আজাদী প্রতিবেদন ।।

সম্পূর্ণ আলাদা অবকাঠামোতেই চট্টগ্রামে বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল বা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা প্রতিনিধি দল। বিশেষায়িত এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে গতকাল সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকালে দলটি তাদের এ আগ্রহের কথা জানায়। গতকাল সোমবার চীন সরকারের ৯ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলকে নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সারাদেশে বার্ন চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া ডা. সামন্ত লাল সেন। সকাল দশটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পৌঁছলে হাসপাতালের পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকবৃন্দ দলটিকে স্বাগত জানান। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা লিউ চেনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের দলটিতে ৭ জনই প্রকৌশলী। অপর একজন দোভাষী। প্রথম দফায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে চট্টগ্রামে বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল বা বার্ন ইনস্টিটিউটের অপরিহার্যতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ডা. সামন্ত লাল সেন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন। আর প্রজেক্টরে উপস্থাপনের মাধ্যমে হাসপাতালের বিদ্যমান বার্ন ইউনিটের সমস্যাসংকটের চিত্র তুলে ধরেন বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মৃনাল কান্তি দাশ। এসময় হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. দিদারুল ইসলাম, শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. তাহমিনা বানু, সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. আশরাফ, বার্ন ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস খালেদসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে হাসপাতালের পিছনের অংশে ও গোঁয়াছি বাগান এলাকাসহ বেশ কয়টি স্থান দেখানো হয় দলটিকে। এর মধ্য থেকে হাসপাতালের পিছনের অংশে খালি জায়গায় বিশেষায়িত এ হাসপাতাল বা ইনস্টিটিউট করতে দলটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন।

তিনি আজাদীকে জানান, তাদের সাথে কথা বলে আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, সেটি হলোহাসপাতালের পিছনের খালি জায়গাটি প্রাথমিক ভাবে তারা পছন্দ করেছেন। ওই জায়গায় ৬ তলা একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তারা ভাবছেন। সেটি হলে ওই ভবনে কমপক্ষে ৩ শ’ শয্যার সংস্থান করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ আগুনে পোড়া রোগীদের বিশেষায়িত ও উন্নত চিকিৎসায় আইসিইউসহ সব ধরনের সুবিধা সম্বলিত প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বয়ং সম্পূর্ণ। সব কিছুই তারা করবে। ঢাকায় আর ছুটতে হবে না। আর আলাদা ভবন গড়ে তোলা হলেও সেটি বিদ্যমান ভবনের সাথে ব্রিজ আকারে সংযুক্ত করার সুযোগ থাকছে। তাছাড়া রোগীর অন্যান্য পরীক্ষানিরীক্ষার প্রয়োজন পড়লে সে বিষয়টিও তারা ভাবছেন। সবমিলিয়ে বর্তমান ভবনের সাথে লাগোয়া এই জায়গাটিই সবচেয়ে সুবিধাজনক বলে তারা মনে করছেন। যদিও গোঁয়াছি বাগান এলাকায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা স্টাফ কোয়ার্টারের চারটি ভবন ভেঙে সেখানেই আলাদা এ ভবন করতে আগ্রহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ চীনা দলটির নিকট যুক্তিও তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূরত্ব বিবেচনায় সেদিকটায় যেতে ততটা আগ্রহী নয় চীনা দলটি। কথা বলে সেটাই বুঝতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা ওনাদের বেশ কয়টি স্থান দেখিয়েছি। তবে আমরা চেয়েছি গোঁয়াছি বাগান এলাকায় আলাদা ভবনটি করতে। ওখানে স্টাফ কোয়ার্টারের চারটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। সেগুলো আমাদের এমনিতেই ভাঙতে হবে। তাই সেখানে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ওই ভবন করতে পারলে খারাপ হতো না। আমরা আমাদের যুক্তিগুলো তুলে ধরেছি। তবে তারা সম্ভবত ওখানটায় ততটা আগ্রহী নয়। হাসপাতালের পিছনের অংশে খালি জায়গাটিতেই তারা আগ্রহী বলে জানতে পেরেছি। দেখা যাকএখনো তো ফাইনাল কিছুই হয়নি। তারা নিজেরা আলোচনার পর হয়তো এ বিষয়ে আমরা জানতে পারবো। এদিকে, পরিদর্শনের পর গতকাল বিকেলেই ঢাকায় ফেরত গেছে চীনা দলটি। মঙ্গলবার (আজ) ঢাকায় এ নিয়ে নিজেরা বৈঠকে বসবে তারা। বৈঠকের পরই স্থান নির্বাচনের বিষয়ে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন।

ডা. সামন্ত লাল সেন এ প্রসঙ্গে আজাদীকে বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে চট্টগ্রামে দ্রুত একটি বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল (আইসিইউসহ) নির্মাণ হোক। যাতে চট্টগ্রামের মানুষও রাজধানী ঢাকার মতো চিকিৎসা সুবিধা পায়। একটু আশঙ্কাজনক হলেই যাতে আর ঢাকায় ছুটতে না হয়। এটি করতে প্রথমে এডিবিকে অর্থ সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। তারা সম্মতও হয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরে যায়। এরপর চীন সরকারের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। তারা সম্মত হয়েছে। আর চীনা প্রতিনিধি দলটির সাথে কথা বলে জানতে পেরেছিটাকা ফ্যাক্টর নয়। এটি করতে টাকা যা লাগে তারা দিতে প্রস্তুত। সম্পূর্ণই অনুদান হিসেবে। এই টাকা আর ফেরত দিতে হবে না। তারা আমাদের জন্য বড় কিছুই করতে চায়। এখন প্রতিনিধি দলটি দেখে গেলেন। দেশে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তারা রিপোর্ট করবেন। এরপরই পরবর্তী পদক্ষেপ জানা যাবে। তবে ইতিবাচক ফলাফলের আশাই আমরা করছি। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY