আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হতে পারে সন্দেহে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের সেন্ট্রাল স্টেশনে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির সৈন্যরা। মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বেলজিয়ামের কর্মকর্তারা।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ওই ব্যক্তি ছোট একটি বিস্ফোরণ ঘটানোর পর তাকে গুলি করা হয়, তবে ওই বিস্ফোরণে কেউ আহত হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর প্রসিকিউটরা ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখছেন তারা।

২০১৬ সালের মার্চে ব্রাসেলসে চালানো এক হামলায় ৩২ জন নিহত হয়েছিল যার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। প্রসিকিউটরদের বরাতে বেলজিয়ামের একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, যে ব্যক্তিকে গুলি করা হয় তার পিঠে একটি ব্যাগ এবং শরীরে বোমার বেল্ট বাঁধা ছিল। একটি বিস্ফোরণ ঘটানোর পর স্টেশনে থাকা সৈন্যদের চোখে পড়ে সে, জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। স্টেশনটির এক কর্মী জানান, কারো একজনের চিৎকার শুনে তিনি নিচে নেমে দেখতে পান এক ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে চাকাযুক্ত একটি স্যুটকেসে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। “বিস্ফোরণের সময় আমি একটি দেয়ালের পেছনে ছিলাম। আমি নিচে নেমে আমার সহকর্মীদের সতর্ক করে সবাইকে সরিয়ে নিতে বলি। ওই ব্যক্তি (সন্দেহভাজন) তখন আশপাশেই ছিল, কিন্তু এরপর আর তাকে দেখতে পাইনি আমরা,” বলেন তিনি। “বিস্ফোরণটি খুব বড় ছিল না কিন্তু বড় ধরনের আওয়াজ হয়েছিল। শব্দ শুনে লোকজন দৌঁড়াতে শুরু করে।” সাদা শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট পরা লোকটির চুল ছোট করে ছাঁটা এবং দেখতে শক্তসমর্থ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। “তার শরীরে কিছু বাঁধা ছিল বলে মনে হচ্ছিল আর সেখান থেকে তার বের হয়ে ছিল, তাই সেটি একটি আত্মঘাতী ভেস্ট বলে মনে হচ্ছিল,” বলেন তিনি। ২৩ বছর বয়সী আইনজীবী রেমি বোনাফি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং বিস্ফোরণের পরপরই অগ্নিশিখার একটি ছবি তুলতে সক্ষম হন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, বিস্ফোরণের কাছাকাছি থাকা লোকজন কোনো আঘাত পায়নি বলেই মনে হয়েছে এবং আশপাশের দেয়ালেও বিস্ফোরণের আঘাত সৃষ্ট কোনো ক্ষত দেখেননি তিনি। “আমি সন্তুষ্ট যে কেউ আহত হয়নি।

এটি একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছিল,” বলেন তিনি। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের পরপরই তিনি স্টেশনে উপস্থিত হয়েছিলেন। স্টেশনটিতে প্রবেশের পরপরই নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের সেখান থেকে বের করে দেয়। এ সময় তিনি লোকজনকে দৌঁড়াদৌঁড়ি করে আশ্রয়ের খোঁজ করতে দেখেন এবং তারাও তাই করেন। স্টেশন এবং গ্রান্ড প্যালেস খালি করে ফেলার পর স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁগুলোকে বন্ধ করে তাদের শাটার নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের নির্দেশে স্টেশনটি থেকে মেট্রো লাইনগুলোতে চলাচলও কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।

LEAVE A REPLY