ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে নিজের স্কুলে লাঞ্ছিত হওয়ার পর ‘মিথ্যা মামলায়’ এক সপ্তাহ জেলে কাটিয়ে ফেরা নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাকে সারাক্ষণ মেন্টাল টর্চারের মধ্যে রাখা হচ্ছে। সরকার আমাকে যে নিরাপত্তা দিয়েছিল, সেই নিরাপত্তা কার হুমকিতে, কার নির্দেশে এবং কার জন্য তুলে নেওয়া হল। খবর বিডিনিউজের।

নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তির নামে করা ঘুষের মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। স্ত্রী সবিতা হালদারকে পাশে নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে শ্যামল কান্তি অভিযোগ করেন, স্কুল থেকে বিতাড়িত করতেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত বছরের ১৩ মে শ্যামল কান্তিকে তারই স্কুলে শারীরিক নির্যাতন করা হয়, ওই ঘটনার ভিডিওতে তাকে কান ধরে উঠবসের নির্দেশ দিতে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে। ওই ঘটনার দুই মাসের মাথায় শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ঘুষের মামলা করেন তার এক সহকর্মী। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দিলে গত ২৪ মে আদালত শ্যামল কান্তিকে কারাগারে পাঠায়। এক সপ্তাহ পর গত বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়ে এই শিক্ষক বলেন, তাকে ‘মিথ্যা মামলায় জেল খাটিয়ে’ অপমান করা হয়েছে। এই মামলার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমানের ইন্ধন রয়েছে বলে কারাগারে যাওয়ার আগে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। অবশ্য জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান এই শিক্ষকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, শ্যামল কান্তি তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন এবং এই মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ ওই মামলা প্রত্যাহার করে ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শ্যামল কান্তি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার সংসার এখন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, বলতে গেলে প্রায় ধ্বংসের পথে। আমি আতঙ্কিত আছি, কারণ ওই পরিবার আমাকে যে কোনো সময় নিশ্চিহ্ন করতে পারে।

পরে তিনি বলেন, আমার চাকরি আর দুই বছর থেকে একটু বেশি সময় আছে। আমি নিরাপদে এই সময়টুকু সম্মান নিয়ে পার করতে চাই। চরম নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি চাই। আশা করছিমাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আমার মতো শিক্ষকের বাকি জীবনটুকু নিরাপদে কাটাতে পারব। সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি পরিবার শিক্ষক শ্যামল কান্তির ক্ষতিসাধনে তৎপর। তারাই চক্রান্ত করে এটা করছে। তার ওপর একের পর এক মিথ্যা দোষ চাপিয়ে, তাকে দোষী করার চেষ্টাও সংখ্যালঘু নির্যাতনেরই একটা অংশ। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের দেশছাড়া করার ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি মহল এ ধরনের কাজ করছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। অন্যদের মধ্যে জোটের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায় ও মহাসচিব আনন্দ বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY