সম্মান দিবে প্রতিটি ভাল কাজের

ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন

শনিবার , ৭ এপ্রিল, ২০১৮ at ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
125

আমরা অনেকেই স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখাটা খুব জরুরি। অনেকেই স্বপ্ন দেখে। বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা করে না। আবার কেউ কেউ সারাটা জীবন শুধু স্বপ্নই দেখে চলে। আমার ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলি। আমার এক শিক্ষক ছিলেন। নাম এম.. মালেক। মধুময় কণ্ঠ। ইয়া লম্বা। অনেক সুন্দর। পাহাতের আঙ্গুলগুলো দেখতে অসাধারণ। শরীর থেকে সব সময় এক ধরনের ঘ্রাণ পেতাম। মিষ্টি জর্দ্দার পান মুখে। জর্দ্দার ঘ্রাণে চারদিক মৌ মৌ করত। সেই প্রিয় শিক্ষককে দেখে ছোটবেলায় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। আবার কলেজ জীবনে এসে ২ জন ম্যাডাম। যাদের আচরণ, পোশাক, ভদ্রতা আমাকে এতটা আকৃষ্ট করেছে যে, আমি আবারও শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুনলাম। আবার একজনকে দেখে এতটা মুগ্ধ হয়েছি যে, তিনি যে বিষয়ে অনার্স করেছেন তা করবার পরিকল্পনা গ্রহণ করলাম।

ছেলেবেলার সেই পরিকল্পনায় আজ আমি শিক্ষক। পরিকল্পনা শুধু করলে হবে না। তার বাস্তবরূপ দেয়ার মানসিকতা থাকাটাও জরুরি। আজকাল ছেলে মেয়েরা কাউকে অনুসরণ করে না। কাউকে ছায়া হিসাবে দেখে না। কোন বিখ্যাত ব্যক্তির আদর্শউদ্দেশ্য, শ্রম, সাধনাকে অনুসরণ করে না। দিনে দিনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিছু ক্ষেত্রে আবার কয়েকদিন হেঁটে আবার নতুন কিছু খোঁজে। আবার টার্গেট পরিবর্তন করে। এভাবে পরিবর্তনের মধ্যে একদিন জীবনের সব গতি শেষ। ছাত্রজীবনে শক্তি সামথ্যের কারণে না বাবামা, না শিক্ষক, বড়দের কোন সম্মান করেন না। অপরদিকে কোন আদর্শকে আর্দশ মনে করে না। কেস স্টাডির মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই

কেস স্টাডি

বাবু। একজন রসায়নের ছাত্র। সে ছাত্রজীবন শেষ করার পর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়। তার সাথে চাকরি নেয় শহীদ নামে লোক প্রসাশনের তার আরেক বন্ধু। বাবু শহীদ হতে ভাল ছাত্র। নিজেকে সব সময় জাহির করার কাজে ব্যস্ত থাকত। কাউকে তার কাছে ভাল মানুষ মনে হত না। শহীদ বাসায় গিয়ে কয়েকজন ছাত্র পড়াত। একদিন খাওয়ার টেবিলে বসে শহীদকে বাবু বলছে ভাইআমি মানুষের বাসায় গিয়ে দরজায় টোকা দিয়ে ছাত্র প্রাইভেট পড়াতে চাই না। এটি ভয়ংকর মনে হয়। শহীদ খুব মনে ব্যথা পেল। দুঃখে মনটা ছোট করে ফেলল। কিন্তু কোন আওয়াজ করল না। শহীদ মন ছোট করে কথাটা মনে ধারণ করতে চাইল।

একদিন সত্যি সত্যি বাবু সরকারি চাকরি পেল। শহীদ আগের মতই। তবে মনটা ছোট। কয়েক বছর চলতে থাকল। বাবু সরকারি কলেজের শিক্ষক। শহীদের খবর নাই। হঠাৎ কোথায় চলে গেল। বহু বছর পর। খবর পাওয়া গেল শহীদ আমেরিকায়। অনেক টাকার মালিক। ভাল চাকরি করছে। শহীদ তার বন্ধু হারুনকে ফোন করে জানতে চাইল বাবুর কোন খবর কি? হারুন বলল সে আমার বাসায় আছে। কথা বলবে? শহীদ জানতে চাইল তোমার বাসায় বাবু কি করে? হারুন বলল আমার ছেলেকে পড়াচ্ছে। শহীদ জানতে চায় তোমার ছেলে কোন ক্লাসে পড়ে। হারুন বলে ক্লাস সিক্স। তো সে সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে পড়ায়? হারুন বলল কেন তাতে কি?

একদিন শহীদকে বাবু কটা করে বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি প্রথম হারুনকে জানাল। হারুন ফোন দিলেই বাবুকে শহীদ বলে তুমি সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়ে এখনও মানুষের বাসার দরজা টোকা দিয়ে প্রাইভেট পড়াতে হচ্ছে? তাও রসায়নের শিক্ষক তুমি। তোমার কলেজের কোন ছাত্র কি তোমার কাছে পড়ে না? ফোনে বলল। এখন যে বাসায় তুমি পড়াচ্ছ সে বাসার দরজা কি সব সময় খোলা থাকে? এই দরজায় কি নাড়াতে হয় না? সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়ে তুমি কিভাবে হাই স্কুলের ছাত্র পড়াচ্ছ। বাবু নিরব। বলে নিয়তি।

শিক্ষা : আমরা কারো বৈধ কর্মকে কখনও যেন ছোটভাবে মূল্যায়ন না করি। কারো অন্তরে গেঁথে যায় এমন বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকি। কারণ একটি ছোট্ট কটু বাক্য মানুষের অন্তরকে নষ্ট করে দিতে পারে। একটি ভাল বাক্য, ভাল কথা অনেক দামি। তার চেয়েও দামি বিবেক।

x