লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

গত সপ্তাহের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সীতাকুণ্ড উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ছোটবড় ৩০টি গ্রামীন সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযোগ আছে এরকম কয়েকটি সড়ক ছাড়া গ্রামের অভ্যন্তরীণ শাখা সড়ক ও সংযোগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বেশ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের এক হিসেবে জানা যায়, অতিবর্ষণে উপজেলার ১০৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারমধ্যে কাঁচা রাস্তা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ৭ কিঃ মিঃ, আংশিক বিধ্বস্ত পাকা ৪২কিঃ মিঃ এবং আংশিক কাঁচা নষ্ট হয়েছে ৬০কিঃ মিঃ।

উপজেলার কয়েকটি গ্রাম সরেজমিনে ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো হলোহামিদুল্লাহ সড়ক, কোরবান আলী চৌধুরী সড়ক, ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফিডার সড়ক, ইলিয়াস আলী সড়ক, সুয়াখালী সড়ক, তুলাতলী সড়ক, কাজী মসজিদ সড়ক, রাজা মিয়া চৌধুরী সড়ক, সলিমপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার সড়ক, ফকির হাট সড়ক, সৈয়দপুর ইউনিয়নের হাবিব আহম্মদ সড়ক, মধ্যরধারী সড়ক, শেখের সড়ক, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মগ পুকুরিয়া সড়ক, ইমাম নগর সড়ক, হামিদ আলী সড়ক, কোট্টা বাজার সড়ক, কুমিরা ইউনিয়নের ঘাটঘর সড়ক, বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া সড়ক, আমির আলী সড়ক, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারী টোলা সড়ক, ধর্মপুর সড়ক, শেখ আলী চৌধুরী সড়ক, মুরাদপুর ইউনিয়নের আসকান আলী সড়ক, কাজী পাড়া সড়ক, সোনা মিয়া সওদাগর সড়ক।

বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবস্থা খুবই নাজুক। ঢানা বর্ষণে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এব্যাপারে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রেহান দৈনিক আজাদীকে বলেন, এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে এলাকার সব রাস্তাই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাগুলো সংস্কারের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অধিবাসী জাফর আহম্মেদ বলেন, আকিলপুর সড়ক দিয়ে এ ওয়ার্ডের প্রায় ৩ হাজার গ্রামবাসী চলাচল করে।

তাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘদিনের দাবীর পর কার্পেটিং করা হলেও নিম্মমানের কাজের কারণে সামান্য বৃষ্টিতে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের অধিবাসী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, পশ্চিম সৈয়দপুরের চেয়ারম্যান ঘাটা পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি এবং পশ্চিম দিকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন পর কার্পেটিং হলেও প্রবল বৃষ্টিতে বড় বড় গর্ত হয়ে যাওয়ায় চলাচলে অযোগ্য পড়েছে। এলাকার প্রায় আড়াই হাজার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’

এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী দৈনিক আজাদীকে জানান, আমার এলাকার সব রাস্তাই কম বেশি নষ্ট হয়েছে। এগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা থেকে ঘাটঘর পর্যন্ত রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত লোক যাতায়াত করে। প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তাটিতে বড় বড় গর্তের কারনে প্রতিদিনই দুইতিনটি রিক্সার উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। ছোট কুমিরা লতিফা বালিকা বিদ্যালয় থেকে হাবিব সড়ক হয়ে বেড়িবাঁধ পযর্ন্ত সড়কটি খুবই শোচনীয়।

এব্যাপারে কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে জানান, ‘গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে আমার ইউনিয়নে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির একটি চিত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY