে বালি উত্তোলন করছে তাদের এটা বন্ধ করতে বলা হলেও শুনছে না কেউ।

এভাবে শুধুমাত্র ইছামতী নদীর রাণীরহাট থেকে উপজেলা সদরের রোয়াজারহাট পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার জুড়ে কমপক্ষে অর্ধশত বালুর টাল রয়েছে। পারুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল এক নেতার বালুর টাল কমপক্ষে ১০টি বলে দাবী করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ইছামতি নদী থেকে ১০/১৫টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়েছি এবং জরিমানাও করেছি। ফুলবাগিচা ও রাবার ড্যাম সহ ইছামতী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। এগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

x