রতন বড়ুয়া ।।

এবারের এসএসসির পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত ৩০ মে। এতে ৬৮৭ জনের গ্রেড পয়েন্ট (জিপি) পরিবর্তন হয়। কিন্তু মোট ১ হাজার ৫১৩ জন শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরে পরিবর্তন ঘটেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বোর্ডের তথ্য মতেপ্রাপ্ত নম্বর পরিবর্তন হওয়া মোট ১ হাজার ৫১৩ জনের মধ্যে ৮২৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্টে পরিবর্তন ঘটেনি। বাকি ৬৮৭ জনের গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তনের তথ্য এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে, পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে ৮২৬ শিক্ষার্থী। টেলিটক থেকে আসা খুদে বার্তায় ফল পরিবর্তনের কথা জানানো হয় এসব শিক্ষার্থীকে। কিন্তু ফলাফলে দৃশ্যত কোন পরিবর্তন না দেখে দ্বিধান্বিত এসব শিক্ষার্থী। পরিবর্তন না দেখে হতাশও হয়েছেন অনেকে। তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেমোট ১ হাজার ৫১৩ জন শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হলেও এর মধ্যে গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন হয়েছে কেবল ৬৮৭ জনের। বাকি ৮২৬ শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হলেও গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন ঘটেনি। বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান আজাদীকে বলেনকোন শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে আগের ৫০ নম্বরের স্থলে পুনঃনিরীক্ষায় ৫৪ নম্বর পেলে তার প্রাপ্ত নম্বর পরিবর্তন ঘটেছে ঠিকই কিন্তু গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর একই গ্রেড পয়েন্ট ধরা হয়। একইভাবে ৮০ পেলেও এ প্লাস, আবার ৯৯ পেলেও এ প্লাস। তাই কোন শিক্ষার্থী যদি একটি বিষয়ে আগে ৮০ নম্বর পেয়ে থাকে, আর পুনঃনিরীক্ষায় ৯০ বা ৯৫ পায় তবে তার মোট নম্বর পরিবর্তন ঘটলেও গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন হয়নি। মূলত এ কারণেই ৮২৬ শিক্ষার্থীর মোট নম্বর পরিবর্তন হলেও গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন হয়নি। তবে নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলে দেখার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান।

পুনঃনিরীক্ষার এ ফলাফল শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.bise-ctg.gov.bd) পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, এবার এসএসসির পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলে নতুন করে জিপিএ৫ পেয়েছে আরও ৬৭ জন শিক্ষার্থী। ৫২ জন পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছেন। আর ফল পরিবর্তন (গ্রেড পয়েন্ট) হয় মোট ৬৮৭ জনের। এর মধ্যে ২১ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীও রয়েছে। অর্থাৎ গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন হলেও তারা পাশ করতে পারেনি। এবার এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য মোট ৫৭ হাজার ৮১৪টি আবেদন পড়ে। প্রথম দফায় (৪ মে) প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট ২১ হাজার ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থী এসব আবেদন করে।

LEAVE A REPLY