আজাদী প্রতিবেদন ।।

বরাবরই রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকে। আগে ইফতার তারাবি ও সেহরীতে অন্তত: বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকবে না এমন নিশ্চয়তার কথা বলা হতো পিডিবি থেকে। কিন্তু সেই অর্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতো না। এখন অবশ্য পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে এমন দাবি করা হয়। যথারীতি আশ্বাস দেয়া হয় রমজানের পূর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখার। কিন্তু এবারও লোডশেডিং নেই তা নয়। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিনই চলে বিদ্যুতের আসা যাওয়া। অবশ্য পিডিবি এই বিদ্যুৎ না থাকাকে লোডশেডিং বলে স্বীকার করে না। এটাকে তারা বলে সরবরাহে ত্রুটি অথবা লাইন মেরামতজনিত সমস্যা। এ সমস্যার সাথে এবার যোগ হয়েছে মোরার আঘাতজনিত ব্যাঘাত। সবমিলিয়ে কেমন পরিস্থিতি ?

নগরীতে ক’দিন ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে এখনো অনেক জায়গা আছে যেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড)। দিনে ছয়/সাত বারের মতো লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া গেছে সেসব এলাকায়। লোডশেডিং যন্ত্রনার কথা জানিয়ে নগরীর মাঝিরঘাটের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গতকাল আজাদীকে বলেন, এখানে প্রচুর হারে লোডশেডিং হচ্ছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৭/৮ বারের মতো বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। গত এক সপ্তাহ ধরে এইভাবে চলছে। তার মতো এলাকাটিতে হাজার হাজার মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগ্রাবাদে রঙ্গি’পাড়ার বাসিন্দা এস এম ইকবাল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় একবার বিদ্যুৎ চলে যাবার পর রাত দেড়টার দিকে আসে। শুক্রবার সকালে বিদ্যুৎ চলে যাবার পর কয়েক ঘন্টা পর আসে। ইফতার ও তারাবি নামাজের সময়ও লোডশেডিং এর ঘটনা ঘটছে। এলাকাটিতে দিনে ৩/৪ বারের মতো বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে বলে জানান তিনি।

মধ্যম হালিশহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ শামসুদ্দিন জানান, ঘন ঘন লোডশেডিং তো আছেই তারসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলছে লো ভোল্টেজের যন্ত্রনা। এতে করে নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। টিউব লাইটও জ্বলেনা, ফ্যানও ঘুরে না। মটরে পানি তুলতেও সমস্যা।

শনিবার নগরীর কদম মোবারক বাইলেইন এলাকায় এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সেখানে বেলা ১ টা ৪৫ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যাবার একঘন্টা পর বিকেল ৩ টা ৭ মিনিটে বিদ্যুৎ আসে। এভাবে নগরীর কাপাসগোলা, চকবাজার, বাকলিয়াসহ আরো বেশ কয়েকটি এলাকায় লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় লোডশেডিং আগের তুলনায় অনেক কমেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

বাকলিয়া ওয়ার্ডের বলিরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ জানিয়েছেন, লোডশেডিং আগের তুলনায় একটু কমেছে। মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলেও আধাঘন্টা/এক ঘন্টার মধ্যে চলে আসে। তবে তারাবির নামাজ ও ইফতারের সময় লোডশেডিং হয় না।

খাতুনগঞ্জের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিং হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় কম। এছাড়া পতেঙ্গা মাইজপাড়ার বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোটামুটি ভালোই আছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিদ্যুতের দুয়েকদিন সমস্যা হয়েছে। পরে আবার স্বাভাবিক হয়।

এদিকে নগরবাসী লোডশেডিং এর অভিযোগ করলেও পিডিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মনিরুজ্জামান গতকাল আজাদীকে বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোটামোটি ভালোই আছে। লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, যেসব এলাকা থেকে এসব অভিযোগ আসছে সেখানে মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন মেরামতের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কারণ ঝড়ে আমাদের কিছু বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মেরামত করতে হচ্ছে। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। এটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না। হালিশহরের বাসায় তিনি নিজেও দুই/তিন ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় ছিলেন বলে জানান।

বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা জানান, প্রচন্ড গরমে গ্রাহক পর্যায়ে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। উৎপাদন যদি তখন কম থাকে তাহলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে না পিডিবি। এতে ঘনঘন লোডশেডিং এর ঘটনা ঘটে। ক’দিন ধরে হালকা, মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতে আবহাওয়া শীতল থাকায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদাও কমেছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের উৎপাদনও এই ক’দিন ভালোই আছে। এতে করে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে পিডিবি। সেখানে লোডশেডিং হবার কথা নয়।

এদিকে পিজিসিবির (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানী অব বাংলাদেশ) লোড ডেসপাচ সেন্টারের গত কয়েকদিনের রিপোর্টে দেখা গেছে, গত ৩০ ও ৩১’মে চট্টগ্রাম জোনে গ্রাহক পর্যায়ে ১০৯৯ ও ১১৫১ মেগাওয়াটের বিপরীতে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে পিডিবি। এছাড়া চলতি মাসের ১ জুন ১০৭১ মেগাওয়াট, ২ জুন শুক্রবার ছুটির দিনে ৬৭২ মেগাওয়াট এবং গতকাল ৩ জুন ১১৫২ মেগাওয়াটের বিপরীতে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ দেখানো হয়েছে। পিডিবি চট্টগ্রাম জোনের অধীন নগরীসহ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার মিলে মোট ২১ টি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ আছে। এসব বিতরণ এলাকা থেকে মূলত গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY