ঘূর্ণিঝড় মোরা পরবর্তী ভারী বর্ষণ এবং মহেশখালের উপর অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে নগরীর আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকায় কয়েক লাখ মানুষ নিদারুণ কষ্টে দিনযাপন করছে উল্লেখ করে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মহেশখালের উপর বাঁধের কারণে জোয়ার ভাটার স্বাভাবিক গতি প্রবাহ না থাকায় এর সাথে সংশ্লিষ্ট শাখা খাল ও নালাগুলো পলি এবং ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বৃষ্টির পানিতে আগ্রাবাদ হালিশহরের কয়েক হাজার পরিবারকে জলবন্দি হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। ’

তিনি বলেন, গত ৩/৪ দিনের বৃষ্টিতে এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে চলে গিয়েছে শুধুমাত্র বিশাল এলাকা ভরাটের কারণে। বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা, পলিথিন, প্লাষ্টিক এবং পলি গ্রাস করে ফেলেছে মহেশখাল ও এর সাথে সংযুক্ত শাখা খাল এবং নালাগুলোকে। এ অবস্থায় সিটি কর্পোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোন বিভাগকেই দেখা যায়নি বর্জগুলো পরিস্কার কিংবা পরিস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করতে। ময়লা আবর্জনার গন্ধে এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে থাকছে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই বাসা বাঁধছে। তৎমধ্যে বেশী দুর্ভোগে পড়ছে এসব এলাকার নিম্নআয়ের মানুষগুলো। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যৎসামান্য উপার্জন দিয়ে তিলে তিলে সঞ্চয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলা তাদের ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং অন্যান্য জিনিসপত্র। এমনকি চট্টগ্রাম মা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালের নীচতলা পানিতে ডুবে হাসপাতালের পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাই কালবিলম্ব না করে খাল, নালা ও নর্দমার পলি আবর্জনা অপসারণ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে এখনই কাজ করার আহবান জানান তিনি।

এতো বিপর্যয়ের পরও পানি অপসারণ করে জল নিস্কাশনের কোন উদ্যোগ গ্রহন না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শরীর থেকে ইস্ত্রির ভাজ করা পরিধেয় ত্যাগ করে এবং শীতল কক্ষ থেকে বের হয়ে জনগনের দুঃখ কষ্টে শামিল হওয়ার আবেদন জানান। জনাব সুজন গত ২ বছরে মহেশখাল বাঁধের কারণে উজান ভাটার ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ডসমূহের জনসাধারন ও ব্যবসায়ীদেরকে নিজ নিজ ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য উল্লেখ করে স্বস্ব ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর দ্বারা সত্যায়িত করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি প্রদানের আহবান জানান। জনাব সুজন বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেন যে, আমাদের বাপদাদার ভিটেমাটির ভৌগলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে যে বন্দর গড়ে উঠেছে, সে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগন পানিতে ডুবে বা জলবন্দি হয়ে সহায় সম্বল হারাবেন এটা কেউ ভাবতেও পারেনি।

LEAVE A REPLY