আজাদী প্রতিবেদন

দেশের সমুদ্রসীমায় যেন অন্য কোনো দেশের ফিশিং বোট মাছ শিকার করতে না পারে, সেজন্য কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন শীর্ষক’ মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মতবিনিময় এই সভার আয়োজন করে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ পদ্ধতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উৎকণ্ঠায় আছেন। বর্তমানে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমায় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তারা বিভিন্ন দেশের সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ করছে। পরিকল্পিত পদ্ধতিতে মাছ আহরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের কিছু রেখে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশ আয়তনে অনেক ছোট। সমুদ্রে মাছ ছাড়াও অনেক প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ রয়েছে। সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। বর্তমানে ৬৫ হাজার কাঠের বোটে লাইসেন্স নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাছ ধরায় নিয়োজিত ৬৭ হাজার বোটের মধ্যে ২ হাজারের মতো লাইসেন্স আছে। লাইসেন্সবিহীন বোটগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে জেলে সম্প্রদায়কে রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব।

বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন বলেন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। এছাড়া জনপ্রতিনিধিদের এই কাজে সম্পৃক্ত করে মাছ আহরণ বিষয়ে জেলেদের যথাযথ কাউন্সেলিং করা সম্ভব হলে সুফল পাওয়া যাবে।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎপর রয়েছেন। জেলে সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

সমুদ্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইয়ুব আজাদ বলেন, দেশের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ যোগান দেয় মৎস্যখাত। এছাড়া মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ মানুষ এই কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সমুদ্রের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণে পরিকল্পিত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া ৪০ মিটারের কম গভীরে মাছ আহরণ করা যাবে না। অনেক সময় দেখা যায়, অপরিকল্পিত মাছ আহরণের কারণে অনেক প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান। তিনি বলেন, গত বছর পরিকল্পিত উপায়ে মাছ সংরক্ষণ করার ফলে আমরা অধিক পরিমাণ ইলিশ আহরণ করতে পেরেছি। সাধারণত ২০ মে থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন সময়। গত দুই বছর ধরে আমরা সেই সময়টাতে কড়া নজরদারি করছি। এসময় ইলিশ আহরণ বন্ধ করা গেলে প্রচুর ইলিশ আহরণ করা যায়। আমাদের প্রতিবেশি অনেক দেশের সমুদ্রসীমায় এখন ইলিশের সংকট রয়েছে।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হক, কোস্টগার্ডের আঞ্চলিক কমান্ডার ক্যাপ্টেন শহীদুল্লাহ, সমুদ্র অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হেমায়েত উল্লাহ ও ট্রলার মালিক এসোসিয়েশনের মহাসবিচ তাজুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY