কেশব কুমার বড়ুয়া, হাটহাজারী ।।

পাঁচ মাসে হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে ৫ থেকে ৭ জন চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। অদক্ষ গাড়ি চালকের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বশীল প্রশাসনের প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে বৈধ কাগজ পত্রহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের অনেকের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার কারণে পরিবারে দুর্বিসহ অন্ধকার নেমে এসেছে। সামর্থ না থাকায় এসব দুর্ঘটনায় খুব কমসংখ্যক মামলা রেকর্ড হয়েছে।

দায়িত্বশীল প্রশাসন ও বিভিন্ন ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায়,গত ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামনাজিরহাট মহাসড়কের মেডিকেল রাস্তার মাথায় মিরেরখীল এলাকার রিকশা চালক সুমন কান্তি নাথের এক মাত্র পুত্র রাজু কুমার নাথ (১৫) বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারায়। ৬ জানুয়ারি মদনহাট এলাকায় আশরাফ উদ্দির ওসমান নামে একজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। ৯ জানুয়ারি ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন (২৩) ও অজ্ঞাতনামা এক মহিলা নিহত হন। ১১ জানুয়ারি এনায়েতপুর এলাকা চেয়ারম্যান ঘাটায় গোলাম কিবরিয়া (২৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী মৃতু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি ইট বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় নসিমন চালক মিলন (২৮) এ মৃত্যু হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি সরকারহাট এলাকায় মাহামুদুল হক(৫০) নামে এক ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। ৫ এপ্রিল চারিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি সংঘর্ষে নারায়ণ নাথ (২৫) ও পিয়ারুল ইসলাম (৬০) নামে দুই ব্যক্তি মারা যায়। ৮ এপ্রিল নাজিরহাট এলাকায় সিএনজি ও ট্রাক সংঘর্ষে মোজাম্মেল হোসেন (২৫) ও অজ্ঞাতনামা এক মহিলা নিহত হন। এছাড়া ২৭ ও ২৮ এপ্রিল যথাক্রমে সুবেদার পুকুর পাড় এলাকায় মো. জাহেদ (২৫) এবং মিরেরহাট সংলগ্ন এলাকায় রিপন (৩৫) নামে দুই ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। ২৯ এপ্রিল মো. রুবেল চৌধুরী (৩২) নামে এক যুবক চারিয়া নয়াহাট সংলগ্ন এলাকায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যায়। একই দিন অক্সিজেন সংলগ্ন এলাকায় মারা যান এক ব্যক্তি। এসব দুর্ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে।

ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ এবং বিআর টি এ কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবে অদ চালক, বৈধ কাগজ পত্রহীন ও লক্কর ঝক্কর মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ি চলাচল করার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

তাছাড়া কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণে সড়কে যানজট নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজট থেকে ছুটার পর দ্রুত গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনারহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল ও সিএনজি আরোহীর মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY