২৬ বছর আগের তিন খুনের মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ আসামির কারাদণ্ড

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
47

ডাকাতি করতে গিয়ে ২৬ বছর আগে সাতকানিয়ায় তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিচারক। আসামিদের মধ্যে সাতকানিয়ার কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রমজান আলীও রয়েছেন। তাকেসহ ১০ আসামিকে ছয় বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনআব্দুস শুক্কুর, আজম খান ও জামাল। ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে আসামি মোহাম্মদ ফিরোজকে।

ছয় বছরের সাজা দেয়া হয়েছে আসামি সাহাব মিয়া, সিরাজুল হক, ইয়াকুব, মোজাহার, মহসিন, ইলিয়াস, লোকমান হোসেন, ইমাম হোসেন, নূরুল আলম ও রমজান আলীকে। আসামিদের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি নজির আহমদ ইতোমধ্যে মারা গেছেন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত জেলা পিপি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে তাদেরকে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় শাস্তি দেয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আরো জানান, রায় ঘোষণার পর জেনেছি আসামিদের মধ্যে নজির আহমদ মারা গেছেন। তাকে সাজাপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। আর দণ্ডিতদের মধ্যে চারজন হাজতে আছেন। চেয়ারম্যানসহ বাকিরা পলাতক।

মামলার এজাহারে থাকা ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে সাতকানিয়ার শান্তির টেকের (পুরাতন ইচ্চারটেক) একটি বাড়িতে ডাকাতি করতে যায় আসামিরা। এসময় বাধা পেয়ে ডাকাতরা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান দুই ভাই সিদ্দিক মিয়া ও মোহাম্মদ মিয়া এবং মোহম্মদ মিয়ার স্ত্রী সাজেদা খাতুন। এ ঘটনায় নিহতদের আরেক ভাই জাফর আহমেদ মামলা করেন।

আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক গতকাল উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেন।

x