শান্ত মোমিনুলের অশান্ত উদযাপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
26

মোমিনুল হক বাংলাদেশের ক্রিকেটে একেবারে সহজ সরল এক ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে মাঠে নামলে তার কাজ যেন একটাই। কেবল রান করা। বল আর ব্যাটের সাথেই যেন কেবল সম্পর্কটা। কে কোন দিকে কি করছে বা কে কি বলছে সে সবের দিকে খেয়ালই নেই। হাফ সেঞ্চুরি কিংবা সেঞ্চুরি। অথবা দেড়শ যে ইনিংসই হোক না কেন। তার উদযাপনটাও একেবারে সাদামাটা। আর ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির সঙ্গে তার সখ্যটা পুরোনো। এইতো কদিন আগেই তিনশর কাছে গিয়ে ফিরেছেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে। আর তারই প্রতিফলন যেন দেখালেন মোমিনুল গতকাল শ্রলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে কাটালেন সেঞ্চুরি খরা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামকে আবারও প্রমাণ করলেন তার লাকি গ্রাউন্ড হিসেবে। গতকাল এই মাঠে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির একেবারে কাছে মোমিনুল। খেলে ফেলেছেন আরো একটি দেড়শ পার হওয়া ইনিংস। আর তার ব্যাটিংটাও ছিল দেখার মত। আর শতক শেষে দেখার মত ছিলো তার উদযাপনটাও। চার মেরে সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন মোমিনুল। বল যখন ছুটছিল সীমানার দিকে তখন মোমিনুল মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ছুঁড়লেন বাতাসে। ব্যাটহেলমেট উঁচিয়ে তোলার প্রথাগত উদযাপন তো ছিলই। তবে অনেকটা ছুটে গেলেন ড্রেসিং রুমের দিকে। বাতাসে ছুড়লেন ব্যাটও। মুখে নেই হাসি। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় কোনো কিছু অর্জনের ছায়াই যেন থাকল শিশু সুলভ চেহারাটি হঠাৎ বদলে যাওয়া মুখায়বে।

মাঠের ভেতরেবাইরে বরাবরই অন্তর্মুখী মোমিনুল। শান্ত এবং চাপা স্বভাবের। উচ্ছ্বাস কিংবা বেদনা, কোনোটিরই বাড়াবাড়ি দেখা যায় না তার মাঝে। গতকাল যেটি খেলেছেন তার চাইতেও বড় ইনিংস খেলেছেন মোমিনুল আগে। কিন্তু বরাবরই সে সব উদযাপনে তিনি ছিলেন পরিমিত। সেই মোমিনুলই গতকাল যেভাবে উদযাপন করলেন তার সাথে মোমিনুলের বৈশিষ্ট্যের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল শতক পূরণের পর যেমনভাবে উদযাপন করলেন ঠিক তেমনই ছিল গতকাল তার ব্যাট। গতকাল দিনের শুরু থেকেই তামিম বুঝিয়ে দিলেন এখানে রান উৎসব করা যাবে। আর মোমিনুল দেখালেন সেটাকে ফোয়ারায় পরিণত করে। পরপর দুই বলে চার মেরে মোমিনুল যখন তার সেঞ্চুরি পূরণ করলেন তখন রানের পাশে বল মাত্র ৯৬টি। যা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।

২০১০ সালে সালে লর্ডসে তামিমের ৯৪ বলের সেঞ্চুরিটি এখনও দ্রুততম। অবশ্য মোমিনুলের ৯৮ বলেও আরেকটি সেঞ্চুরি করেছেন।

২৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের পঞ্চম সেঞ্চুরি। চতুর্ত সেঞ্চুরিটা পেয়েছিলেন তিনি ১২তম টেস্টেই। পরের ১৩ টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা নেই। এর মধ্যে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৫টি। ঠিক মোমিনুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এই টেস্টগুলোতে। অবশেষে কাটল সেই রান এবং সেঞ্চুরির খরা। সবশেষ ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন মোমিনুল। আগেই বলা হয়েছে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম বরাবরই তার জন্য লাকি গ্রাউন্ড। কিন্তু সে লাকি গ্রাউন্ডেও ব্যাটে বলে হচ্ছিল না ঠিকমত। অথচ এই প্রথম তিন টেস্টেই করেছিলেন তিনটি সেঞ্চুরি। এরপর তিন টেস্টে নেই একটি হাফ সেঞ্চুরিও। শেষ পর্যন্ত সে খরা কাটিয়েছেন মোমিনুল।

সেঞ্চুরির পর মোমিনুলের তা উদযাপন নজর কেড়েছে অনেকেরই। কিন্তু এমন উদযাপনের কারন খুঁজে পাচ্ছে না কেউই। তবে অনেকেরই মধ্যে মোমিনুলদের সাবেক কোচ হাথুরুসিংহেকে দেখাতেই কিনা এমন আক্রমণাত্মক উদযাপন। কারণ এই হাথুরুসিংহের সময়ে বাদ পড়েছেন ওয়ানডে দল থেকে। নিজেদের শততম টেস্টে খেলতে পারেননি লংকানদের বিপক্ষে এই হাথুরুসিংহের সময়েই। আর সে সবের ঝাল যেন মেটালেন মোমিনুল গতকাল দেড়শ পার করা একটি ইনিংস খেলে। আর এমন ব্যাটিং করে জবাবটা যখন দিলেন তখন উদযাপনটাও দেখালেন হাথুরুকে। যেন বুঝাতে চাইলেন আমি পারি। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যে সেঞ্চুরি করতে পারেন মোমিনুল সেটা তিনি করে দেখালেন সেই হাথুরুসিংহের দলের বিপক্ষেই। আর তাই ধারণা করা হচ্ছে মোমিনুলের উদযাপনে মিশে ছিল অতীতের ক্ষোভও।

x