শোয়েব ফারুকী

আলোকচিত্রের জগতে একটি অতি পরিচিত নাম। কেবল শহর চট্টগ্রাম বা দেশেই নয়, তাঁর পরিচয়ের ব্যাপ্তি দেশের সীমানা ছাড়িয়েছে। একশটির বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে। ফারুকীর ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ জন্মায় ৭০ দশকের গোড়ার দিকে। যেটি ৮০এর দশকে এসে পেশা হিসেবে পাকাপোক্ত হয়। তাঁর বাবা ছিলেন স্বশিক্ষিত চিত্রশিল্পী, শোয়েব নিজেও স্বশিক্ষিত আলোকচিত্রী। ২০০৫ সালে সমকালীন বিষয়ের ওপর ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কার পান। সম্প্রতি অর্জন করেছেন ২০১৬ সালে পিঙ্ক লেডি ফুড ফটোগ্রাফি পুরস্কার। চট্টগ্রামে ফটো ব্যাংক নামে একটি আলোকচিত্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগে আলোকচিত্রের ওপর খণ্ডকালীন ক্লাস নেন তিনি।

ছবি তুলে আসার পর, ছবিপরবর্তী কাজগুলোই অনেকখানি সময় নেয়। সেই কাজের পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

হ্যাঁ এটা ঠিক। ছবি তুলে নিয়ে আসতে যতখানি সময় লাগে, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে পরবর্তী পর্যায়ের কাজগুলোতে। তখন ধৈর্য্য প্রয়োজন, প্রয়োজন একাগ্রতা। এক্ষেত্রে আমার শান্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পছন্দ।

সাধারণত কোন সময়টাতে ছবি নিয়ে বসেন ?

কোন সময়টায় ছবির সঙ্গে থাকি না, এটা বরং বলা সহজ ছিল আমার জন্য। সর্বক্ষণই ছবি সর্ম্পকিত বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত থাকি। সকাল এগারটা নাগাদ কাজ শুরু করি, রাতের এগারটায় বাসায় যাই। এরপর বাসায় রাতের খাবার সেরে নিয়ে দুতিন ঘণ্টার জন্য আবার বসি অন লাইনে।

নিজের কাজ করার ঘরটির সাথে কীভাবে একাত্মতা বোধ করেন ?

দুই হাজার দুই সাল থেকে নগরের ৬ সার্সন রোডের বাড়িটি আমার অফিস বা স্টুডিও যাই বআে। এটি আমার কাছে বিশ্বের সেরা প্রিয় জায়গা মনে হয়। এটি ভাড়া হলেও নিজের ঘরের চাইতে কোনো অংশে কম নয়। রাতে শুধু ঘুমাতে যাই, বাদবাকি সময় তো এখানেই কাটে। ফটো আর্ট ইনস্টিটিউটের ক্লাসও তো এখানেই হয়। তাই গভীর একাত্মতা।

আপনার স্বপ্নের কাজের ঘরটি কেমন?

আরও খোলামেলা, আরও সবুজ। এবং নির্জন।

প্রত্যেক কবি বা শিল্পীর জীবনেই এক বা একাধিকবার ‘বন্ধ্যা সময়’ আসে। ধরুন ছবি তুলতে পারছেন না আর, বা নিজের সন্তুষ্টি মিলছে না। আপনার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এসেছে? সেসময়টা থেকে উত্তরণের জন্য কী করেন?

এমন সময় তো আসেই। তবে সেটাকে আমি খুব গুরুত্ব দিতে চাই না। আমি বরং পরিবেশপারিপার্শ্বিকতাঅর্থনৈতিক অবস্থাপরিবার বিষয়ক সংকটগুলোকে সবসময় মোকাবিলা করাটাকে গুরুত্ব দিতে চাই। গুরুত্বপূর্ণ ভাবি। এই সমস্যাগুলো যখন মানুষের থাকে না, তখন সে ইচ্ছে করলেই শান্তিপূর্ণভাবে তার কাজ করতে পারে আমি যেকোনোভাবে প্রচুর ছবি তুলে যেতে চাই। বয়স বাড়ছে, সেটা একেবারেই খেয়াল থাকে না। আগের মতোই ছবি তোলার অদম্য ইচ্ছা প্রতিদিন মনে পেষা থাকে। তাই বলব ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার পরিবারের আর কেউ ছবি তোলে ? আপনার ছবির ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের মনোযোগ কেমন? এর কতটা গুরুত্ব আছে বলে মনে করেন?

খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অসহযোগী পরিবার সৃজনশীল মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর। আমার দুই ছেলে দুই মেয়ে। সবাই ছবি ভালোবাসে। আমার বড় ছেলে আশফাক ও লেভেলের ছাত্র। অন্যদের চেয়েও তার আগ্রহ বেশি। এটা দেখতে ভাল লাগে।

মুহূর্তে কোনো প্রজেক্টের কাজ চলছে ? কী ধরনের ছবি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

অপাতত ছবি গোছানোর কাজে সময় দিচ্ছি। আমার ওয়েব সাইটএ ্রদমণঠতটরল্যলণণ.ড়ণভতমফধম.ডমব প্রতিদিন ছবি আপলোডের কাজ চলছে। ফাঁকে ফাঁকে ছবি তোলার প্রচেষ্টাও চলছে। বিশেষ করে পরিবেশ এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছি। সবসময় দেশ এবং বিশ্বকে ভালোবাসি ছবি তোলার মাধ্যমে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো নিজের পরিচালিত ফটো এজেন্সি ফটোব্যাংক গ্যালারি এবং ফটোগ্রাফি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফটো আর্ট ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন সাধন করা এবং দেশপ্রেমিক দক্ষ আলোকচিত্র শিল্পী তৈরি করা।

LEAVE A REPLY