আজাদী প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরে তিন কোটিরও বেশি টাকার আমদানি নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মেশানো বিষাক্ত খাওয়ার লবণের একটি চালান আটক করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর চালানটি আটক করে। খাতুনগঞ্জের দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে বিষাক্ত এই লবণ আমদানি করেছে বলেও শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

নগরীর খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আজমির ট্রেডিং কর্পোরেশন এবং মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে দুই হাজার টন খাওয়ার লবণ আমদানি করে। পরবর্তীতে আজমির ট্রেডিং মেসার্স মানিক ব্রাদার্স নামের সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে গত ২১ মে বিল অব এন্ট্রি নং৬৫৮৫০৪ ও ৬৫৮৫৪৪, ১১ জুন বিল অব এন্ট্রি নং৭৬২২৭৬ এবং আশা এন্টারপ্রাইজ গত ১৫ জুন সিএন্ডএফ এজেন্ট রূপালী ট্রেডার্সের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি নং৭৮০৬৬৮ দাখিলের মাধ্যমে পণ্যগুলো খালাসের চেষ্টা করে।

আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। এগুলোর উপর শুল্ক রয়েছে দেড় কোটি টাকা। সবমিলিয়ে দুই হাজার টন লবণের এই চালানটির মূল্য ৩ কোটি ১৯ কোটি টাকা। চালানটি খালাসের আগে গত ২০ জুন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আটকে দেয়। চালানগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে প্রেরণ করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে সোডিয়াম ক্লোরাইডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর নিশ্চিত হওয়ার জন্য চালানটি থেকে নমুনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে প্রেরণ করে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবেদন শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে পাঠানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈন খান জানিয়েছেন, আটককৃত চালানটিতে ৯১.% সোডিয়াম ক্লোরাইড, .% সোডিয়াম সালফেট এবং ১.% আর্দ্রতার উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারক উক্ত চালানটিতে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করেছেন বলে ঘোষণা দেন।

রাসায়নিক পরীক্ষায় ৯১.% সোডিয়াম ক্লোরাইডের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন যে, খাবার লবণ হিসেবে বাজারজাতের জন্যই চালানটি আমদানি করা হয়েছে। সোডিয়াম সালফেট রাসায়নিক পদার্থটি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি মূলত ডিটারজেন্ট তৈরিতে এবং ড্রাইং এজেন্ট হিসেবে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাসি বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক ড. মঈন খান বলেন, ‘ভেজাল হিসাবে এটি শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি ফেইলিওরসহ নারী ও শিশুদেহে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি নিষিদ্ধ। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সোডিয়াম সালফেট ঘোষণা দিয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইডের সাথে সোডিয়াম সালফেট মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি ও বাজারজাত করে আসছে। শুল্ক গোয়েন্দাদের তদন্তের বরাত দিয়ে মহাপরিচালক আরো জানান, মেসার্স আজমির ট্রেডিং ও মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজসহ আরো কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কিছুদিন আগেও ৩০০০ টন ভেজাল মিশ্রিত লবণ আমদানি করে বাজারজাত করেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের কাস্টমস এ্যাক্ট এবং অন্যান্য ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও ড. মঈন খান জানান।

LEAVE A REPLY