সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস মুশফিকের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ
16

শেরবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ দুই টেস্টে বাংলাদেশের দুটি ভালো স্মৃতি আছে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানোর অনির্বচনীয় স্বাদ পেয়েছিল মুশফিকুর রহিমের দল। মুশফিক এখন নেতৃত্বে নেই। তবে তার বিশ্বাস, মিরপুরে বাংলাদেশের জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার মিরপুরে শুরু হবে দ্বিতীয় শেষ টেস্ট। মুশফিক মনে করেন, সেই ম্যাচের রসদ চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে পেয়েছেন তারা। ‘চট্টগ্রামের শেষ টেস্ট থেকে আমরা অনেক ইতিবাচক দিক নিয়ে আসতে পেরেছি। অতীতে আমরা এমন জায়গা থেকে বেশ কিছু টেস্ট হেরেছি। এটা আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি, আমরা টেস্ট ম্যাচটি ড্র করেছি। এটা আমাদের খুবই দরকার ছিল।” ‘সেখানে লিটন দাস ও মোমিনুল হকের (দ্বিতীয় ইনিংসের) জুটিটা অসাধারণ ছিল। আমরা হয়তো খুব বেশি ভালো বোলিং করতে পারিনি। বোলাররা ওদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে।ৃ সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে দারুণ টেস্ট হয়েছে। আমরা মুখিয়ে আছি ঢাকায় ভালো করার জন্য। আমাদের দারুণ সুযোগ আছে ১০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে নেওয়ার।’ ঢাকায় আগের দুই টেস্টেই বাংলাদেশ জিতেছিল টার্নিং উইকেটে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও এমন উইকেটের ব্যাপারে বলেন ‘এই মুহূর্তে টিম ম্যানেজম্যান্টের খুব কাছে আমি নেই। তেমন উইকেট পেলে আমাদের সামর্থ্য আছে ভালো কিছু করার। যা কিনা শেষ টেস্টের শেষ ইনিংসে করে দেখিয়েছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। অবশ্যই এটা আমাদের একটা আত্মবিশ্বাস দেবে।’ চট্টগ্রামে প্রায় দুইশ ওভার বোলিং করে শ্রীলঙ্কার ৯ উইকেট নেয় স্বাগতিকরা। স্পিনারদের বোলিং নিয়ে অসন্তোষের কথা জানান স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশী। তবে মুশফিক দাঁড়িয়েছেন সতীর্থদের পাশে। ‘চট্টগ্রামে বোলারদের জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা ছিল না। সেখানে আগের দুই টেস্টে যেমন সুবিধা পেয়েছিল, এবার তা পায়নি ক্রিকেটাররা। মিরপুরের উইকেট হয়তো অন্যরকম হতেও পারে। আমাদের পুরো বিশ্বাস আছে বোলারদের উপর। আমি মনে করি, ঢাকা টেস্টের আগে আমরা ভালো একটা অবস্থানে আছি ব্যাটিং, বোলিং ইউনিট নিয়ে।’

চট্টগ্রামে শ্রীলংকার সিঙ্গেলগুলো ঠেকাতে প্রাণপণে চেষ্টা করেছেন মাহমুদউল্লাহ। একটি নির্দিষ্ট ফিল্ডিং না সাজিয়ে পরিবর্তন এনেছেন বারবার। ফিল্ডিং পরিবর্তনের দিকে তাই সব সময় চোখ রাখতে হয়েছে অতিথি ব্যাটসম্যানদের। চট্টগ্রাম টেস্টে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর এই কৌশল মনে ধরেছে মুশফিকুর রহিমের। ‘আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আর এমন কিছু সিদ্ধান্ত ছিল, যা (মাহমুদউল্লাহ) রিয়াদ ভাই সব সময়ই নেন। ঘরোয়া পর্যায়ে, বিপিএলেও তিনি খুব ভালো অধিনায়কত্ব করেছেন।’ মুশফিক মনে করেন, নেতৃত্ব থাকলে সব সময় বের হয়ে আসে তার সেরাটা। ‘উনি অধিনায়ক থাকলে পারফরম্যান্সটাও অন্য রকম হয়। যা তিনি বিশ্বাস করেন তাই বলেন। এইটা আমাকেও অনুপ্রাণিত করেছে। পুরো দলই তার অধীনে খেলার জন্য অপেক্ষা করছে।’

এখন আর টেস্ট দলের নেতৃত্বে নেই তিনি। দাঁড়াতে হচ্ছে না উইকেটে পিছনেও। খেলছেন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। নিজের নতুন ভূমিকা উপভোগ করছেন মুশফিক। ‘অধিনায়ক হলে দলে অটোমেটিক চয়েজে থাকা যায়। সেখানে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে অবশ্যই পারফরম্যান্স করতে হবে। গত টেস্টে আমি চেষ্টা করেছি আমার দলকে সেরাটা দিতে। দ্বিতীয় ইনিংসে আনলাকি বলব। সামনের ম্যাচে চেষ্টা করব আরও বেশি রান করার।’

আগে দায়িত্ব ছিল কয়েকটা এখন একটা। অধিনায়ক থেকে কিপিং করেও অনেক সময় রান পেয়েছি, আবার অনেক সময় শূন্য রানে আউট হয়েছি। আবার একটি দায়িত্বে থেকেও তেমন কিছু করতে পারিনি। যখন যে পরিস্থিতি আসবে, তার মুখোমুখি হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি সেটাই এখন চেষ্টা করছি। আমার ভালোই লাগছে। আমি খুব উপভোগ করছি।’ কিপিং করতে আঙুলে কিছু স্থায়ী চোট সঙ্গী হয়েছে মুশফিকের। সেই সব চোট কখনও পুরিপুরি সেরে উঠবে না। স্লিপে দাঁড়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুরানো সেই চোটগুলোই। ‘আমার হাতের দশ আঙুলের দুইতিনটাতে চিড় আছে। তাই আমার জন্য স্লিপে দাঁড়ানো খুবই কঠিন। আত্মবিশ্বাস না থাকলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়।’ এর আগে কিছু দিন সিলি পয়েন্টে ফিল্ডিংয়ের জন্য অনুশীলন করেছিলেন মুশফিক। তবে ক্যাচিং পজিশনে দাঁড়ান না তিনি। ফিল্ডিং করেন মিড অন বা মিড অফে। চট্টগ্রাম টেস্টে স্লিপে ইমরুল কায়েস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যর্থতার পর হ্মিপে অন্য কাউকে নিয়ে চেষ্টা করতে পারে বাংলাদেশ। মুশফিকের কথা মিলল তার আভাস। ‘আমাদের বিশেষজ্ঞ স্লিপ ফিল্ডার নেই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এটাও আমাদের মাথায় আছে।’ ‘আমি সব সময়ই কিপিং উপভোগ করি। কিপিং করলে পিছন থেকে সব কিছু বোঝা যায়। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং না করলে, আগেই উইকেট বোঝা যায়। সে দিক থেকে বলবো হ্যাঁ, একটু নতুনত্ব আছে। আমি এটা নিয়ে খুশি।’ ‘লিটন ব্যাটিং ভালো করছে। কিপিংও ভালো হচ্ছে। আমি মনে করি, সামনের আট দশ বছর ও বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিবে।’

x