সময়, ইতিহাস ও বাঙালি জাতিসত্তার নির্মোহ চিত্রায়ন

নাসের রহমানের গল্প

মুহাম্মদ মহিউদ্দিন

শুক্রবার , ৪ মে, ২০১৮ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
26

আজকাল আমাদের সমাজে যখন মানুষের মধ্যে বই পাঠে অনাগ্রহ বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা গাইড বা নোটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে তখন আমি এমন একটি বই নিয়ে আলোচনা করছি যেটি পড়ুয়া ব্যক্তি ছাড়াও যারা কদাচিৎ গল্পের বই নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টান তাদেরকেও টেনে নিয়ে যাবে শেষ অবধি। বইটি সম্পর্কে আলোচনার আগে বর্তমান সময়ের দিকে একটিবার দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে। যুগের সাথে মানুষ ক্রমশ যান্ত্রিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। আকাশসংস্কৃতির নানান বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আমাদের মূল্যবান সময় হরণ করছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে ফেসবুকের প্রতি আমাদের অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারপরও অবসর পেলেই আমরা গল্প শুনতে অথবা গল্প পড়তে ভালোবাসি। আবার অনেকে শুধু গল্পপাঠের জন্যই ব্যস্ততম সময় থেকেও একটু ফুরসত নেন। সেরকম নেশাগ্রস্ত হয়ে পাঠের মতো, একটি গল্পগ্রন্থ কথাশিল্পী নাসের রহমানের ‘নির্বাচিত গল্প।’

মানুষ কতভাবেই না গল্প বলে! প্রতিটি মানুষের গল্প, গল্প বলার ধরণ, উপজীব্য বিষয় আলাদা। জীবনের বিচিত্র গল্পগুলো কেন জানি গ্রন্থিহীন মালার মতো। একটির সঙ্গে অন্যটি মেলে না। তারপরও এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো প্রায় প্রত্যেক গল্পকারের সাফল্যব্যর্থতা, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং জীবন থেকে নেয়া ঘটনা। গল্প আর জীবনের মধ্যে কোন দূরত্ব নেই। গল্পকার যে গল্পের ইমারত গড়ে তোলেন তা মানুষের জীবনেরই গল্প। মানুষের হাসিকান্না, সুখদুঃখেরই গল্প। যে লেখকের জীবন থেকে নেয়া অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার যত বেশি তিনি তত বেশি শক্তিশালী লেখক বা গল্পকার। কথাশিল্পী নাসের রহমানের গল্পপাঠেণ্ড মনে হয়েছে তিনি প্রতিটি গল্প লিখতে বলার আগে ঐ বিষয়ে খুটিনাটি জেনেই হাতে কলম তুলে নিয়েছেন। এবং তার লেখনিতে সাধারণের চোখে এড়িয়ে যাওয়া অনেক বিষয়ও কেমন অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিমূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের লেখকরা তাদের লেখনিতে কোনভাবেই ভাষাআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিতে পারে না। ঠিক তেমনি নাসের রহমানের গল্পেও বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাসকে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতে বার বার এসেছে আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। ‘নির্বাচিত গল্প’ গ্রন্থের প্রথম গল্প ‘ছড়াও ফুলের বন্যা’র উপজীব্য বিষয় ভাষা আন্দোলন। গল্পের শুরু ‘শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে পলাশ খানিক নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে’। এই বাক্যটিতেই একজন বিজ্ঞ গল্পকারের পরিচয় মেলে। গল্পকার এর পক্ষে একটি গল্প শেষ করা যত সহজ গল্পের প্রথম বাক্যটি লিখা ততই কঠিন। একটি গল্পের শুরুই পাঠককে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে প্রণোদনা যোগাবে। সে বিচারে গল্পকার নাসের রহমানের ‘ছড়াও ফুলের বন্যা’ গল্পের শুরু সত্যিই অনন্য। গল্পের প্রধান চরিত্র পলাশ তার মেয়েকে শহীদ মিনারে নিয়ে আমাদের মাতৃভাষার জন্য শহীদ সালাম, রফিক, জব্বারের গল্প করছে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে মায়ের মুখের ভাষায় কথা বলছি। ‘ছড়াও ফুলের বন্যা’ গল্পে গল্পকার নাসের রহমান শুধু ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেননি বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মন ও মননে লালনের দায়ভারও তুলে দিতে চেয়েছেন।

