আজাদী প্রতিবেদন ।।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অনিয়মদুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ কমিটিরই বড় একটি অংশ। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নেতৃত্বে তার সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন এই অংশের নেতারা। সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাংসদ আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ১০ জন সহ সভাপতির মধ্যে ৯জন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের একাধিক নেতা বর্তমান কমিটির কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। তারা আলাদা একটি বড় গ্রুপে পরিণত হয়েছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোনো সভাসমাবেশে তারা যোগদান করছেন না। তারা ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আলাদা ভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সহ সভাপতি ও কার্যকারী সদস্যের সাথে কথা হলে তারা বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য এবং জেলা ও উপজেলা কমিটিতে অনিয়মদুর্নীতির মাধ্যমে পদপদবী দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সাথে তার সার্সন রোডের বাসভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যান। এদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হাসিনা মান্নান, সহসভাপতি ও রাষ্ট্রদূত এস.এম. আবুল কালাম, সহসভাপতি ও জেলা পিপি এডভোকেট এ.কে.এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দীন মনসুর ও সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়ব। এ ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় ভূমিপ্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ জেলার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কতিপয় নেতার অপকর্মের কারণে দক্ষিণ জেলায় দলের ভাবমূর্তি ম্লান হতে চলেছে। এই অবস্থায় আমরা বসে থাকতে পারি না। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও চন্দনাইশ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী আজাদীকে জানান, ‘দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বেশিভাগ নেতাকর্মীই এখন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষে। আমরা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ এখন বর্তমান কমিটির সভাপতিসাধারণ সম্পাদকের অনিয়মদুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এদের এই অনিয়মদুর্নীতি গুলো নেত্রী(আওয়ামী লীগ সভানেত্রী) জানেন। তিনি হয়তো খুব সহজেই আমাদেরকে ডাকবেন এটা সবাই আশা করেন। আমরা নেত্রী দেশে আসলে উনার সাথে দেখা করে বিষয়টি জানাবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা দুর্নীতির চরম পর্যায়ে চলে গেছে। এই ভাবে তো একটি দল চলতে পারে না। তাদের থেকে সবাই পরিত্রান চায়।’

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সাবেক এমপি ও রাষ্ট্রদূত এস.এম. আবুল কালাম আজাদীকে জানান, ‘আমরা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অনিয়মদুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই জেলার বড় একটি অংশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। ওদের সাথে দলের সিনিয়র কেউ নেই বলে মনে হচ্ছে। এই কমিটির প্রতি কারো আস্থা নেই। আমরা চায় যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী সে পদ পাবে। বোয়ালখালীতে একটি কমিটি করা হয়েছেওই কমিটির সভাপতি আগে ছাত্রলীগ করতো। অথচ অনেক বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাথে তার কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই। এখন তিনি ইস্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেন। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তার (দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি) ফুফাত ভাইকে। পটিয়ায় থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দিয়ে তার পছন্দমত একজনকে দিয়েছেন। এই ভাবে অনিয়মদুর্নীতি ও নিজের ইচ্ছেমাফিক কি একটি দল চলে?’

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ও কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমদ আজাদীকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে ২৪/২৫ তারিখ আমরা দক্ষিণ জেলার সিনিয়ররা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেখা করবো। আমরা দক্ষিণ জেলার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরবো। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ১০ জন সহ সভাপতির মধ্যে ৯ জন এখন আমাদের সাথে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের সবাই আমাদের সাথে রয়েছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ জেলায় ১০ কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। এটা পত্রিকায় এসেছে। এ ব্যাপারে উনাকে (দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি) পত্রিকায় প্রতিবাদ দিতে বলেছিউনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। জেলা কমিটিতে অনেক সদস্য পদ খালি রেখেছেন। উনি একেক সময়একেক জনকে এই পদ দেবেন বলে আশায় রেখেছেন।’

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় কালে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এড. আবদুর রশিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক এডভোকেট মুজিবুল হক, মহিলা সম্পাদিকা এডভোকেট কামরুন নাহার, মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক এ.কে.এম. আবদুল মতিন চৌধুরী,উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ নুরুল আবছার, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু সুফিয়ান, ছৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, ছৈয়দ জামাল আহমদ, বিজন চক্রবর্তী, হায়দার আলী রনি, আবুল কালাম আজাদ, লায়ন শামসুল হক, এম.. জাফর, নুরুল আলম, মোজাহেরুল আলম চৌধুরী, এরশাদুল হক ভুট্টু, বাহাউদ্দিন খালেক শাহাজী, .কে.এম. নাজিম উদ্দিন, ডা. ..ম মিনহাজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ... টিপু সুলতান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ গালীব।

LEAVE A REPLY