ক্রীড়া প্রতিবেদক

এই ইংল্যান্ডেই ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছিল মোহাম্মদ আমিরের। উল্কার মত যে ছেলেটি বিশ্ব ক্রিকেটে এসে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল, যার মধ্যে খোঁজা হচ্ছিল বিশ্ব সেরা বোলারদের ছবি সেই মোহাম্মদ আমির এই ইংল্যান্ডেই পা দিয়েছিলেন এক অন্ধকার পথে। যে পথে পা দিতে গিয়ে বিশ্ব ক্রিকেট থেকে হারিয়ে গিয়েছিল পাঁচ বছর। খাটতে হয়েছে জেলও। হেয় হতে হয়েছে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবেও। তবে সবকিছুকে পেছনে ফেলে আবার বিশ্ব ক্রিকেটে আলো ছড়াতে এসেছেন আমির। তবে এবার যেন সবকিছু একেবারে রূপকথার মতো বদলে গেল। বছর কয়েক আগেও আমিরের গ্রামের বাড়িতে প্রতিবেশীরা যার দিকে বাঁকা চোখে তাকাত, এখন তারাই পাক পেসার মোহাম্মদ আমির এবং তাঁর পরিবারকে দেখছে সম্মানের চোখে। সাত বছর আগে স্পট ফিক্সিংএর অভিযোগে দোষী প্রমাণীত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছিল মোহাম্মদ আমিরকে। যে দিনগুলোর কথা আজও ভুলতে পারেন না এই পাকিস্তানী পেসারের দুই ভাই নাভিদ এবং ইজাজ। তাঁরাই এখন বলছেন, রবিবার ওভালে নতুন বল হাতে আমিরের স্পেলটাই সমস্ত লজ্জা ধুয়ে পরিবারকে আবার সম্মানের জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।’ আমিরের ভাই নাভিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রাওয়ালপিন্ডিতে চাঙ্গা বুঙ্গিয়াল গ্রামে তখন থাকতাম আমরা। আমির স্পট ফিক্সিংয়ে যখন দোষী সাব্যস্ত হয় তখন গ্রামে লোকের সঙ্গে মিশতে বা কথা বলতেই লজ্জা করত। তার পর লাহোরে চলে আসি আমরা। কিন্তু আমাদের অনেক আত্মীয়ই থেকে যান রাওয়ালপিন্ডিতে। এখন গ্রামে গেলে ভাইয়ের জন্যই ফের চোখ তুলে সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারব। পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের আনন্দে তিনি বলেন পাঁচ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর আমির চেয়েছিল এমন কিছু পারফরম্যান্স করতে যা ওকে আলাদা ভাবে চিনিয়ে দেবে। রবিবার ওভালে সেটা ও করে দেখিয়ে দিল আমির । আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া এক পরিবার থেকে উঠে আসেন আমির। পরিবারে ছয় ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। এক বছর আগে শাস্তি কাটিয়ে আমির যখন আবার পাকিস্তান দলে ফিরেন তখন পাকিস্তানেই অনেকে বলছিল জাতীয় দলে আমিরকে কোচ মিকি আর্থার বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন। কিন্তু গত বছর এশিয়া টিটোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির প্রশংসার পরেই সব বন্ধ হয়ে যায়। আর রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে নতুন বল হাতে ভারতের তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা, বিরাট কোহালি এবং শিখর ধাওয়ানকে ফিরিয়ে আমির এখন পাকিস্তানে জাতীয় বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন। আমিরের প্রথম কোচ বাজওয়া বলছেন, পাঁচ বছর নির্বাসনের পর মাঠে ফিরে এভাবে পারফর্ম করাটা সহজ কাজ নয়। আমির সেই ফিটনেসটা বজায় রাখতে পেরেছে বলেই আজ সে সফল । গত বছরই ব্রিটিশ নাগরিক নারগিস খানকে বিয়ে করেছেন মোহাম্মদ আমির। মাঠের বাইরে নারগিস আর মাঠের ভিতর শোয়েব মালিকের অভিভাবকত্বই বদলে দিয়েছে আমিরকে। যে প্রসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান বোর্ডই শোয়েবকে মেন্টর করে দেয় আমিরের। যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। এখন আমির আর কারো ঘৃনার পাত্র নন। এখন তিনি জাতীয় বীর। এখন আমির বন্দনায় মাতোয়ারা পুরো পাকিস্তান। লাহোরের বাড়িতে এবং রাওয়ালাপিন্ডির বাড়িতে এখন মিষ্টি নিয়ে অভিনন্দন জানাতে যাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন এখন মোহাম্মদ আমির। সবার কাছে সম্মানের পাত্র এখন মোহাম্মদ আমির এবং তার পরিবার।

LEAVE A REPLY