ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যা কবলিত এলাকায় খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদী পশু মারা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে বন্যা কবলিত এলাকায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪০টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য গবাদীঁ পশুর মাঝে এই রোগে আক্রান্তের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক টিম গবাদী পশুর চিকিৎসায় মাঠে রয়েছে। এসব টিম ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক গবাদী পশুকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়াসহ নানা চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, চকরিয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমের প্রথমদফার বন্যায় মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নদী বিধৌত ইউনিয়ন সুরাজপুরমানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বানের পানিতে প্লাবিত হয়। দুইদিন পর পানি নেমে গেলে এসব ইউনিয়নের গবাদী পশু খুরারোগে আক্রান্ত হতে শুরু করে। তবে এই রোগ বেশি ছড়িয়ে পড়ে সুরাজপুরমানিকপুর ইউনিয়নে।

সুরাজপুরমানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম দৈনিক আজাদীকে জানান, মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি প্রথমে ধাক্কা দেয় তার ইউনিয়নে। বানের পানিতে তলিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। দুইদিন ধরে বানের পানি আটকে থাকার পর ভাটির দিকে নেমে যায়। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে গবাদী পশুর মাঝে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে খুরারোগ। চেয়ারম্যান জানান, গত একসপ্তাহে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ইউনিয়নের ৪০টি গরু মারা গেছে। এই পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করলে এক মেডিক্যাল টিম মাঠে নামে। নতুন করে যাতে এই রোগে কোন গবাদী পশু আক্রান্ত না হয় সেজন্য ক্যাম্প বসিয়ে ইউনিয়নের অন্তত ৩০০ গবাদী পশুকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনসহ নানা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান আজিম বলেন, ‘খুরারোগে আক্রান্ত গবাদী পশুগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও গবাদী পশুর মালিকদের মাঝে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবশ্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা আর কোন সমস্যা দেখা দেবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।’

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানান, অতিবৃষ্টি ও মাতামুহুরী নদীর বানের পানি একনাগাড়ে তিনদিন ধরে আটকে ছিল এই ইউনিয়নে। এতে অনেক স্থানে গবাদী পশু মারা গেছে। তবে এখনো ব্যাপক আকারে ছড়ায়নি এই রোগ। এর পরেও বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হলে ইউনিয়নের প্রায় ২ শতাধিক গবাদী পশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. ফেরদৌসী আকতার বলেন, প্রথমবারের ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে আক্রান্ত এলাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক মেডিক্যাল টিম মাঠে রয়েছে। ইতিমধ্যে খুরারোগে আক্রান্ত গরু, মহিষ, হাঁসমুরগীসহ প্রায় ৫ শতাধিক গবাদী পশুকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনসহ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপরও এই রোগ যাতে বেশি না ছড়ায় সেজন্য আমরা তৎপর রয়েছি।’

LEAVE A REPLY