আজাদী প্রতিবেদন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুরাতন রেল স্টেশনস্থ পার্সেল অফিস থেকে বছরে ৬ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয় হলেও বছরের পর বছর এই অফিসটি সংস্কার করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন পার্সেল অফিসটি সংস্কার না করায় টিনের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে আসবাবপত্র, বিভিন্ন সরকারিবেসরকারি পার্সেলমালামাল, রেকর্ডপত্রসহ দরজাজানালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে পুরাতন রেল স্টেশনের পার্শ্বেল অফিস ও গোডাউনটি সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন অফিসের কর্মচারীরা। রেলওয়ের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান একটি খাত হলো পার্শ্বেল বিভাগ। প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয় বলে বাণিজ্যিক কর্মকর্তার অফিস থেকে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম পুরাতন রেল স্টেশনের পার্সেল অফিস ও গোডাউনটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রকৌশলী১ রফিকুল ইসলামএর বরাবরে চিঠি দিয়েছেন। তারপরও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সরদার শাহাদাত আলী আজাদীকে জানান, পুরাতন রেল স্টেশনের পার্সেল অফিস ও গোডাউনটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য আমি প্রধান প্রকৌশলীকে বলেছি। সম্প্রতি ভারী বর্ষণে অফিসে পানি ঢুকেছিল। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে বলেছি। এই পার্সেল অফিস থেকে প্রতি মাসে আমাদের ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয় হয়। এখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মালামাল পরিবহন হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থাকে এই অফিসে। এটি রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সরেজমিন দেখা গেছে, পুরাতন রেল স্টেশনস্থ পার্সেল অফিস ও গোডাউনটির উপরের টিন গুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি পড়ছে। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দরজাজানলা ভেঙে যাওয়ায় পার্শ্বেল সহকারীগণ তাদের দপ্তরে বসে কাজ কর্ম করতে পারছেন না। অফিসের কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকার বেশি আয় হয় এই অফিস থেকে। তারপরও পার্শ্বেল অফিসটির দৈন্যদশা যাচ্ছে না। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বছরের পর বছর। সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ছে ভেতরে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র।

LEAVE A REPLY