আবার ‘শব্দের চোখে জল’ গল্পে বায়ান্নএকাত্তরে যারা আমাদের সত্তাকে মুছে দিতে চেয়েছিল তাদের প্রতি চরম ঘৃণা দেখতে পাই। ‘বাংলা ভাষা আর বাঙালি সংস্কৃতিতে যারা বিশ্বাসী নয় তারা আজ ভাষা সৈনিক। ভ্রান্ত আর বিতর্কিত ইতিহাস আগামীদের বিভ্রান্তি ক্রমশ বাড়িয়ে তুলবে’ণ্ড পৃষ্ঠা ১৮৩।

কুজনের নিঃশব্দ প্রয়াণ’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানী হায়েনাদের নির্মম খুনের দৃশ্য চিত্রায়ন লোম খাড়া হয়ে যায়। গল্পকার নাসের রহমান সুন্দর সাবলীল ভাষায় যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে পাঠক নিজের চোখেই যেন দেখতে পান ‘শ্রীকান্ত! উয়হেতু মালাউন হে। মুহূর্ত বিলম্ব না করে তৃতীয় সৈনিক নল উদ্যত করে পরপর তিনটি বুলেট বিদ্ধ করে সুবাসের বুকে’ণ্ড পৃষ্ঠা ১৯২। সুবাসের গগণবিদারী চিৎকার বিকট বজ্রপাতকেও হার মানায়। লাল রক্তে প্লাবিত হয় মাতৃভূমি। আকাশের সাদা মেঘ লাল হয়ে যায়।

মানুষের জীবনের খণ্ড খণ্ড চিত্রকে একের পর এক বিনি সুতোর মালায় গেঁথে গল্প তৈরি করে নাসের রহমান। মানুষের সাথে প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে যে চিত্রকল্প তিনি তৈরি করেন তা কখনো কখনো পাঠককে নিয়ে যেতে পারে রবার্ট ব্রাউনিং অথবা ওয়ার্ডস ওয়ার্থের কাছে। প্রকৃতির ছন্দেই যেন গল্পগুলো কাব্যমঞ্জুরীর বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। ‘যুথিকার জুঁই’ গল্পে যখন প্রকৃতির বর্ণনা উঠে আসে এভাবে ‘পাহাড়ের বুক দিয়ে রাস্তা কখনো ঢালু পথে কখনো তলির পথে ঢেউ খেলিয়ে যায়’ণ্ডতখনি পাঠকের মানসপটে ভেসে উঠতে পারে এমিলি ব্রণ্টির ‘উইদারিং হাইটসের’ সেই চারিত্রিক প্রকৃতি যা উপন্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। নাসের রহমানের গল্পে প্রাকৃতিক প্রেমের খোঁজ মেলে যখন আমরা দেখতে পাই ‘যুথিকার জুই’ গল্পে শিহাব প্রেমের টানেই ন্যাইচিং এর পিছু নেয়। দিনের পর দিন যাওয়াআসায় ভালোবাসা তৈরি হয়। ‘পাখির আর্তনাদ’ গল্পে হঠাৎ দেখা সানিইমনের ভালোবাসার মিথস্ক্রিয়ার সাথে মুক্তিযুদ্ধের চরম সত্যও যেন একাকার হয়ে যায়।

ক্লান্তপথিক’ গল্পে যুদ্ধের সময় দেশত্যাগী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় ফজু। ফজু গ্রামের একজন সহজসরল মানুষ যে জীবনে কখনো শহর অথবা শহরের মানুষও দেখেনি। শহুরে মেয়েদের ববকাট চুল, পরনের জামা কেমন অদ্ভূত মনে হয়। তারপরও গ্রামের মানুষ যে অতিথিপরায়ন, পরার্থে নিজেকে উৎসর্গ করে দেয় তার সাক্ষ্য রেখেছে ‘ক্লান্ত পথিক’ গল্পের ফজু।

