রোহিঙ্গা ভার থাকছেই ধারণা মুহিতের

বুধবার , ৭ মার্চ, ২০১৮ at ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ
14

মিয়ানমার ফেরত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ লাখ রোহিঙ্গার ভারমুক্তি ঘটছে না বলেই মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দুটি কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে না বলে তার মত; একটি হল মিয়ানমার শেষ পর্যন্ত এই শরণার্থীদের ফেরত নেবে না; দ্বিতীয়টি হল, রাখাইনে অনিশ্চিত জীবনে ফেরত যেতে চাইবে না রোহিঙ্গারাও। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডিএফআইডি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে মুহিত নিজের মনোভাবের কথা জানান। খবর বিডিনিউজের।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমনপীড়নের শিকার হয়ে গত বছরের অগাস্টের পর এই পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে বাংলাদেশে রয়েছে ৪ লাখের মতো। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে মিয়ানমার সরকার এই দফায় আসা রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি হলেও প্রত্যাবাসন এখনও শুরু হয়নি। রোহিঙ্গাদের যাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস রোহিঙ্গা পাঠানো যাবে না। ইউ ক্যান স্পেকুলেইট, বার্মাতে খুব কমই যাবে। এক নাম্বার বার্মা নিবে কম। দুই নাম্বার এরা আবার গিয়ে নির্যাতিত হবে, এই ভয়েই যাবে না। থেকে গেলে এই রোহিঙ্গাদের কি বাংলাদেশের নাগরিক করে নেওয়া হবেএই প্রশ্নে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় তো আট থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। নাগরিকত্ব পেলে রোহিঙ্গারা তো যেতে উৎসাহী হবে নাএক সাংবাদিক বললে মুহিত বলেন, কোনো রোহিঙ্গা কি যাচ্ছে? এরিয়া অব রাখাইন থেকে মগদের বিতাড়িত করতে হবে। রাখাইন মগদের নয়, এটা করতেই হবে। মিয়ানমার সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক মিলিয়ন যেখানে আছে, সেখানে দিনে ১৫ জন নেবে! দে আর অ্যাবসলিউট ইভল গভর্নমেন্ট, রাখাইন থেকে মগদের বিদায় করতে হবে। ইট্‌স মাই পারসোনাল ভিও। মগ শুড লিভ রাখাইন, সু চি শুড লিভ রাখাইন। রোহিঙ্গারা ফিরতে চাইলে সেই পথটি কঠিন বলেই মনে করেন মুহিত। সশস্ত্র সংগ্রাম করেই তাদের যেতে হবে।

রোহিঙ্গারা সশস্ত্র সংগ্রামে যেতে চাইলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কী করতে পারেসাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটার জন্য ইন্টারন্যাশনাল রুল দরকার, এটা আমরা পারব না, আমাদের এ সামর্থ্য নেই। ডিএফআইডি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভাসানচরের কাজ শুরু হয়েছে, অনেক দূর এগিয়েছে। আমার ধারণা, যারা পুরনো রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে আরও কিছু সংখ্যক নতুনদের ভাসানচরে পুনর্বাসন করতে হবে। কিন্তু ভাসানচরে এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা টেককেয়ার করার সক্ষমতা আমাদের নেই। ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ থাকবে কি নাএ প্রশ্নে মুহিত বলেন, অবশ্যই বরাদ্দ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এ হিসাব দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা বরাদ্দ রাখা হবে, সেটা এখন বলা যাচ্ছে না। বাজেটেও রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ বাড়বে। তবে রোহিঙ্গাদের জন্য যে বিদেশি সাহায্য আসছে, তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

x