লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়াঢালা পাহাড় ধসে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে পাহাড়টির বিভিন্নস্থানে কয়েকটি ফাটল দেখা দেয়ায় টানা বৃষ্টিপাতে যে কোন মুহুর্তে ধসে পড়তে পারে। বন বিভাগের সরকারি পাহাড় বৃ শূন্য করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসন থেকে কয়েকদফা মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।

গত ১৫দিন পূর্বে বারৈয়াঢালা জঙ্গল টেরিয়াইল মৌজার বন বিভাগের পাহাড়ে নিজের মালিকানা দাবী করে প্রায় অর্ধশত বছরের পুরানো সহস্রাধিক বৃক্ষ নির্বিচারে কেটে নিয়েছে একটি চক্র। অথচ রহস্যজনক কারণে অনেকটা দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করছেন বারৈয়ারঢালা বন বিভাগ। দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথা নেই। বনজ দ্রব্য পরিবহন (নিয়ন্ত্রন) বিধিমালা ২০১১ আইন মোতাবেক সরকারি পাহাড়ের বৃক্ষ কর্তনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হয়। চক্রটি বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে সরকারি পাহাড় থেকে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের মহাৎসবে মেতে উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে সাবাড় করা হচ্ছে বনজ, ঔষধিসহ মূল্যবান পাহাড়ি বৃক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় এক কিলোমিটার জায়গার অর্ধশত বছরের পুরানো বৃক্ষের পাশাপাশি ছোট ছোট বৃক্ষ নির্বিচারে নিধনের কারণে অনেকটা বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়েছে এ পাহাড়ি টিলা। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কয়েকস্থানে ছোট ছোট টিলা ধসে পড়েছে। ওই পাহাড়ের পাদদেশে রাস্তার উপর মাটি পড়ে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে যে কোন মুহূর্তে পাহাড়ের কয়েক অংশ ধসে পড়তে পারে।

বারৈয়াঢালা ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রেহান দৈনিক আজাদীকে জানান, পাহাড় বৃক্ষশূন্য করার জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তারাই দায়ী। তা না হলে গাছগুলো স্বাধীনতার যুদ্ধের আগে বন বিভাগের রোপনকৃত, এগুলো ব্যক্তি মালিকানা কিভাবে হয়? পাহাড় বৃক্ষশূন্য করার বিষয়ে বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা আবদুল মজিদ জানান, অনুমতি নিয়ে পাহাড় থেকে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে পুনরায় গাছ লাগানো হবে।

LEAVE A REPLY