রাঙামাটি প্রতিনিধি

এখন থেকে পাহাড়ে বাড়িঘর নির্মাণ করতে প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। পাশাপাশি পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসতি নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনায় পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত অথবা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা বিধ্বস্ত ভিটায় এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যে কোনো বাড়িঘর বা স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মানুষের ভবিষ্যত জানমাল রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে বিশেযজ্ঞদের পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ যাচাই বাছাই ছাড়া কাউকে আর মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া ঠিক হবে না।

ব্রিফিংয়ে রাঙামাটি পৌরসভা মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোয়াজ্জেম হোসেনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনায় সদরসহ পুরো রাঙামাটি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১৬০০১৭০০ পরিবার। এর মধ্যে সদরে রয়েছেন ১১৩০ পরিবার।

জেলা প্রশাসক জানান, পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ সহায়তা হিসেবে মৃতদের প্রত্যেকের আত্মীয় স্বজনকে ২০ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। শহরে মোট ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৬৪৩ পরিবারের নারী, শিশু, পুরুষ মিলে ২ হাজার ৯০০ জন আশ্রয়ে এসেছেন। আশ্রিতদের সংখ্যা সার্বক্ষণিক বাড়ছে। নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে লোকজন। তিনি জানান, আশ্রিতদের জন্য দুই বেলা খাবারসহ নিরাপদ পানি সরবরাহ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, লুঙ্গি, শাড়ি, কাপড়সহ ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সবকিছুর সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। তিগ্রস্ত ও দুর্গতদের কেউ সহায়তা করতে চাইলে ত্রাণ না দিয়ে নগদ টাকা দিতে পারবেন। এজন্য ইসলামি ব্যাংকের রাঙামাটি শাখায় মানবিক সহায়তা তহবিল নামে একটি হিসাব শাখা (নম্বর২৮১৩) খোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগের আশঙ্কা থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দুর্যোগের পর সৃষ্ট বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল, বাজার পরিস্থিতিসহ প্রায় সব সংকট মোকাবেলা করে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ সচল করতে দ্রুত কাজ চলছে। যে কোনো সময় রাঙামাটিচট্টগ্রাম সড়কে সাময়িকভাবে হালকা যান চলাচল উপযোগী করা যাবে।

LEAVE A REPLY