শুকলাল দাশ ।।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের জন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানায় ৮৬টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কোচের মেরামতের কাজ শেষের দিকে। বাকি গুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে বলে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন। এদিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর কারখানায়ও ৩৬টি মিটার গেজ কোচ মেরামত করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে ৮৬টির পাশাপাশি সৈয়দপুরের ৩৬টি কোচও পূর্বাঞ্চলে যুক্ত হবে। প্রতিটি ট্রেনের নির্ধারিত আসনের যাত্রীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১২২টি কোচে ঈদে প্রতিদিন ৮ হাজার ৭৮৪ জন বাড়তি যাত্রী পরিবহন করবে বলে জানা গেছে। প্রতিবছরই ঈদে রেলওয়ের নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয় এবং স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হয়।

এই ব্যাপারে পাহাড়তলী কারখানার তত্ত্বাবধায়ক মো.মহিউদ্দিন আজাদীকে জানান, এবারের ঈদউল ফিতরে যাত্রীদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য পাহাড়তলী কারখানা থেকে ৮৬টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুনের মধ্যে সব কোচ মেরামতের কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে অধিকাংশ কোচ মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। মেরামতকৃত সব কোচ ঈদে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে ঈদে প্রতিটি ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা সম্ভব হবে এবং বাড়তি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।

এদিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়ও ৮৫টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৯টি ব্রডগেজ এবং ৩৬টি মিটার গেজ রয়েছে। এখানে মিটার গেজ কোচ গুলো পূর্বাঞ্চলের বহরে যুক্ত হবে। আর ব্রডগেজ কোচ গুলো রেলের পশ্চিমাঞ্চলের বহরে যুক্ত হবে। কারণ পূর্বাঞ্চলে সব রুটে মিটার গেজ এবং পশ্চিমাঞ্চলে সব গুলো ব্রডগেজ ট্রেন চলে। পাহাড়তলী কারখানার কর্মচারীরা জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই কোচগুলো মেরামত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের পরও অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন শ্রমিক কর্মচারীরা। কারখানা সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে কাজ শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা, আবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত। ৪টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওভার টাইম।

কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানাটি রেলওয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই কারখানায় যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন এবং ট্রেনের ইঞ্জিন মেরামতসহ সকল প্রকার যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং মেরামত করা হয়। বর্তমানে যে পরিমাণ ট্রেন এবং ইঞ্জিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত এবং উৎপাদন হয়ে থাকে এই কারখানাটি আধুনিকায়ন করা গেলে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে জানায় শ্রমিকরা। পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাটি সর্বশেষ মেরামত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। এই কারখানার সকল প্রকার যন্ত্রাংশ প্রায় ৬০ বছরের পুরানো বিধায় এটি অনেক আগেই উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এই কারখানাটি চলছে খুঁড়িয়েখুঁড়িয়ে। যার কারণে ট্রেনের বগি মেরামতইঞ্জিন থেকে শুরু করে সকল প্রকার মেরামত কাজে দীর্ঘ সময় লাগছে। কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই কারখানায় দীর্ঘদিন থেকে জনবল সংকট প্রকর আকার ধারণ করেছে। জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতি ঈদে কারখানার শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে একশ থেকে পৌনে একশ পুরাতন কোচ মেরামত করে থাকে।

LEAVE A REPLY