মোরশেদ তালুকদার

নগরীর যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে ৮৮৪ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। আজ বৃহস্পতিবার সরকারের ‘প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি’র সভায় (পিইসি) প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। এর আগে গত ২৯ মার্চ ‘প্রকল্প যাচাই কমিটি’র (আইপিইসি) সভায় অনুমোদন পেয়েছিল প্রকল্পটি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং সড়ক আলোকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটিতে চট্টগ্রাম শহরের সামগ্রিক পরিবেশগত উন্নতির জন্য কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং ট্রাফিক ও পথচারীর জন্য রাস্তায় আলোর সুবিধা নিশ্চিত করার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ‘স্ট্র্যাটিজি ফর লোকাল গভর্মেন্ট অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রকল্পটি গ্রহণ করে চসিক। ওই সময় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৯৮ কোটি। পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত আইপিইসি সভায় প্রকল্পটিকে পুনরায় সংশোধন করার সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্পের ডিপিপিতে বিদ্যমান অসংগতি ও ত্রুটি সংশোধন করা হয় এবং গত ২৬ এপ্রিল পুনরায় প্রকল্পটি প্রেরণ করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।

গৃহীত প্রকল্প সম্পর্কে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শহরের কার্বন নির্গমন হ্রাস করার লক্ষ্যে আলোকায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ট্রাফিক ও পথচারীদের রাস্তায় আলোর সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পে কি কি থাকছে এমন প্রশ্নে এ প্রকৌশলী বলেন, ‘প্রকল্পটির আওতায় চট্টগ্রাম শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোকে সংস্কার করা হবে। ফুট ওভার ব্রিজও করা হবে। লাগানো হবে এলইডি লাইট। ফুটপাতগুলোকেও সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্মার্ট সিটি বাস্তবায়নের একটি ধাপ পূরণ করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগে আমাদের ৭১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছিল। ওই প্রকল্পে আমরা শহরের আভ্যন্তরীণ সড়ক বা ওয়ার্ড পর্যায়ের সড়কগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। তবে ৮৮৪ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পটিতে শহরের প্রধান সড়কগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছি।

এদিকে প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় ৬৬৪ কোটি ৮৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ১৪৫ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১০৭টি সড়ক সংস্কার, ১২৫ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকায় ৩৬টি ব্রিজ নির্মাণ, ৫৯ কোটি ২ লাখ টাকায় ৯১ টি যানবাহন ক্রয়। ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ৪টি এ্যাসকেলেটরসহ ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল নির্মাণ, ১০ কোটি টাকায় কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণ ল্যাব যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে।

এ প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা সম্পর্কে চসিকের পক্ষে মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম মহানগরী জাতীয় রাজস্ব আয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্যবসাবাণিজ্য এবং শিল্পায়নের সাথে পালহ্মা দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর নগরায়ন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নগরীর রাস্তা এবং সেতুসমূহের উন্নয়ন ও সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, শহরের যোগাযোগ নেটওর্য়াক উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতীকরণ, কম কার্বন নির্গমন এবং শক্তি শোষণ সর্ম্পকিত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক ও পথচারীর জন্য রাস্তায় আলোর সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেমের উন্নয়ন করাও এ প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্য।

উলেহ্মখ্য, চসিকের চলতি অর্থ বছরের (২০১৬২০১৭) বাজেট অধিবেশনে দেয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে নগরীতে অ্যাসফল্ট তথা পিচঢালা ১১শ’ ৪০টি সড়ক রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৬২০ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এছাড়া ২৪৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ১১শ’ ৯টি কংক্রিটের সড়ক আছে। এছাড়া ৭১০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের পাকা নর্দমা ও ৫৫ কিলিমিটার কাঁচা নর্দমা রয়েছে। কালভার্ট আছে ৯৯৮টি। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে এসব রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে এসব রাস্তা দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। এসব বিবেচনায় নিয়ে মূলত প্রকল্প হাতে নেয় চসিক।

এদিকে প্রতিবছর বর্ষা এলেই সড়কগুলোর অবস্থা হয়ে উঠে বেহাল। খানাখন্দে ভরে উঠে সড়কগুলো। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারীরা। চসিকের প্রকৌশল শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত বর্ষায় ১৬৩ কিলোমিটার সড়কে বিটুমিন ও পাথর উঠে গিয়ে ক্ষতি হয়েছিল। ৪১টি ওয়ার্ডের ১৩৩টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

LEAVE A REPLY