সড়ক মহাসড়কে পরিবহন নৈরাজ্য রুধিবে কে তাহাদের

মুস্তফা নঈম

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ
23

প্রায় প্রতিদিন দেশের কোন না কোন অঞ্চল বা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে দেশের প্রতিটি সড়ক মহাসড়ক। প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে গণপরিবহন বা পরিবহন সেক্টর। কেন এই অবস্থা। অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে চলছে এক ধরনের বিতর্ক। কেউ বলছেন সড়কের বেহাল দশার কারনে দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার কেউ বলছেন পরিবহন সেক্টরের অব্যবস্থাপনার জন্য এমনটি হচ্ছে। যে যাই বলুন সামগ্রিক ভাবে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় চলছে এক নৈরাজ্যের অবস্থা। আর এ কারণে অসংখ্য প্রাণ ঝরছে প্রতিদিনই। নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে বহু পরিবার।

সড়ক দুর্ঘটনার ফলে কেবল প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে তা নয়, ক্ষতি হচ্ছে সহায় সম্পদের, বৈদেশিক মুদ্রায় আনা যানবাহনের। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিবছর দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা দেড় ভাগ নষ্ট হচ্ছে। যার পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ।

সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক মহাসড়কে পরিবহন সেক্টরে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অন্যতম জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং, নিয়ম না মানার প্রবণতা, দক্ষ চালকের অভাব, ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক, একটানা নিদ্রাহীন গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংস্থা বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয় নিয়ে সেমিনার গোল টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে বছরে কত দুর্ঘটনা ঘটলো, কত প্রাণহানি হয়েছে এসব তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। দুর্ঘটনা কারণ, কেন এত দুর্ঘটনা এর প্রতিকার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা, মানুষের প্রাণ ও অঙ্গহানির ঘটনা, দুর্ঘটনা কবলিত পরিবার গুলোর করুণ পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচারের পরও এসব ব্যাপারে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস মালিক, চালক বরাবরের মতো নীরব ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৮৪১ জনের প্রাণহানি ও ৫ হাজার ৪৭৭ জন আহত হয়েছে। পঙ্গু হয়েছে ২৮৮ জন। তারা জানিয়েছে এছাড়া সারা দেশে ৭৯ লক্ষ চালকের মধ্যে বিআরটিএ লাইসেন্স আছে মাত্র ১৬ লক্ষ চালকের হাতে।

তাদের অপর এক তথ্যে বলেছেসারা দেশের রাস্তায় চলাচল করা ৮১ লাখ যানবাহনের মধ্যে ৫০ লাখেরও বেশি অনিবন্ধিত। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ পরিবহনই ফিটনেসবিহীন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেয়া তথ্য যদি সঠিক হয় তাহলে বিষয়টি আতংকের। লাইসেন্স বিহীন চালক ও ফিটনেস বিহীন এই বিপুল সংখ্যক গাড়ী। এসব দেখার কেউ কি নেই। এত বিপুল সংখ্যক লাইসেন্স বিহীন চালকতো ঘরে বসে গাড়ি চালায় না। তারা নিশ্চয় সড়কমহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছে। কীভাবে সম্ভব।

অতিসম্প্রতি ঢাকা ও দেশের বিভিন্নস্থানে সংঘটিত বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি নিয়ে সরকারের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সড়ক ব্যবস্থাপনা নয়, দায়ী হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থাপনা। আবার সরকারেরই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলছেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে অনবরত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। যে ভাবেই হোক নিত্য দিনের এই প্রাণহানি বা প্রাণঘাতীর নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। কেন এমন হচ্ছে, কার দোষে হচ্ছে, প্রতিদিনের দুর্ঘটনার জন্য কোন সংস্থা দায়ী, এইসব বিতর্ক না করে কী ভাবে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানো যায় এখনই তার পথ অনুসন্ধান, পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরি হয়ে পড়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১০ দফা সুপারিশ করেছে সরকারকে। এসবের মধ্যে চালকের হাতে দৈনিক জমাভিত্তিক বাস ইজারা দেওয়া বন্ধ করা, বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জনবান্ধব করা, ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম জবাবদিহিতার আওতায় আনা, আমলাতন্ত্রের বাইরে এসে পেশাদারিত্ব সম্পন্ন গণপরিবহন সার্ভিস অথরিটি গঠন করাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেওয়া এক তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে ছোটবড় ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সর্বমোট ৭ হাজার ৩৯৭ জন। ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৪ হাজার ৩১২টি। যার মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৫ জন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

এদিকে সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর এক জরিপে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৪ জন নিহত হন। প্রতিবছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ২৩ হাজার ১৬৬ জন। তাদের হিসাবে গত ১৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ হাজার মানুষ। আরেকটি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০০১ সাল থেকে চলতি বছর জানুয়ারি পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৬৫ হাজার ৮৬২ জন মানুষ মারা গেছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আমরা কেবল পরিবহন শ্রমিকদের দায়ী করে চলছি। এখানে কি সাধারণ মানুষের কোন দায় নেই? দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী পথচারি সবার দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সাধারণ যাত্রীরা যানবাহনে উঠে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছার জন্য চালকেদের উপর এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করে থাকি। সাধারণ পথচারিরা রাস্তা পারাপারে সাবধানতা অবলম্বন না করা। অনেক সময় মোবাইলে কথা বলতে বলতে

রাস্তা পাড় হওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এধরনের অনেক সমস্যা রয়েছে। দুর্ঘটনার একক ভাবে কোন গোষ্ঠীকে দায়ি না করে জনসচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন ।

১৯৮৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টিকে হত্যা উল্লেখ করে দায়ী চালকদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আইন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে সরকার সে আইন সংশোধন করে। বিদ্যমান আইনে দুর্ঘটনা হলে চালকের এক থেকে তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ আইনটি খুবই দুর্বল এবং যাত্রীবান্ধব নয়। আইনটি যুগোপযোগী করার জন্য ২০০৭ সালে একটি কমিটি করেছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। আইনের একটি খসড়াও তৈরি হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেটি আলোর মুখে দেখেনি।

এদিকে গত রবিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেছেন আগামী বাজেট অধিবেশনে ‘সড়ক পরিবহন আইন’ টি উত্থাপন করা হবে। গত বছর ২৭ মার্চ আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়। আগামী বাজেট অধিবেশনে তোলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এই আইনে বেশ কিছু নতুন নীতিমালা রয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা সড়ক দুর্ঘটনা ও পরিবহন খাতের নৈরাজ্য বন্ধে বিভিন্ন প্রস্তাব রাখলেও তা প্রস্তাব আকারেই থেকে যাচ্ছে।

অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা রয়েছে। তাদের অনেকে সড়কে ক্যামেরা বসানোর কথা বলছেন। তাদের যুক্তি কোন চালক নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালালে তা ধরা পড়বে। নিয়ম ভঙ্গের কারণে মোটা অংকের জরিমানা আদায় করতে হবে এসব গাড়ি চালকদের কাছ থেকে। ক্যামেরা বসানো এবং জরিমানা হলে ৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে তাদের ধারণা।

চট্টগ্রাম নগর পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক মালিক নিজেই বলেছেন নগর পরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা বন্ধের জন্য সর্ব প্রথম দৈনিক ভাড়া ভিত্তিক বাস ভাড়া দেওয়ার সিস্টেম বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন বর্তমান সময়ে চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সারা দেশে লোকাল বাস মালিকরা দৈনিক ভিত্তিতে বাস ভাড়া দিচ্ছেন। এভাবে বাস ভাড়া নিয়ে চালকরা ভাড়ার টাকা ও তেলের খরচ হেল্পারের খরচ এবং তার নিজের লাভ তুলতে গিয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠে। দৈনিক ভিত্তিতে বাস ভাড়ার কারণ হিসেবে এই মালিক বলেন এক সময় দৈনিক বেতন হিসাবে গাড়ি চালাতো চালকরা। চালকরা নিজের মনের মতো গাড়ি চালাতো । এতে মালিকের খরচ উঠতো না। এতে অনেক মালিক ব্যবসা ছেড়ে গেছেন। পরে এক সময় দৈনিক ভাড়ার চুক্তির নিয়ম চালু হয়।

