সফিক চৌধুরী

সবার সাথে মিলেমিশে ইফতার করার আনন্দই আলাদা, আর তা যদি হয় হারিয়ে যাওয়া পুরনো বন্ধু আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় সহপাঠীদের সাথে, তাহলে তো কথাই নেই! বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন রমজানে ক্যাম্পাসে ইফতারী করার সেই পুরোনো স্মৃতিই যেন তাড়া করে ফিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচ/ অনুষদ/ বিভাগ/ অ্যালামনাইএর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বর্তমানের ইফতার আয়োজনে।

বিগত কয়েক বছর যাবতই রমজানে চবির কিছু বিভাগ আর অনুষদের কিছু উদ্যমী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পুরনো বন্ধুদের সাথে ফেলে আসা স্মৃতিকে ঝালিয়ে নিতে আর বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার মানসে ঢাকাচট্টগ্রামে আয়োজিত হয়ে আসছে ইফতার মাহফিল। তবে গেল বছরের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাণের যে বান এনেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল এ বছরের ইফতার আয়োজনে। বিগত বছরগুলোর সব ইফতার আয়োজন ছাপিয়ে এবার তা ছড়িয়ে গেছে প্রায় সব ব্যাচ আর বিভাগের পুরনো শিক্ষার্থীদের মাঝে।

ইফতার আয়োজনে চবির

অ্যালামনাই আর এসোসিয়েশন

ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের পুরনো এলামনাইদের সাথে বিভাগের সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত আর আন্তরিক করার প্রয়াসে গেল ১৭ জুন নগরীর একটি হলে ইফতার আর মেজবানি আয়োজনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফাইন্যান্স অ্যালামনাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় আর পুরনো অ্যালামনাইদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে নতুন এক স্বপ্নের যাত্রা হলো শুরু।

অন্যদিকে একইদিন তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মার্কেটিং অ্যালামনাইও তাঁদের তৃতীয় ইফতার আয়োজন করে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে, যেখানে ইফতারের আগে পুরনো অ্যালামনাইদের প্রাণবন্ত আড্ডা আর উচ্ছলতায় তা যেন হয়ে উঠে মিনি চবি ক্যাম্পাস!

ওদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বড় সংগঠন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রগ্রেসিভ এক্সস্টুডেন্ট’স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ১৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও চবির প্রাক্তন ভিসি মান্নান স্যার আর প্রাক্তনদের সরব উপস্থিতিতে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের করে। বছর বিশেক আগে ব্যবসা অনুষদের কিছু উদ্যমী আর চৌকস শিক্ষার্থীর হাতে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী চবি এমবিএ এসোসিয়েশন প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা এবং চট্টগ্রামে ইফতার এবং ইফতার পরবর্তী মেজবানির আয়োজন করে। সেখানে কর্মসূত্রে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মব্যস্ত আর কর্মক্ষেত্রে রাশভারি প্রাক্তন এমবিএগণ পুরনো বন্ধুদের পেয়ে হয়ে উঠেন নস্টালজিক!

ইফতার আর বন্ধু দর্শনে পিছিয়ে

ছিলো না বিভিন্ন ব্যাচ আর বিভাগও!

চবি’র বিভিন্ন ব্যাচ আর বিভাগের ইফতার আয়োজন ছিলো এবার চোখে পড়ার মতো। চবির ব্যাচ ২২, ২৮, ৩১, ৩৩, ৩৫, ৪০ সহ আরও বিভিন্ন ব্যাচ আর বিভিন্ন বিভাগ ভিত্তিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে এ বছর ও ঢাকাচট্টগ্রামে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে, যা ইফতার ছাপিয়ে হয়ে উঠে নিজেদের হারানো ক্যাম্পাসের স্মৃতি আর বন্ধুকে কাছে পেয়ে আবার নতুন করে পুরনোকে খুঁজে ফেরা!

বন্ধুদের কথামালায়

ইফতার আয়োজন

ইফতার পরবর্তী ফেবু স্ট্যাটাসে ৩৩ তম ব্যাচের বন্ধু মো. হেদায়েত উল্লাহ লিখেন, ‘যারা আসে নাই, তাঁদের আমরা মিস করি নাই! বরং তাঁরা আমাদের মিস করেছে! তাঁরা জানে না তাঁরা কি হারিয়েছে!’ নবগঠিত ফাইন্যান্স অ্যালামনাই এর ইফতার মাহফিলে আসা বিভাগের ৮ম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত লিটন বলেন, ‘সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের সেই প্রাণের উচ্ছ্বাস যেন আবারও টের পেলাম আজ!’

৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আদেল রহিমের উচ্ছ্বাস টের পাওয়া যায় যখন তিনি বলেন, এ তো শুধু ইফতার করা নয় এর মাঝে যেন ঈদ এর আনন্দই পাওয়া যায়!’ ২৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহনেওয়াজ আহমেদ (সাজু) বলেন, ‘প্রিয় বন্ধুর সাথে পাশে বসে ইফতারের আনন্দ তা কি আর ভাষায় প্রকাশ সম্ভব!’ এভাবেই ইফতারকে উপলক্ষ করে পুরনো বন্ধুর সাথে হারিয়ে যাওয়া অতীত খুঁজে ফিরে চবি’র শিক্ষার্থীরা।

আর সকলের ইফতারেই বিদায় বেলায় একটিই সুর আর প্রিয় বন্ধুদের একটিই কামনা, যেন আবারও আগামী রোজায় পুরোনো বন্ধুকে সুস্থ সুন্দরভাবে ইফতার আয়োজনে পাশে পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY