এম এস আকাশ, ফটিকছড়ি

অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে হালদার নদীর পাড়ে ব্যাপক ভাঙ্গণ সৃষ্টি হয়েছে নাজিরহাট এলাকায়। নদীর পাড় ভেঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে নাজিহাট এলাকা, নাজিরহাটকাজিরহাট সড়ক ও নাজিরহাট কলেজ। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে উত্তর ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থানার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতিক জলোচ্ছাস, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর নাজিরহাট এলাকার দুই পাড়ে ব্যাপক ভাঙণ সৃষ্টি হয়েছে। নাজিরহাটকাজিরহাট সড়কের নাজিরহাট কলেজ গেইট ও মন্দাকিনি বেইলি ব্রিজের মাঝামাঝি প্রায় তিনশত ফুট রাস্তা ভেঙে হালদার পানিতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ৩০ ফিট কার্পেটিং সড়কটির প্রায় প্রায় ১০ ফিট ভেঙ্গে ডুকে পড়েছে হালদায়। পূনরায় আবারো ভারী বর্ষণ শুরু হলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে সড়কটি।

সুয়াবিল এলাকার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা নুরুল আবসার নূরী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি মন্ত্রনালয়ের অবহেলায় নাজিরহাট এলাকার এবং নাজিরহাটকাজিরহাট সড়কের এই চরম দূরাবস্থা।

এলাকাবাসী জানান, এই সড়কে হাজার হাজার ছাত্রজনতা যাতায়াত করে জীবনের হুমকি নিয়ে। সড়কটি যেকোন মুহূর্তে হালদা নদীর গর্ভে তলিয়ে ব্যাপক প্রাণ হানির আশংকা রয়েছে ।

হালদা নদী গবেষক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা নদীর এ অংশ হতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গভীরতা বেড়ে যায়। তাই এখানে ব্যাপক ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

চরম ঝুঁকিতে পড়েছ নাজিরহাট বাজার, নাজিরহাট পুরাতন ব্রীজ ও নাজিরহাট কলেজ।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর কাছে বার বার তদবির করে জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন জটিলতায় এখনো বস্তাগুলো ফেলে বাঁধটা নির্মাণ করা হয়নি।

ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এম. তৌহিদুল আলম বাবু বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ও পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর নাজিরহাট এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গণ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে নাজিরহাটকাজিরহাট সড়কের ভাঙ্গণটি মারাত্মক আকার ধারন করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম) বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন, জায়গাটিতে আজকের এ পরিনতির পেছনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা রয়েছে।

তারা বিষয়টি ইতিপূর্বে জানাননি কেন ? বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু নদীর পানি শুকানো ছাড়া তা সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY