ডা.শামস্ মোহাম্মদ নোমান

এই রোগ কি?

আমাদের চোখের সামনের অংশে যে গোলাকার কাল অংশ দেখা যায়, তাকে কাল রাজা বা কর্ণিয়া বলা হয়। কোন কারণে কর্ণিয়ার প্রদাহ এবং পরবর্তীতে ঘা তৈরি হওয়াকে কর্ণিয়াল আলসার বা কাল রাজার প্রদাহ বলা হয়।

কেন হয়?

ভ চোখের আঘাতজনিত কারণে এই রোগ সবচেয়ে বেশি হয়। আমাদের দেশে ধান কাটার মৌসুমে ধানের পাতার আঘাতের কারণে এই রোগের আক্রমণ বেশি দেখা যায়।

অপুষ্টিজনিত কারণে বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে শিশুদেও মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।

যাদের চোখের পাপড়ির গোড়ায় সব সময় অপরিস্কার রাখার জন্য প্রদাহ বা ব্লেফারাইটিস হয়, তাদের চোখে কর্ণিয়ার প্রদাহ হতে পারে।

নেত্রনালী বন্ধ জনিত চোখের পানি পড়া রোগের কারণেও কাল রাজার প্রদাহ হতে পারে।

রোগের লক্ষণ

আলোতে চোখ খুলতে না পারা।

চোখে প্রচন্ড ব্যাথা হওয়া।

চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

চোখ হতে পানি পড়া।

চোখের কাল মনিতে সাদা দাগ বা ঘা দেখা যাওয়া ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ।

প্রতিরোধে করণীয়

চোখে কিছু পড়তে পারে বা চোখে আঘাত লাগতে পারে এমন পেশায় যারা নিয়োজিত আছেন, তারা কাজ করার সময় গগল্‌স বা চশমা ব্যবহার করতে পারেন।

চোখে কোন কিছু পড়লে, বেশী ঘষাঘষি না করে পরিস্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলা প্রয়োজন।

সর্বদা নিয়মমত চোখ পরিস্কার রাখা বাঞ্চনীয়।

নেত্রনালীর সমস্যার কারণে পানি পড়া রোগের চিকিৎসা করিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যেমন শামুকের পানি, চুনের পানি ইত্যাদি ব্যবহার হতে দূরে থাকতে হবে। এগুলো ব্যবহারের কারণে রোগ জটিলরূপ ধারন করে।

ডাক্তারের পরামর্শে কর্ণিয়াতে ঘা হওয়ার আগে ওষুধ ব্যবহার প্রয়োজন।

চিকিৎসা

আমাদের দেশের গ্রামেগঞ্জে কিছু কিছু হাতুড়ে চিকিৎসক চোখে বিভিন্ন রকম ক্ষতিকারক পদার্থ যেমন শামুকের পানি, চুনের পানি ইত্যাদি দিয়ে এই রোগের চিকিৎসা শুরু করেন।

পরিশেষে সম্পূর্ণ চোখে এই ঘা ছড়িয়ে পড়ে রোগ জটিল রূপ ধারণ করে। সুতরাং উপরোল্লিখিত উপসর্গ দেখা মাত্র নিকটবর্তী চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। বিভিন্ন উন্নত চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্রে ঘা থেকে পূঁজ নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে সেই পুঁজে যে জীবানু পাওয়া যায় সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর ঔষধের মাধ্যমে ঘা এর চিকিৎসা করা হয়। মনে রাখতে হবে, স্টেরইড জাতীয় চোখের ড্রপ ব্যবহারের ফলে কর্ণিয়ার ঘা জটিল রূপ নিতে পারে। সুতরাং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক সময় মত ওষুধ ব্যবহারে এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব। তবে তড়িৎ চিকিৎসা শুরু না হলে ঘা এর গভীরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে চিকিৎসার পড়েও কর্ণিয়া বা কালো রাজাতে দাগ পড়ে যাওয়ার ফলে স্থায়ী দৃষ্টি স্বল্পতা হতে পারে।

লেখক : কনসালটেন্ট

পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল

LEAVE A REPLY