মীরসরাই প্রতিনিধি ।।

মীরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নে স্বামী পরিত্যক্ত দরিদ্র মায়ের সন্তান পেল জিপিএ৫। মা মানুষের বাড়িতে কাজ করেও ছেলের লেখপড়া বন্ধ হতে দেন নি। উপজেলার মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ৫ পেয়েছে। তার মধ্যে একজন অমিত হাসান। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ৫ পেয়েছে সে।

জানা যায়, বাবা আবুল কালাম মা ছুফিয়া খাতুনকে তার ৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেই থেকে নানার বাড়ি এসে তার মা আর বিয়ের পিড়িতে না বসে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে জীবন যুদ্ধ শুরু করেন। পার্শ্ববর্তী নাজিরপাড়ায় নিকটাত্মীয় প্রয়াত আব্দুল হাই’র বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ নিয়ে ছেলেকে সেখানকার স্কুলে ভর্তি করান। এরপর ভর্তি করান মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে। ছেলের ভবিষ্যৎ ভেবে ছুফিয়া খাতুন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মিঠানালা গ্রামের হাজী দলিলুর রহমান মিস্ত্রী বাড়িতে নিজের পিত্রালয়ে একটি ছোট্ট ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করতে থাকেন। এবাড়িওবাড়ি কাজ করে ছেলের পড়া আর মাছেলের অন্নবস্ত্র জোগাড় করেন। অবশেষে তিনি দেখা পান সফলতার। তার ছেলে অমিত এবার জিপিএ৫ পেয়েছে। কিন্তু দুশ্চিন্তা এখনো দরিদ্র মায়ের পিছু ছাড়েনি। ছেলেকে কী করে ভালো কলেজে পড়াবেন? কী করে বিজ্ঞান বিভাগের খরচ জোগাবেন?- এখন সেই চিন্তাই তার।

ভাঙ্গা খুটির পড়ার টেবিলের উপর স্বহস্তে লিখা কিছু লাইন তার প্রেরণা বলে জানায় অমিত। লিখাটি হলো ‘আমি শিক্ষার্থী। আলোকিত জীবনের অভিযাত্রী। আমি মনোযোগ দিয়ে শিখব, সময়কে কাজে লাগাবো। ক্লাসে ১ম ও জীবনে ১ম হবো।’ অমিতের চোখে মুখে শুধু একটিই প্রশ্নজীবনের প্রথমধাপ বিদ্যালয় অঙ্গনে ১ম হতে পেরেছি। সফল হয়েছি। কিন্তু জীবনে ১ম কি হতো পারবো? তবে বুকে অদম্য সাহস আর মনোবল তার দৃঢ়। প্রয়োজন শুধু এই দেশ ও সমাজের কেউ পাশে দাঁড়ানোর। অমিত এর প্রিয় স্কুল শিক্ষক তুষার কান্তি দাশ বলেন, ‘আমি এই ছাত্রকে ফ্রি পড়িয়ে তৃপ্ত। কারণ ক্লাসে সে নিজ চেষ্টায় প্রতিবারেই ১ম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার এই ছাত্র যদি জীবনে সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে পারে তবেই আমি সবচেয়ে সুখী হবো।’

LEAVE A REPLY