দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম১ সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক রইসউদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজ প্রতিষ্ঠানের এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বাংলানিউজের।

সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বিরুলিয়াতে একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করছেন রইসউদ্দিন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে নির্মাণাধীন এ ভবনের জন্য ফারহানা ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পাথর, সিমেন্ট, রড বাবদ ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে আর পরিশোধ করেননি তিনি। এই অর্থ পরিশোধে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পযন্ত তিনটি পৃথক চেক দেয়া হলেও পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সবগুলো চেক ডিজঅনার করে ব্যাংক।

সূত্র জানান, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক রাজধানীর পান্থপথ শাখায় রইসউদ্দিন আহম্মেদের হিসেব থেকে গত ২৮ জানুয়ারি ফারহানা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নামে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়। চেকটি নগদের জন্য ব্যাংকে জমা দেয়া হলেও হিসেবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ফেরত পাঠায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এরপর ১২ এপ্রিল এক লাখ ও ১৯ এপ্রিল দুই লাখ টাকার আরও দুইটি চেক দেয়া হলে একই কারণে সেগুলোও ফেরত দেয় ব্যাংক। এরপর অর্থ পরিশোধ না করার বিষয়ে রইসউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করেন ফারহানা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক নজরুল ইসলাম। দুদক সূত্র জানায়, রইসউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) কমিশনের উপপরিচালক (পরিদর্শক) এস এম মফিদুল ইসলামকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে কমিশন। অভিযোগ অনুসন্ধান করে আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাকে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপসহকারী পরিচালক রইসউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ভবন নির্মাণের জন্য ফারহানা ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মালামাল নিয়েছিলাম। এই জন্য প্রতিষ্ঠানটি আমার কাছে অর্থ পাবে।

পর্যায়ক্রমে সেই অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনবারে দুই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফারহানা ইঞ্জিনিয়ারিং আর সাড়ে ৬ লাখ টাকা পাবে এবং আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে দুই দফায় সব অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে দুইপক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফারহানা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, রইসউদ্দিন আহম্মেদের কাছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওনা আছি। তাগাদা দিলেও গত প্রায় এক বছরে তিনি সেই অর্থ পরিশোধ করেনি। এরপর তার বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ দাখিল করলে তিনি নড়েচড়ে বসেন।

এরপর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ তিনবারে নগদ দুই লাখ টাকা রইসউদ্দিন পরিশোধ করেছেন জানিয়ে নজরুল বলেন, তার ডিজঅনার হওয়া তিনটি চেকের মধ্যে এক লাখ টাকার একটি চেক ফেরত দিয়েছি। বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার দুইটি চেক ফেরত দেওয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, রইসউদ্দিন আহম্মেদের নামে রাজধানীর রাজারবাগে একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। এছাড়া এর আগেও জালজালিয়াতির অভিযোগে দুইবার দুদক রইসউদ্দিনকে তিরষ্কার করে।

LEAVE A REPLY