সড়ক দুর্ঘটনা ও মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা প্রসঙ্গে

মঙ্গলবার , ৮ মে, ২০১৮ at ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
16

বাসের চাপায় পড়ে অহরহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। হাতপা বিচ্ছিন্নের ঘটনাও ঘটছে। শুধু তাই নয়, নেশাগ্রস্ত বাস চালক ও হেলপারদের হাতে ধর্ষিত হচ্ছে বাসযাত্রী সাধারণ নারীরা। কোনোভাবে থামানো যাচ্ছে না বাসের অসম প্রতিযোগিতা। যাত্রীবাহী দুইবাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়েছে কলেজ ছাত্র রাজীব। টানা দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সংগে লড়ে অবশেষে মৃত্যুর সংগে আলীঙ্গন করলেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই বেপরোয়া অপর যাত্রী বাসের চাপায় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় গৃহকর্মী রোজিনার পা। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকাল সকাল রাজপথে নেমেছিলেন লালবাগ জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন। ট্রাফিক আইন অমান্য করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি বাস উল্টো পথে চলছিল। বাসটি থামানোর পর পুলিশের সংগে উল্টো তর্কে জড়ান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকর্মচারী, বাস চালক ও হেলপার। এক পর্যায়ে চালক বেপরোয়া হয়ে বাসটি চালাতে থাকেন। এ সময় বাসের চাকায় পিস্ট হয় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেলোয়ারের পা। তিনি এখন মৃত্যুর সংগে লড়ছেন হাসপাতালে। ২০১১ সালে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও ফটোগ্রাফার মিশুক মুনির মানিকগঞ্জে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালে দেশের বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী, সংস্কৃতি সেবী, কবি নাট্যকার, বিজ্ঞজনেরা সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তারা রাস্তায় নামেন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের। কিন্তু সাধারণ মানুষ গাড়ী চাপায় হাত বা পা হারালে এমনকি প্রাণ হারানোর খবরও সমাজের এই উপর তলার ব্যক্তিদের হৃদয় স্পর্শ করে না। সমাজে প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। বছর কয়েক আগে মানিকগঞ্জে ইচ্ছা করে ট্রাক চাপা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে একজন বাস চালকের পক্ষে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে পড়লো পরিবহন শ্রমিক চক্র। তাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী কি সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারেন? বাংলাদেশের মানুষ সেটাও দেখেছে। তারপরও ওই মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী কামবাস মালিক শ্রমিক নেতারা আছেন বহাল তবিয়তে। সারাদেশে জরিপ ও পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে যে নানা কারণে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা যেমন বিপুল তেমনি এসব দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত, নিহত ও পঙ্গু হয়ে পড়া লোকের সংখ্যা হাজার হাজার। জানা যায়, আমাদের দেশে প্রতি বছর ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আহত হন অসংখ্য মানুষ, যাদের পঙ্গু হয়ে শেষ জীবন কাটাতে হয়। মৃতদের উত্তরাধিকারী খুব কমই ক্ষতিপূরণের টাকা পান। অন্যদিকে চালকের বা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সাজাও হয় কম। সড়ক দুর্ঘটনার কার্যকারণ অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনার এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মূলে রয়েছে সংশ্লিষ্টদের অসতর্কতা ও দায়িত্বহীনতা। দুর্ঘটনার বিবিধ কারণ নির্ণয়ের মাধ্যমে বাস্তব সম্মত ব্যবস্থা গৃহীত হলে এত অধিক দুর্ঘটনা হতো না। অবশ্য সড়ক দুর্ঘটনার অনেক গুলো কারণ রয়েছে। বলতে গেলে ঐ কারণগুলো কারো অজানা থাকার কথা নয়। কেবল প্রতিকারের বাস্তব প্রচেষ্টা দরকার।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x