আজাদী প্রতিবেদন ।।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন একদিকে সহজ হয়ে উঠলেও অন্যদিকে হুমকির মুখে। যার মূলে রয়েছে হ্যাকিং। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বাড়ছে হ্যাকিং ঝুঁকি। হ্যাকিংয়ের কারণে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি, ব্যাংকের টাকা গায়েব করাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু মুছে ফেলছে হ্যাকাররা। শুধু তাই নয়, হ্যাকিংয়ের জন্য প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে । হ্যাকিংরোধে দেশের সরকারিবেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ আইটি প্রফেশনাল নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আর সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন আইটি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বব্যাপী হ্যাকাররা মডার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করে। সেজন্য নিরাপত্তা বাড়ানোর নিত্যনতুন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় মন্তব্য করে নাসিরাবাদের রয়েক্স টেকনোলজিসের চিফ টেকনোলজি অফিসার অনিক চৌধুরী জানান, আমাদের দেশে ইন্টারনেটের গতি কম হওয়ার কারণে মডার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করেও সমস্যায় পড়তে হয়। তবে এ পর্যন্ত যতগুলো প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ হয়েছে তাতে হ্যাকিং রোধ করা গেছে জানিয়ে অনিক চৌধুরী আরো বলেন, প্রথম থেকেই লাইসেন্স করা সফটওয়্যার এবং নিরাপত্তার সবগুলো ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করে কাজ করলে হ্যাকিং রোধ করা সম্ভব। একই কথা জানালেন নগরীর সোসাইটি অফ আইটি প্রফেশনালদের কোফাউন্ডার ও জয়েন্ট সেক্রেটারি রিপন চৌধুরী। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স করা সফটওয়্যার ব্যবহার করে না বলেই দেশে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে উল্লেখ করে ইপিজেডের অপসিড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডের ম্যানেজার এবং হেড অব আইটি রিপন চৌধুরী জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানেও হ্যাকিং রোধে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আর হ্যাকিং রোধে প্রধান সার্ভারকে সবসময় নিরাপদে রাখতে হয়। পাশাপাশি মানসম্পন্ন সফটওয়্যারও ব্যবহার করতে হয়।

দেশের সরকারিবেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইটি প্রফেশনাল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে জানিয়ে সোসাইটি অফ আইটি প্রফেশনালদের প্রেসিডেন্ট এবং পিএইচপি’র হেড অব আইটি মো. আবদুল্লাহ ফরিদ বলেন, নিরাপত্তাজনিত কোন দুর্বলতা থাকলে বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কেউ যদি সহযোগিতা করে তাহলেই হ্যাকিং হয়। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইটি সিকিউরিটি প্রয়োজন। বর্তমানে নগরীতে প্রফেশনাল আইটি এক্সপার্টদের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে মো. আবদুল্লাহ ফরিদ হ্যাকিং রোধে আইটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ এবং পেশাদার কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানান। নয়তো হ্যাকিংয়ের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ এবং লেনদেন নিয়ে বড় বড় ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

আগ্রাবাদের সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মো. সোহেল বলেন, বিশ্বব্যাপী হ্যাকিংয়ের প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকিং ঘটনার পর দেশে আইটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় অনেক সজাগ। তবে দেশের সরকারিবেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার নিরাপত্তায় আরো দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান এই ব্যাংক কর্মকর্তা।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার বড় কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনা। সাইবার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে গত ফেব্রশুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলংকায় আর বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে।

অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে ইদানিং বেশ কয়েকটি সাইবার কেলেঙ্কারি ঘটেছে। প্রতিকার তেমনটা চোখে পড়েনি। তাই সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দ্রুত ঢেলে সাজাতে হবে মনে করেন আইটি বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY