ক্রীড়া প্রতিবেদক

এ বছরের শুরু থেকেই ব্যস্ত সময় কেটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে একাধিক সিরিজ খেলেছে টাইগাররা। এরপর রমজানে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলে টানা আটমাস ব্যস্ত সময় পার করার পর তিন সপ্তাহের ছুটি মিলেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। সেই ছুটি শেষ হয়েছে আগের দিন। আর গতকাল সোমবার থেকে আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরেছে টাইগাররা। সামনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করে তোলার কাজে নেমে পড়েছেন মাশরাফিরা। আগামী মাসে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। এরপর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে টাইগাররা। এই দুই সিরিজকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার সকালেই ফিটনেসে ক্যাম্পে নেমে পড়েন ২২ সদস্যের লালসবুজের দল। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে প্রোটিয়াসদের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজকে সামনে রেখে টাইগারদের প্রাথমিক দলে ২৯ জন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সবাই ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি। কারণ এইচপি দলের হয়ে এনামুল বিজয়, সাইফুদ্দিন, আবুল হাসান রাজু, তানবীর হায়দার ও লিটন দাস রয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে । অপরদিকে তামিম ইকবাল রয়েছেন এসেক্সের হয়ে কাউন্টি খেলতে ইংল্যান্ডে । ফলে ২২ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে ক্যাম্প শুরশু করেছেন জাতীয় দলের ট্রেনার মারিও ভিল্লা ভারায়ন। ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি ইনজুরিতে থাকা পেসার রশুবেল হোসেন।

গতকার অনুশীলন ক্যাম্পের প্রথম দিনের শুরুতেই ট্রেনারের কাছে টাইগাররা জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির জিমে দিয়েছেন মুভমেন্ট কম্পিটেন্সি টেস্ট। এরপর বিপ ও স্ক্রিন টেস্টের জন্য চলে যান ইনডোরে। গতকাল মূলত ২২ ক্রিকেটারের লেভেল ওয়ান স্ট্রেংথ টেস্ট ছিল। এই টেস্টের প্রতিবেদন মূল্যায়ন শেষে এখান থেকে যাদের কোচ উত্তীর্ণ বলে বিবেচনা করবেন তাদের নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে অনুষ্ঠিত হবে লেভেল টু স্ট্রেংথ টেস্ট। এভাবে আগামী তিন সপ্তাহ ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে যাবেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিকরা। এর আগে টাইগাররা সব শেষে ফিটনেস ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড সিরিজের আগে। ফলে প্রায় ১০ মাস পরে শিষ্যদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন কোচ ভিলহ্মা ভারায়ন। আর মোটামুটি দীর্ঘ একটি সময় পরে শিষ্যদের ক্যাম্পে পাওয়ায় তার জন্য সুযোগ হয়েছে তাদের ফিটনেসের অবস্থা খুব কাছে থেকে দেখার।.

.ভিল্লা ভারায়ন জানান, আমরা গত আটমাস ধরে শুধুই সিরিজ খেলেছি। এর মাঝে কোনো ফিটনেস ট্রেনিং ক্যাম্প হয়নি। লম্বা একটি সময় পরে ফিটনেস ট্রেনিং শুরু করলাম। অতএব এটা আমার জন্য একটি বড় সুযোগ যে তারা ফিটনেসের দিক থেকে আসলেই কোথায় আছে সেটা খুব কাছে থেকে জানা যাবে। আগস্ট থেকেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যস্ত সূচি। এই ব্যস্ত সূচিকে সামাল দিতে সবচেয়ে বেশি জরুরি ফিটনেস ধরে রাখা। এ কারণেই এবার বেশি সময় ধরে টাইগারদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে চান জাতীয় দলের ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন। গতকাল ক্রিকেটারদের ফিটনেস ক্যাম্পের শুরুর দিন সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই লংকান ট্রেনার। তিনি বলেন আগামী মাসেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সফরে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রায় ৪৫ দিনের সফর শেষ করে আসার পরপরই শুরু হবে বিপিএলের পঞ্চম আসর। সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের সামনে দারুণ ব্যস্ত একটি বছর অপেক্ষা করছে। এ জন্যই ক্রিকেটারদের ফিটনেসের দিকে সবচেয়ে বেশি নজর ট্রেনার মারিওর। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলে আসার পর টানা ২২দিনের ছুটিতে ছিলেন ক্রিকেটাররা। লম্বা এই বিরতিতে তাদের ফিটনেস ঠিক থাকার কথা নয়। প্রস্তুতির প্রথমদিন তাই ট্রেনার মারিওর প্রথম কাজ ছিল ক্রিকেটারদের ফিটনেস লেভেল দেখা। ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে ফিট কাকে পেলেন? জানতে চাইলে মারিও ভিলহ্মাভারায়ন জানালেন, অনুশীলনে আসা ২২ ক্রিকেটারের মধ্যে সবচেয়ে ফিট রয়েছেন সাব্বির হোসেন। সঙ্গে মারিও এটাও দাবি করেছেন, এবার সব ক্রিকেটারকে নিয়ে তিনি আলাদা আলাদাভাবে কাজ করবেন।

এদিকে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে শুধু ভিল্লাভারায়নই রয়েছেন বাংলাদেশে। তার অধীনেই চলবে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ক্যাম্প। ২৮ জুলাই প্রধান কোচ হাথুরুসিংহের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরবেন। ওইদিনই শুরু হওয়ার কথা ব্যাটবলে ক্রিকেট অনুশীলন। উল্লেখ্য, মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশঅস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৭ আগস্ট। ঈদউল আজহার পর দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে। এরপর দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টিটোয়েন্টি খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে টাইগাররা।

LEAVE A REPLY