কথাশিল্পী নাসের রহমানের ‘পক্ষপাত’ গল্পটি দাঁড়িয়েছে একজন জীবন যুদ্ধের অকুতোভয় সংগ্রামী নারী ‘সাথী’র জীবনালেখ্য নিয়ে। গল্পে সাথীর চাকরির ধরন থেকে জানা যায় তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। সাধারণ মানুষের ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নানান কাজ তাকে দেখভাল করতে হয়। লাইনে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। সাথীর দু’হাত থামানোর কোন সুযোগ নেই। তিনমাসের বাচ্চা বাড়িতে রেখে একজন মা কিভাবে পেটের তাগিদে অনিচ্ছা সত্ত্বেও চাকরিতে আটকে থাকে তা জানা যায় গল্পেণ্ড‘ধীরে ধীরে ব্লাউজ ভিজতে থাকে। তখন খুব খারাপ লাগে সাথীর। মার বুকে দুধ থেকেও সন্তান খেতে পারবে না। একেমন অবিচার! কী করবে সে বুঝতে পারে না।’

গল্পের শেষে সাথীর চাকরিতে থাকা না থাকা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত মন পাঠককেও ভাবিয়ে তোলে। নিষ্পাপ শিশুটি অলক্ষে যেন মা মা বলে চিৎকার করছে।

সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে এসেই হঠাৎ দেখা হয়ে যায় কলেজ জীবনের প্রেমিকার। এ ধরনের রোমাঞ্চকর ব্যাপার অনেকের জীবনেই ঘটতে পারে। কিন্তু গল্পকার নাসের রহমানের গল্প ‘আনন্দ মেঘ’ এ দু’জন প্রাক্তন প্রেমিকপ্রেমিকার এভাবে দেখা হয়ে যাওয়া দু’জনকেই কিভাবে স্মৃতির অতল গভীরে নিয়ে গেছে তা সত্যিই উপভোগ্য। পৃথিবী গোল বলেই হয়তো যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও এক সময়ের একেবারে কাছের মানুষটির সাথে যেকোন সময় যেকোন স্থানে দেখা হয়ে যেতে পারে। মানুষ ক্ষুদ্র জীবনের সেই স্বপ্নিল জীবনে মুহূর্তেই ফিরে যায়। যেখানে নির্দিষ্ট কোন সীমাপরিসীমা থাকে না।

বৃষ্টিভেজা রোদ’ গল্পে একই অফিসে পাশাপাশি ডেস্কে বসে কাজ করা দু’জন তরুণতরুণীর কথোপকথন, জীবনাচারের মিথস্ক্রিয়া যেন আমাদের সমাজের অফিস পাড়ারই একটি নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র। অফিসের কাজে আমরা যতটাই যান্ত্রিক হই না কেন, আমাদের প্রত্যেকেরই একটি আলাদা মন আছে, ভাবাবেগ আছে এবং আছে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ত্যাগের চিত্র। পাশাপাশি চলতে চলতে কতো অচেনা মানুষও চিরদিনের চেনাজানা হয়ে পড়ে।

কথাশিল্পী নাসের রহমানের ‘অপরিচিত একজন’ গল্পটি আকারে ছোট হলেও খুব সহজেই পাঠকের মনে দাগ কাটবে। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই প্রেম আসে, ভালোবাসা দোলা দেয় বা একাধিকবার। কিন্তু প্রথম প্রেমের স্পন্দন বাকি জীবন বয়ে বেড়ায় মানুষ। চলার পথে সময়েঅসময়ে অতীত ভালোবাসার এবং ভালোবাসার দু:সুখের স্মৃতিগুলো মানুষের মনে দোলা দেয়। কখন হোচট খায় প্রেমিকপ্রেমিকা, যখন দীর্ঘ সময় পর তারা পুনরায় মুখোমুখি হয়। ‘অপরিচিত একজন’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নিশির সাথে তার ভালোবাসার মানুষটির হঠাৎ দেখা হয়ে যায় একটি সিনেমা হলে। নিশি তার স্বামীর সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এ সময় তার প্রাক্তন প্রেমিক যে কিনা তার স্বামীর কাছে অপরিচিত হঠাৎ করে পেছন থেকে নিশির হাত ধরে। স্বামী কর্তব্যবিমূঢ় হয়ে লোকটিকে ধাক্কা মারে। তারপর সাধারণ জনতা এসেও লোকটিকে উত্তমমধ্যম দেয়। নিশি মুখ খুলে কিছু বলতে পারে না। স্বামীকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। নিশির চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়। স্বামীর অতি জিজ্ঞাসায় নিশি বলতে বাধ্য হয় তারা দু’জন দু’জনকে ভালোবাসতো। তারপরের গল্পটি জানার তীব্র আগ্রহ পাঠকের মনে অনুরণন জাগায়।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসটি বগুড়ার যে এলাকার পটভূমিতে লিখেছেন সে কাতলাহার বিল এলাকায় বছরের পর বছর ঘুরেছেন, সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন সচক্ষে দেখেছেন। ঠিক তেমনি নাসের রহমানের অধিকাংশ গল্পে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থান, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী বিভিন্ন গোষ্ঠীর যাপিতজীবন, বেঁচেথাকার লড়াই, আনন্দবেদনার চিত্র সজীব হয়ে ফুটে উঠেছে। তাঁর গল্পের পরতে পরতে উঠে এসেছে সময়, ইতিহাস এবং জাতিসত্তার নির্মোহ চিত্র।

বাংলা সাহিত্যের গর্ব ‘ছোটগল্প’। এর মাধ্যমে লেখক মানব জীবনের সেই অংশ তুলে ধরেন যা শ্বাশত জীবন আর মানবতা বোধের মূর্ত কিংবা বিমূর্ত ছবি। নাসের রহমানের ছোটগল্পের বিচরণ বহুমাত্রিক। তাঁর ছোটগল্পে কোন জটিল তাত্ত্বিক কথা নেই। ঘটনার অতিরঞ্জিত বর্ণনা নেই এবং নেই কোন উপদেশবাণী। ছোটগল্প লেখার ক্ষেত্রে লেখকের জন্য যে কয়টি জিনিস সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সুতীক্ষ্ব অবলোকন, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা ক্ষতার সবকটিই রয়েছে নাসের রহমানের। ভাষার উপরও তার যথেষ্ট ও সন্তোষজনক দক্ষতা রয়েছে।

নাসের রহমানের ‘নির্বাচিত গল্প’ গ্রন্থে পঞ্চাশটি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্প নিয়েই আলাদা করে আলোচনার যথেষ্ট রসদ রয়েছে।

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলতে যার দিনের বেশিরভাগ সময়ই নিরস অর্থনীতির হিসেবনিকেষ করতে চলে যায় তিনি নিয়মিত শিল্পসাহিত্যের চর্চা করেন বেতারটেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করেন, এটা সত্যিই বিস্ময়কর এবং প্রশংসনীয়।

সম্প্রতি ২০১৭ সালে কথাসাহিত্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কথাশিল্পী নাসের রহমান। এ অর্জন তাঁর শিল্পসাহিত্য চর্চাকে আরও প্রেরণা যোগাবে এবং বাংলা ভাষার গল্পের পাঠকরা নতুন নতুন বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর ভিন্ন রসায়নের গল্প পাবে যা বাংলা সাহিত্যের গল্পজগতকে সমৃদ্ধ করবে। নাসের রহমানের ‘নির্বাচিত গল্প’ গ্রন্থটি ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বইমেলায় প্রকাশ করেছে জিয়া প্রকাশনী। মূল্য ৭০০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন অস্ট্রিক আর্যু। আমি গ্রন্থটির ব্যাপক প্রচার এবং পঠন কামনা করছি।

x