মুহাম্মদ মনির হুসাইন (নিলয়)

ফেসবুক নামক ডিজিটাল এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যতটা না বেশি কল্যাণে ব্যবহার করছি তার চেয়ে বেশি নিরর্থক ও অকল্যাণে ব্যবহার করেই যাচ্ছি। এই আধুনিক ভার্সনের প্রতি এতোটাই অতি আবেগজাত কাজ করে যাচ্ছি যা আমাদের স্বাভাবিক সত্যকে ক্রমেই মেরে ফেলছি তা নিজেরা জেনেও মুর্খের ভূমিকা পালন করছি। এখানে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে নিজেরাই আবিষ্কার করে যাচ্ছি কিছু উদ্ভট বানানেরও! এবং এসব বানানের কারণে চলমান এবং আগামী প্রজন্মকে কতটা বিভ্রান্তিকর অবস্থা তৈরি করছি সেটা সামান্য উপলব্ধি করার চেষ্টা কয়জনে করছি!!!

আমরা নিজেদের ইচ্ছেমতো কিংবা সবাই করে তাই আমিও করছি এই ধরনের মানসিকতা নিয়ে যখন এসব লিখে যাচ্ছি তখন নিজেদের অজান্তে ভাষার কতোটা সর্বনাশ করছি সেটা সহজে আমরা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারিনা।

যেমন : ফেইসবুকে এখন প্রায়ই দেখা যায়উপরে না লিখে লিখছেন উপ্রে! কেমনে এর স্থলে কেম্নে! আমরা না লিখে আম্রা! ফ্রেন্ডস বা বন্ধু এর স্থলেফ্রান্স!, দুঃখিত এর স্থলে দুক্ষিত ইত্যাদি কিছু উদ্ভট বানান অনেকেই এখন রীতিমত স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করছে। আর এটা অনেকটা ফেসবুকিয় লিখার ফ্যাশন আকারে রূপ লাভ করেছে। আমি দেখেছি এই উদ্ভট বানানরীতি লিখার ক্ষেত্রে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তথাকথিত গ্রেজুয়েটরাই এসব ভুল বানানকে ফ্যশন হিসেবে বেশি ব্যবহার করে যাচ্ছেন। সমসাময়িককালে জিন্সকে ছিড়ে বা ১০/১২ ফূটা করে (সেটা দেখতে যতটা বেখাপ্পাই লাগুকনা কেন) যেমন আধুনিক ফ্যাশন বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঠিক তেমনি বাংলা ভাষাকে ফেসবুকে এনে নিজেরাই কেটে কুটে ফেসবুকিয় ভাষা আবিষ্কার করে যাচ্ছেন উদ্ভটভাবে। ব্যবহার করাটা ক্রমেই স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্ভট বানানগুলো স্বাভাবিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

আচ্ছা ধরা যাক, আজ আপনা ছোট সন্তান বা ভাই ফেসবুক এ নতুন একাউন্ট করে যোগ হলোতখন সে আপনার টাইম লাইনে দেখছেআমার উপ্রে আর কেউ নাই। কেম্নে আমাকে অন্যরা হারাবে ফ্রান্স? তখন তার মাথায় কাজ করবে আপনার লিখা বানানটাই। সেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে আপনার লেখা সেই ভুল বানানটাই মেনে চলবে। এবং এই ধরনের বানান অনুসরণ করে সে যদি স্কুলের খাতায় লিখে এসব লিখে আসে তবে সে দোষটা কার হবে!!

বাংলা বানানের ক্ষেত্রে এসব লুতুপুতু টাইপের আঁতলামো উপ্রে/কেম্নে/ ফ্রান্সলিখা ব্যক্তিরা যখন বাংলা একাডেমির ইদ ও ঈদ লেখার বিতর্কে আসেন তাদের কাছে এসব কি আদৌ মানায়?

আমার এই অভিব্যক্তি বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়, কেননা এই ভুলটা ক্রমেই বিশেষ থেকে সাধারণে চলে আসছে। আমরা ভ্রান্তিহীন প্রজন্ম দেখতে চাইলে এসব ছোটোখাট বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?

আমরা ভ্রান্তিহীন প্রজন্ম দেখতে চাই। ভাষা নিয়ে কোন প্রকার বিভ্রান্তি যেমন থাকা উচিৎ নয়, ঠিক তেমনি যে কোন ভাষার সঠিক বানানটিও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকে হয়তো বলবেন মোবাইলে বা পিসিতে অভ্র কি বোর্ড বা এই জাতীয় সফটওয়্যারের কারণে এমন ভুলগুলো হচ্ছে। বাংলা লিখার প্রতিটি অ্যাপসএই সঠিক নিয়ম কানুন দেওয়া আছে। আর এসব বানানগুলো যে ভুলক্রমে হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি এমনও নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত।

আর এসব ভুলগুলো যতই আমরা ছোটখাটো সমস্যা বলে এড়িয়ে যাবো ততই এসব সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে এবং বাংলা বানানের সঠিক শব্দটি একসময় হারিয়ে যেতে বিলম্ব হবে না। তাই এসব বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার এবং সচেতন করাও দরকার।

LEAVE A REPLY