সীতাকুণ্ডের কৃষকরা ‘পুদিনা পাতা’ চাষে ব্যস্ত

রমজানে বেশি লাভের আশা

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

মঙ্গলবার , ১৫ মে, ২০১৮ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
45

সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে পুদিনার চাষে ব্যস্ত কৃষকরা। বাড়ির পাশে খালি জমি, উঠানে, পাহাড়ের ঢালুতেও পুদিনা চাষ করা হচ্ছে। আসন্ন রমজানে বেশি দামে বিক্রির আশায় এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও। রমজান মাসে রোজাদারদের ইফতার সামগ্রীর স্বাদ বাড়াতে পুদিনার বিশেষ চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের। এছাড়া স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১০হেক্টর জমিতে দেড়’শ কৃষক পুদিনা চাষ করেন। উপজেলার ভাটিয়ারী, কুমিরা, ছলিমপুর ও সোনাইছড়ি এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এবং পাহাড়ের ঢালু জায়গায় এই পুদিনার চাষ হয়।

সরেজমিনে মধ্যম সোনাইছড়ি, কেশবপুর, বাজার পাড়া, ইমাননগর, পূর্ব হাসনাবাদ, জাহানারাবাদ, অলিনগর ও উত্তর সলিমপুর এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাহাড় সংলগ্ন বেলেদোঁআশ মাটির জমিগুলোতে ব্যাপকহারে এই সুগন্ধি পাতার চাষ হচ্ছে। রমজানের আগ মুহুর্তে মোটামুটি চাষাবাদের অবশিষ্ট জায়গাগুলো এখন পুদিনা পাতার কান্ড(ডাল) রোপণ করা হয়েছে। মাটিগুলোকে হালকা উর্বর করে তাতে পুদিনার কান্ড রোপণ করতে হয়। প্রথমদিকে এর খরচ কম লাগে কিন্তু পরবর্তী সময়ে এর পরিচর্যার জন্য ব্যয়টা একটু বেশি পড়ে। এক মাসের মধ্যে কচি পাতা ধরে এবং শাখাপ্রশাখা বৃদ্ধি পেয়ে রোজার আগেই বিক্রির উপযুক্ত করা হবে।ভাটিয়ারীর খাদেমপাড়া এলাকার ফরিদুল আলমের ছেলে রিপনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি শীপ ইয়ার্ডে লোহার ব্যবসার পাশাপাশি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে মেধা এবং শ্রম দিয়ে প্রায় ৪০হাজার টাকা খরচ করে ৫০শতক জায়গায় পুদিনার চাষ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি ব্যাপক মুনাফা লাভের আশা করছেন। তার চাষ করা পুদিনার বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় তিন লাখ টাকা হবে বলে জানিয়েছেন।

পুদিনা চাষিরা জানান, পাঁচ গন্ডার একটি জমিতে লাগানো পুদিনা ৫০হাজার টাকার চেয়েও বেশি বিক্রি করা যাবে। তবে ফলনের ওপর নির্ভর করে লাভের হিসাব। আর সে ক্ষেতের পরিচর্যা যত বেশি হয় সেই ক্ষেতের পুদিনা পাতা তত ভালো হয়।

ভাটিয়ারী পূর্ব হাসনাবাদ এলাকার মহিলা কৃষক ইয়াসমিন আক্তার ও বিউটি বেগম জানান, ‘তাদের প্রচুর কষ্ট করতে হচ্ছে এই পুদিনা চাষে। বাজারে বিক্রির উপযুক্ত করতে সুস্থ কচি পাতার জন্য তিনচার দিন পরপর ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। পরিমাণ অনুযায়ী পানি দিতে হয়। তবে খেতে যদি পানি জমে তাহলে পুদিনা পাতা পচে যায়।’

উত্তর সলিমপুরের কৃষক দেলোয়ার হোসেন ও মামুনুর রশীদ জানান, ‘সে ৫একর জমিতে পুদিনা চাষ করেছেন। পুদিনা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বাজারে আসে না। প্রথমে কৃষক স্থানীয় কোনো খরিদ্দারের কাছে পুরো ক্ষেতের পাতা বিক্রি করে দেন। পরে ওই খরিদ্দার বেশি দামে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। পরে তা ছোট ছোট গোছা আকারে বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এ গোছায় এক থেকে পাঁচটি পাতাপূর্ণ কান্ড থাকে, যা তিনচার টাকায় বিক্রি করা হয়।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ সালেহীন জানান, ‘সরকারিভাবে পুদিনা চাষের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। তবে এ চাষে আগ্রহীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে, পরিবারের নারীরা পুদিনা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সীতাকুণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় দেড়’শ চাষী এ চাষ করে থাকেন।’

x