সঙ্গীততীর্থ’র অন্তর মম বিকশিত করো

সনেট দেব

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
13

ঘড়ির কাঁটা ঠিক সাতটা। মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা। হঠাৎ তবলার বোল, হারমোনিয়াম ও কিবোর্ডএর মিলিত সুর। সাথে যুক্ত হলো বেহলার সুর ছন্দ। সমবেত কণ্ঠে শুরু হলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তর তর হে’ গানটি। গানের সাথে সাথে মিলনায়তনে পর্দা খুলতে লাগলো। বলছিলাম সঙ্গীততীর্থ আয়োজিত ‘অন্তর মম বিকশিত করো’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানের কথা। গত ৬ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে বসে সঙ্গীততীর্থ’র এক যুগপূর্তি অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথের গানের ও কথামালা দিয়ে সাজানো আয়োজনের পাশাপাশি ছিলো কলকাতা থেকে আগত শিল্পী সোমা চৌধুরী সঙ্গীত পরিবেশনা।

মুজাহিদুল ইসলাম ও শ্রাবণী দাশগুপ্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের সচিব এড. প্রতীক কুমার দেব। আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রীতা দত্ত। আয়োজনে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর এ বি এম আবু নোমান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুকান্ত ভট্টাচার্য। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

কথামালার ফাঁকে ছিলো ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। এক পাশে চলতে থাকে কথামালা, ঠিক মঞ্চের অন্যপাশে সঙ্গীততীর্থের শিক্ষার্থী পূর্ণতা বিশ্বাসের তুলির আঁচড়। সাদা ক্যানভাসে কালো রঙের তুলির আচড়ে অংকন করেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি। হল ভর্তি দর্শক মুগ্ধতার সাথে দর্শন করেন পুরো মুহুর্ত্বটা।

অনুষ্ঠানের পর্দা উঠে সঙ্গীততীর্থ’র শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘অন্তর মম বিকশিত করো’ গান দিয়ে। সঙ্গীততীর্থ’র পরিচালক শিল্পী শান্তা গুহের সঙ্গীত পরিচালনায় শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে আরো পরিবেশন করেন ‘আমরা নূতন যৌবনের দূত’, ‘আপনি অবশ হলি’, ‘ওরে ওরে আমার মন মেতেছে’, ‘মন জাগো মঙ্গল’, ‘এবার তোর মরা গাঙে’, ‘চিরবন্ধু চিরনির্ভর’, ‘নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুন’ ও ‘আজি শুভ দিনে’ গানগুলো।

সমবেত সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন, অস্মিতা তালুকদার, প্রিয়ন্তি মোহরের, অবন্তিকা মহাজন, অঙ্কিতা মুহুরী, ঋত্বিকা দাশ, অংকিতা চৌধুরী, উপমা বড়ুয়া, অনিন্দিতা সিকদার, প্রাপ্তি বড়ুয়া, নুসরাত জাহান খান, দেবশ্রী ভট্টাচার্য্য, তাসনিয়া আইউব, অহনা বড়ুয়া, প্রিয়ন্তি বিশ্বাস, শাওন দত্ত, প্রেরনা ধর, অর্পিতা ধর, সায়ন্তিকা পারিয়াল, দেবারতি ভৌমিক, প্রজ্ঞা পারমিতা, পুনম বৈদ্য, পিয়াল দাশ, ঐন্দ্রিলা চৌধুরী, পারমিতা বণিক, মমশ্রী সরকার, বৃষ্টি চৌধুরী, ইমা মজুমদার, পূজা ধর, ফেন্সী দত্ত, পূর্ণতা বিশ্বাস, অনন্যা বড়ুয়া, সেঁজুতি শ্রেয়া, হ্যাপি দে, মনিষা রায়, জ্যোতি অতন্দ্রিলা, সুস্মিতা দত্ত, ঝুম্পা বড়ুয়া, বাঁধন মহাজন, সৌরেন চক্রবর্ত্তী, প্রতুল দেব, নারায়ণ দে, দেবযাণী দে, দেবীরুপা দত্ত, পুষ্পিতা সাহা ও প্রিয়ম কৃষ্ণ দে।

আয়োজনে একক গান করেন দশজন শিল্পী। এতে বাঁধন মহাজন ‘আমার নাইবা হল’, তাসনিয়া আইয়ুব ‘এ বেলা ডাক পড়েছে’, হ্যাপি দে ‘এখনো তারে চোখে দেখিনি’, অনন্যা বড়ুয়া ‘আজি প্রণমি তোমারে’, প্রিয়ম কৃষ্ণ দে ‘দাও হে হৃদয় ভরে দাও’, পারমিতা বণিক ‘আজি বিজন ঘরে’, পূজা ধর ‘প্রতিদিন আমি হে জীবন স্বামী’, ঐন্দ্রিলা চৌধুরী ‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’, ফেন্সী দত্ত ‘তোমায় নতুন করে পাব বলে’ ও সেঁজুতি শ্রেয়া ‘গান আমার যায় ভেসে যায়’ গানগুলো গেয়ে শুনান।

অতিথি শিল্পী হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কোলকাতা থেকে আগত শিল্পী সোমা চৌধুরী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আনন্দধারা বহিছে ভূবনে’ ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ ও ‘আজ জ্যোৎস্না রাতে’ গানগুলো গেয়ে শোনান। আয়োজনে শিল্পীদের তবলায় সৌমেনজিৎ চক্রবর্তী ও অনিক সেনগুপ্ত, কিবোর্ডে নিখিলেশ বড়ুয়া, বেহালায় শ্যামল দাশ এবং পারকিউশনে ফারুক হোসেন সহযোগিতা করেন।

x