শিক্ষক বাতায়ন : শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের বাতিঘর

এ.বি.এম গোলাম নুর

শনিবার , ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ at ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
131

বর্তমান সরকারের ভিশন২০২১ এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন। দেশের প্রতিটি স্তর এবং সেক্টর বর্তমানে গুটিগুটি পায়ে ডিজিটালাইজড হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষা বিভাগ মোটেও পিছিয়ে নেই। একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এটি আমি তথা সকল শিক্ষক গর্বের সাথে বলতে পারি যে, ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য বিভাগের চেয়ে শিক্ষা বিভাগ বহুলাংশে এগিয়ে আছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে পরিচালিত ট২র এর শিক্ষক বাতায়ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। গতানুগতিক শিক্ষাদানে/পাঠদানে আমুল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই শিক্ষক বাতায়ন। সরকার বর্তমানে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে MMC’র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সরকার এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে তুলছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় শিক্ষাউপকরণও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরবরাহ করে যাচ্ছেন। সরকার ইতোমধ্যে TQI-SEP প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষকদের ICT এবং Digital Content Development এর উপর প্রশিক্ষিত করে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ল্যাপটপ এবং MMC পরিচালনার জন্য একটি প্রজেক্টের সাথে একটি মডেম বিনামূল্যে প্রদান করেছেন, যাতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকগণ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে লব্ধজ্ঞান কাজে লাগিয়ে গুণগত ও মানসম্পন্ন পাঠদান করতে সক্ষম হন। এর সফল বাস্তবায়ন ঘটাতে শিক্ষকগণ গতানুগতিক পাঠদান পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে কিংবা শিক্ষক বাতায়ন থেকে কনটেন্ট ডাউনলোড পূর্বক তা ব্যবহার করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

যার ফলশ্রুতিতে দেশের শিক্ষক সমাজের ব্যক্তিত্বে আমূল পরিবর্তন আসার পাশাপাশি পঠনপাঠন প্রক্রিয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। শিক্ষক বাতায়নের কারণে, বর্তমানে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষকদের মাঝে এমন একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে, কে কত বেশি মানসম্মত কনটেন্ট শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করতে পারেন। মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য সাপ্তাহিক সেরা কনটেন্ট নির্মাতা নির্বাচন করার ব্যবস্থা করায় কনটেন্ট নির্মাণ ও বাতায়নে আপলোডে গতিশীলতা এসেছে নিঃসন্দেহে। শিক্ষকগণ প্রতিদিন তথ্যউপাথ্য সমৃদ্ধ নতুন, নতুন কনটেন্ট শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করে এটিকে তথ্যবহুল করে তুলছেন।

তাছাড়াও শিক্ষক বাতায়নের কারণে, অধিকতর পিছিয়ে পড়া শিক্ষকগণও তাদের কর্মকাণ্ডে গতি নিয়ে এসেছেন। অগ্রসর শিক্ষকদের সহায়তায় তাঁরা শিক্ষক বাতায়নের সদস্য হয়ে প্রয়োজনীয় ক্লাসগুলো সেখান থেকে ডাউনলোড করে, পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বাতায়নের ব্লগ অংশে বাতায়নের সদস্যগণ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করতে পারছেন। গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা থাকায়, বাতায়ন কর্তৃপক্ষ পরামর্শকে কাজে লাগিয়ে, সেটিকে আরো কার্যকরি ও ফলপ্রসূ মাধ্যমে রূপান্তরে সক্ষম হচ্ছেন। বর্তমানে দেশে কোথাও এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার মনে হয় না, যেখানে MMC ব্যবহার করে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া হচ্ছে না।

বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে, ঘোষণা দিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত দেশের নয় লাখ শিক্ষককর্মচারীকে ডিজিটাল করার লক্ষে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষককে শিক্ষক বাতায়নের সদস্য করা হবে। এ কাজে গতি আনার জন্য সরকারের ট২র ইতোমধ্যে দেশের বাতায়ন সেরা কনটেন্ট নির্মাতা শিক্ষকদের জেলা এম্ব্যাসেডর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

দেশের শিক্ষাবিদগণের অভিমত, এ অবস্থা চলতে থাকলে, বর্তমান সরকারের রূপকল্প২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালাইজড হবে। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের কাঙিক্ষত সফল্য অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগতমান অর্জিত হবে।

এ সকল দৃশ্যমান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষক বাতায়নের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। কাজেই, এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, শিক্ষক বাতায়ন শিক্ষকতা পেশা এবং দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের বাতিঘর।

শিক্ষক বাতায়নের (https://www.teachers.gov.bd) ব্যবহার করে যে কেউ সহজে শিক্ষক বাতায়নে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট ডাউনলোড করতে পারেন। তবে, কোন বিষয় আপলোড করতে চাইলে কিংবা ব্লগে মতামত বা পরামর্শ দিতে চাইলে তাকে অবশ্যই বাতায়নের সদস্য হতে হবে। নিজস্ব ইমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে শিক্ষক বাতায়নের সদস্য হতে হয়।

বর্তমানে শিক্ষক বাতায়নের সদস্য সংখ্য দুই লাখ ৬৬ হাজার ৯শ বাহাত্তর জন, মোট কনটেন্ট সংখ্যাএক লাখ ২৫ হাজার ৯শ ৭২টি, মডেল কনটেন্ট সংখ্যানয়শ ৪৪টি এবং ব্লগ সংখ্যা৭১০১৪টি। প্রতিদিন এ সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লেখক : প্রধান শিক্ষক, পদুয়া সম্মিলনী বালিকা

উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

স্য করা হবে। এ কাজে গতি আনার জন্য সরকারের ট২র ইতোমধ্যে দেশের বাতায়ন সেরা কনটেন্ট নির্মাতা শিক্ষকদের জেলা এম্ব্যাসেডর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

দেশের শিক্ষাবিদগণের অভিমত, এ অবস্থা চলতে থাকলে, বর্তমান সরকারের রূপকল্প২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালাইজড হবে। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের কাঙিক্ষত সফল্য অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগতমান অর্জিত হবে।

এ সকল দৃশ্যমান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষক বাতায়নের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। কাজেই, এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, শিক্ষক বাতায়ন শিক্ষকতা পেশা এবং দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের বাতিঘর।

শিক্ষক বাতায়নের (https://www.teachers.gov.bd) ব্যবহার করে যে কেউ সহজে শিক্ষক বাতায়নে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট ডাউনলোড করতে পারেন। তবে, কোন বিষয় আপলোড করতে চাইলে কিংবা ব্লগে মতামত বা পরামর্শ দিতে চাইলে তাকে অবশ্যই বাতায়নের সদস্য হতে হবে। নিজস্ব ইমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে শিক্ষক বাতায়নের সদস্য হতে হয়।

বর্তমানে শিক্ষক বাতায়নের সদস্য সংখ্য দুই লাখ ৬৬ হাজার ৯শ বাহাত্তর জন, মোট কনটেন্ট সংখ্যাএক লাখ ২৫ হাজার ৯শ ৭২টি, মডেল কনটেন্ট সংখ্যানয়শ ৪৪টি এবং ব্লগ সংখ্যা৭১০১৪টি। প্রতিদিন এ সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লেখক : প্রধান শিক্ষক, পদুয়া সম্মিলনী বালিকা

উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

x