ক্রীড়া প্রতিবেদক

এক মাসের ছুটি নিয়ে এবারের মৌসুমে এসেক্স ঈগলসের হয়ে খেলতে শুক্রবার উড়াল দিয়ে ছিলেন তামিম ইকবাল। ন্যাটওয়েস্ট টিটোয়েন্টি ব্লাস্টে আটনয়টি ম্যাচও খেলার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু মাত্র চারদিন থেকে এক ম্যাচ খেলার পরই হঠাৎ দেশে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশি এই ড্যাশিং ওপেনার। ক্লাব কর্তৃপক্ষ বলছে, কারণটা ব্যক্তিগত।

এরপর থেকেই শুরু হয় নানা গুঞ্জন। পরবর্তীতে দেশেবিদেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়, ইংল্যান্ডে তামিম সহধর্মিনী আয়েশা সিদ্দিকার উপর দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করার কারণেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তামিম। ১২ জুলাই বুধবার তামিম নিজেই বিষয়টি পরিস্কার করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজে এ প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দেন তামিম। সেখানে তামিম জানান, কারণটা ব্যক্তিগতই। এবং গণমাধ্যমগুলোতে যে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে তা সত্যি নয়। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তামিম লিখেছেন, আমি আমার সকল ভক্ত ও শুভাকাঙক্ষীদের জানাতে চাই, কিছু ব্যক্তিগত কারণে আমি এসেক্সের হয়ে এবারের আসর সংক্ষিপ্ত করেছি । কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে যে আমরা দুষ্কৃতকারীরা হামলার টার্গেট ছিলাম। আসলে এটা সত্য নয়। ইংল্যান্ড আমার অনেক প্রিয় ক্রিকেট খেলার জায়গা। যদিও আমাকে দ্রুত ফিরতে হলো। এরপরও এসেক্সের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। আমাকে নিয়ে উদ্বেগ এবং বার্তা প্রদানের জন্য আমি আমার সকল ভক্ত ও শুভাকাঙক্ষীদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডে গিয়ে আবারও খেলতে পারবো।

এসেক্সের হয়ে খেলতে গিয়ে আতঙ্কে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। রাতে খাবার খেতে গেলে ধাওয়া করা হয় তাদের। এমনকি তামিমের স্ত্রীর উপর এসিড নিক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছিলো। এমন খবরও উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। যদিও এর সবকিছুই অস্বীকার করেছেন তামিম। ন্যাটওয়েস্ট ব্লাস্ট টি২০ টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে এমন ঘটনায় তামিমের হুট করে দেশে ফেরা নিয়ে সরব ক্রিকেট বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো। যদিও তামিমের উপর হামলার চেয়ে, তামিমের জবানবন্দীর উপরেই প্রাধান্য দিয়েছে তারা। সবগুলো সংবাদমাধ্যমেই উঠে এসেছে তামিমপত্নীর উপর এসিড নিক্ষেপের চেষ্টার ব্যাপারটি। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল তাদের ‘এসেক্সে এক ম্যাচ খেলার পর ‘‘এসিড নিক্ষেপ’’ আতঙ্কে দেশ ছেড়েছেন তামিম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তামিমের স্ত্রী আয়েশা ইকবাল হিজাব পরায় আক্রমণকারীদের জন্য ‘ইস্যু’ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদেরকে ধাওয়া করা হলে কোনরকমে পালিয়ে বাঁচে। এর পরপরই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম স্টাফ নিউজে তামিমকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামনটি হলো, ‘পরিবারের উপর এসিড হামলা চেষ্টার অভিযোগে এসেক্স ছেড়েছেন তামিম ইকবাল’। মূলত, বাংলাদেশি গণমাধ্যমে যেভাবে বলা হয়েছে সেটাই লিখেছে ব্ল্যাক ক্যাপদের সংবাদমাধ্যমটি। ভারতের শীর্ষ দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, ‘তামিম ইকবাল ও তার পরিবার ইংল্যান্ডে এসিড আক্রমণের শিকার হয়েছে।ম্ব তারাও জানাচ্ছে, তামিমের স্ত্রীকেই ‘টার্গেট’ করেছিলো আক্রমণকারীরা। এসিড নিক্ষেপের চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু সপরিবারে পালিয়ে বাঁচেন তামিম ইকবাল।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। বাংলাদেশি গণমাধ্যমে তামিমের দেশে ফেরার কারণ ফলাও করে প্রকাশিত হওয়ার পর একদিনের মাথায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হামলার খবর অস্বীকার করেন তামিম ইকবাল। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে এই ব্যাপারটিকেই প্রাধান্য দিয়েছে। গতকাল বিকেলে ঢাকা পৌঁচেছেন তামিম ইকাবল। তবে বিমান বন্দরে সাংবাদিকরা তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কারো সাথে কোন কথা বলেননি।

LEAVE A REPLY