এদিকে সহযোগী এক দৈনিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহনবিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক সড়ক ও পরিবহন খাতে নৈরাজ্য রোধে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। তার প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে, পরিবহন খাতে প্রাতিষ্ঠান কেন্দ্রিক বিনিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের একক কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র পরিবহন বোর্ড বা কর্তৃপক্ষ গঠন (সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন)। রুট পারমিটের ক্ষেত্রে প্রভাবমুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের রাখতে হবে।

তিনি বলেন পরিবহন সেক্টর বা ব্যবসায় ব্যক্তিপর্যায়ের সংখ্যা বেশি । এখানে মালিক শ্রমিকদের নেতার সংখ্যা হাজারহাজার। আর এ কারণে যখনতখন আন্দোলনের সুযোগ তৈরি হয়। অথচ এ খাত যদি কোম্পানির মতো বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে দেওয়া হয় সরকার তাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এখানে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, চট্টগ্রামের পরিবহন মালিকের বক্তব্যটা আমলে নেয়া যায়। গাড়িতে প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি মালিক পক্ষকে বাধ্য করা, বিআরটিএ ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আরো দায়িত্বশীল হওয়া। নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগসহ মহাসড়ক ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব পালনকারি ট্রাফিক সার্জেন্টদের উপর থেকে প্রতিদিনের মামলার কোট প্রত্যাহার করা। এখানে বলে রাখা দরকার ট্রাফিক সার্জেন্টদের উপর মামলার কোট নির্ধারণ করে দেয়ায় তারা নির্ধারিত কোট পূরণের জন্য যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারেন না। বিষয়টি আমলে নেয়া।

এছাড়া পরিবহন শ্রমিক সংগঠন সমূহ যেহেতু ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশনের আওতায়, তাদেরকে শ্রমআইনের কিছু বিধি বিধান মেনে চলতে হয়। এই নিয়ম বা আইনের আওতায় যখন তখন তারা ধর্মঘট বা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিতে পারে না। কোন দাবি আদায়ে নির্ধারিত সময় সীমা বেঁধে দিয়ে আন্দোলন বা ধর্মঘটে যেতে পারে শ্রমিক সংগঠনগুলো। কিন্ত পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ধর্মঘট বা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার সরকারের রয়েছে। যদি পরিবহন সেক্টর নিয়ে সরকারের কোন সিদ্ধান্ত পরিবহন খাতের মালিক শ্রমিকরা না মেনে ধর্মঘট করে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখে,তাহলে সরকারের করণীয় হতে পারে, যে সকল পরিবহন মালিক সমিতি বা শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘট করবে তাদের গাড়ি সরকারের যে কোন পর্যায়ের তালিকা ভুক্ত রাস্তার কমপক্ষে দুইশ গজ দূরে রাখা। এই সীমানার মধ্যে যে সমস্ত গাড়ি পাওয়া যাবে সেইসব গাড়ির মালিক ও শ্রমিকের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা লংঘনের দায়ে মামলা হতে পারে। বিষয় সমূহকে কোন ভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নয় জনস্বার্থে ভাবতে হবে। তবে এসব করতে গেলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হতে পারে। দেশ জুড়ে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় নৈরাজ্য রোধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অনেকে। প্রশ্ন হচ্ছে সড়ক ও পরিবহন বিষয়টি দেখভাল করার জন্য একটি মন্ত্রণালয় রয়েছে। একজন মন্ত্রী রয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেশ কয়েকটি দপ্তর রয়েছে। সব বিষয়ে যদি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয় তাহলে এসব মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন দপ্তরে এত কর্মকর্তার প্রয়োজন কেন। তারপরও আমাদের বলতে হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে তা রোধ করতে শেষ পর্যন্ত আপনাকেই কথা বলতে হবে।

লেখক : ব্যুরো প্রধান, কালের কণ্ঠ, চট্টগ্রাম

x