সিমলা চক্রবর্তী

ইংল্যান্ডের ডর্কিং এলাকার বাসিন্দা ১২ বছরের আলমা ডিউশ্চার এখন সংগীত জগতের বিস্ময়। তার নেশা পিয়ানোবেহালা বাজানো আর গান সৃষ্টি করা। আলমা’র বাবা গাই ডিউশ্চার এবং মায়ের নাম জেনি স্টেন। দুই বছর বয়সে পিয়ানো এবং তিন বছর বয়সে বেহালা নিয়ে খেলতে খেলতেই সে আজ সংগীতজ্ঞ ও কম্পোজার হয়ে উঠেছে। জন্মদিনে বাবা মেয়ের জন্য যে খেলনা পিয়ানো এনে দিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে খেলতে খেলতেই আলমা সত্যিকার পিয়ানো ও বেহালা বাজাতে দক্ষতা দেখিয়েছে। ৪৫ বছর বয়সে সে গান কম্পোজ করা শিখতে শুরু করে। এরপর ক্লাসিক্যাল মিউজিকও সৃষ্টি করেছে আলমা।

৮ বছর বয়সে সে একটা স্বপ্ন দেখেছিল। আলমা দেখলো, রাতের আঁধারে একসেট ইফ্ল্যাট পিয়ানো তার কাছে ভেসে এলো। ঘুম ভাঙার পর পরই সে স্বপ্নের সেই সুর লিখতে শুরু করলো, যেন এগুলো হারিয়ে না যায়। পরদিন স্কুলে বেশ ঝিমুতে হলো। ছোটবোন হেলেনের সঙ্গে বাড়ির বাগানে দৌঁড়ানো আর খেলার পাশাপাশি পিয়ানোর সামনে বসে কিংবা একটা বেহালা হাতে তুলে নিয়ে সে দেখায় সুরের জাদু। তার বাবা বলেছে, কোন শিক্ষক ছাড়াই আলমা এটা রপ্ত করেছে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই আলমা পিয়ানো আর বেহালার বেশ কয়েকটি সোনাটা, চৌপদী আর সম্প্রতি পূর্ণদৈর্ঘ্যের অপেরা কম্পোজ করেছে। সংগীত ও যন্ত্রসংগীতের ওপর এই সহজাত দক্ষতা সে হঠাৎ করেই উপলব্ধি করেছে। এক সাক্ষাৎকারে সে বলেছে, ‘আমার মনের মধ্যে এই অপূর্ব সুর খেলা করতে থাকে, মনের মধ্যে কখনও কেউ গান গায়, কেউ পিয়ানো বাজায়, কেউবা বেহালার সুরে ভাসিয়ে দেয়।’ সবাই বলছে, আলমা হলো ‘লিটল মিস মোজার্ট’। তার অদ্ভুত ও গভীর প্রতিভা সবাইকে মুগ্ধ করে দেয়। অতি অল্প বয়সে সঙ্গীতে এমন বিরল প্রতিভার অধিকারী দেখা মেলে কদাচিৎ। তবে সবাই উদ্ভাবনী কিছু দেখাতে পারে না। সাধারণত পূর্বের কাজগুলো সামনে এগিয়ে নেয় তারা। তবে এই বয়স থেকেই যদি সঠিক পরিচর্যা করা যায়, তাহলে এরাই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিতে পারে। আলমা ডিউশ্চার মোজার্টের মতো সংগীতকে অনেক কিছু দেবে। সে ইসরায়েল ফিলারমোনিক অর্কেস্ট্রা, দি ওভিদো ফিলারমোনিয়া, জেরুজালেম সিম্ফোনী অর্কেস্ট্রা, দি ওয়েলস্‌ ন্যাশনাল অপেরা অর্কেস্ট্রা এবং রয়েল ফিলারমোনিক অর্কেস্ট্রায় একক অংশ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY