সীতাকুণ্ডে ধ্বংস হচ্ছে উপকূলীয় ঝাউবাগান

সাত বছরে মামলা হয়েছে ১৫৭টি, আসামী ৩২০জন

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড 

বুধবার , ১৬ মে, ২০১৮ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
23

কাঠ পাচারকারীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। কতিপয় কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেও এই ঝাউবাগান রক্ষা করতে পারছে না উপকূলীয় বন বিভাগ। তবে অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকর্মচারীর যোগসাজশে বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় বনাঞ্চল রক্ষার্থে গত সাত বছরে মামলা হয়েছে ১৫৭টি। তার মধ্যে পি..আর মামলা হয়েছে ৮২টি, ইউ.ডি..আর মামলা হয়েছে ৬৮টি এবং সি..আর মামলা হয়েছে ২টি। এছাড়া থানায় এজাহার করা হয়েছে ১০টি। মামলাগুলোতে আসামী করা হয়েছে ৩২০জনকে। তার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬ জনকে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ও সৈয়দপুর ইউয়িনের উপকূলে সরকারি অর্থে সৃজিত ঝাউগাছ কাটার দৃশ্য দেখা গেছে। প্রকাশ্যে এসব গাছ কেটে নিচ্ছে গাছ চোরেরা।

সৈয়দপুর ও বাড়ৈয়াঢালা এলাকার বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে বনাঞ্চলের কাঠ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য বারআউলিয়া থেকে সৈয়দপুর পযর্ন্ত ১৯৯৩ সালে ব্যাপক বনায়ন করা হয়। ইতিমধ্যে গাছগুলো বড়সড় হয়ে উঠে। তবে বর্তমানে দুইতৃতীয়াংশ গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করেন, এসব গাছ কেটে নেওয়ায় বেড়িবাঁধ যেমন বিপন্ন হবে তেমনি এলাকাবাসীও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে মারাত্বক হুমকির মধ্যে পড়বে।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, বন বিভাগের কর্মচারীদের কাউকে কাউকে মাঝে মধ্যে এখানে দেখা গেলেও অধিকাংশ সময়ই তাদের দেখা যায়না। ফলে চোরেরা নির্বিঘ্নে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ গাছের গোড়া থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এসব গাছ কাটতে চোরদের সুবিধাও বেশি হয়।

দেখা গেছে, বাঁশবাড়িয়া বোয়ালিয়াকুল এলাকায় বন বিভাগ কর্তৃক সৃজিত ঝাউ বাগান বড় হওয়ায় পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। এ বিশাল ঝাউবাগান দেখতে দেশিবিদেশি পর্যটকরা প্রায় সময় ভীড় জমাতো। কিন্তু গত দুই বছরের ঝাউ বাগান থেকে গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠান শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য ঝাউ বাগান কেটে সাবাড় করছে। এছাড়া সৈয়দপুর, গুলিয়াখালী, বাঁকখালি, আলেকদিয়া, বগাচতর উপকূলীয় এলাকায় বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জানান, নৌকাকরে জলদস্যূরা রাতের আঁধারে গাছ কেটে পাশ্ববতী সন্দ্বীপসহ অন্যান্যস্থানে নিয়ে যায়। জনবল কম থাকায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা কিছু করতে পারে না।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর বলেন, উপকূলীয় বন বিভাগ ১৯৯৩৯৪ ও ২০০২২০০৩ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কি.মি. এলাকায় ঝাউবাগান সৃজন করে। কিন্তু সৃজিত ঝাউগাছ বড় হওয়ার পর কিছু অসাধু ব্যক্তি গাছগুলো কেটে বিভিন্নস্থানে পাচার করতে থাকে। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে বঙ্গোপসাগরে জোয়ারের সময় ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে এসে চোরেরা গাছ কাটে। ফলে তাদের ধরাও যায় না।

সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী জানান, উপকূলীয় এলাকার বন উজাড়ে বন কর্মকর্তারা জড়িত। বিট কর্মকর্তাদের সাথে বন উজাড়কারীদের সম্পর্ক থাকার কারণেই তারা দেখেও কোন ব্যবস্থা নেয় না। যার ফলে নির্বিঘ্নে বন উজাড় হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, জনবলের অভাবে বনচোরদের আটক করা যাচ্ছেনা। গাছ কাটা বিষয়ে তিনি জানান, উত্তাল ঢেউয়ে অনেক গাছ পড়ে গেছে। স্থানীয়রা এগুলো কেটে নিয়ে যায়।

x