আজাদী প্রতিবেদন

চট্টগ্রামে অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে উঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে এটি প্রি একনেকে পাস হয়ে একনেকে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। গতকাল কোতয়ালী ৯ আসনের সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মুসলিম হল, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী, স্টুডিও থিয়েটারসহ পুরো এলাকা পরিদর্শন শেষে আজাদীকে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০১৭১৮ অর্থ বছরে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে। গতকাল (শনিবার) রাতে মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী আমায় ফোন করে এ ব্যাপারটা দেখভাল করতে বলেছেন। তাই আজ আমি এসেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

প্রসঙ্গত: ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মুসলিম হল ভেঙে আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স করার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সংস্কৃতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম আসলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মুসলিম হল ভেঙে কালচারাল কমপ্লেক্স করার নির্দেশনা সম্পর্কে ঘোষণা দেন। ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম আসে। তারা মুসলিম ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম গণগ্রন্থাগার,কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, থিয়েটার ইনস্টিটিউটসহ পুরো এলাকার ১.৮৭ একর জায়গার একটি ডিজিটাল সার্ভে করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এর পরে আর এগোয়নি এ কাজ। দীর্ঘদিন এ ব্যাপারে কোন প্রকল্প তৈরি হয়নি। বরাদ্দ হয়নি বাজেট। ঐতিহ্যবাহী এ মিলনায়তনটির শেষবার সংস্কার হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেবছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংস্কারকৃত মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, ৬৯র গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সরকারের কাছে বর্তমান শহীদ স্বপন পার্ক ও মুসলিম ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে শুরু করে ডিসি হিল পর্যন্ত পাহাড়ের ঢালু জায়গাজুড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার দাবি জানায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই দাবি আরো জোরালো হয়ে ওঠে। পাশাপাশি একটি খসড়া নকশাসহ জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে শহীদ মিনারকে ঘিরে শহীদস্মৃতি জাদুঘর, ভাষা শহীদদের আব মূর্তি নির্মাণ, স্থায়ী মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ নির্মাণ, অডিটরিয়াম, লাইব্রেরি, গ্যালারি, কনফারেন্স রুম নির্মাণসহ আরো অনেক স্থাপনা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও চট্টগ্রামের সংস্কৃতি কর্মীরা যখনই তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়েছিল প্রতিবার অন্যান্য দাবির সাথে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার দাবিও সংযুক্ত ছিল। বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামের সাবেক ও বর্তমান মেয়র এবং সরকারি নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে সংস্কৃতি কর্মীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শহীদ মিনার, মুসলিম হল ও থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম এলাকায় সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম সফরকালে নগরীর শহীদ মিনার, মুসলিম হল ও ডিসি হিল ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার ব্যাপারে আন্তরিকতা প্রকাশ করেছিলেন। সাংস্কৃতিক বলয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছিলেন, নকশার কাজ শেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পর্যন্ত নেওয়া হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের তরুণ স্থপতি আসিফ এটার ডিজাইনের কাজ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, এখানে একটি বড় অডিটোরিয়াম, একটি ছোট অডিটোরিয়াম থাকবে, সেমিনার রুম, গ্যালারি, কফি কর্ণার এগুলো থাকবে। রাস্তাটা যেমন আছে তেমনই থাকবে। ওপরের রাস্তা শহীদ মিনার পর্যন্ত যাবে। শহীদ মিনারের ওপর দিয়ে যে রাস্তা যাবে, এটি ডিসি হিলে গিয়ে থামবে। মানুষজন ওপরের রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করবে। এখানে শহীদ মিনার একটু স্থানান্তরিত হতে পারে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হবে বলে মন্তব্য করেন সাংসদ জিয়াউদ্দিন বাবলু। তিনি বলেন, মুসলিম হল, স্টুডিও থিয়েটার এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারএ ত্রয়ীর সমন্বয়ে এখানে চমৎকার একটি সংস্কৃতি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে এলে চট্টগ্রামের বীরত্ব গাঁথা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে সাংস্কৃতিক যে উদ্যম ছিল তা অনেকটা থিতিয়ে গেছে। এটিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম যেন সাংস্কৃতিকভাবে জেগে ওঠে, সেটাই আমরা করতে চাইছি। কেননা চট্টগ্রাম সবদিক থেকে এগিয়ে। মাস্টার দা’র নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর চয় দফা দাবিসহ যেকোন সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে চট্টগ্রাম এগিয়ে। আমাদের আগামী তরুণ সম্প্রদায়কে আমরা এর মাধ্যমে কাছে টানতে চাই। দলাদলি ভুলে সকলকে নিয়ে এ চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে চাই। সাংসদ বাবলুর সাথে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, সংস্কৃতি কর্মী অনুপ বিশ্বাস, জাতীয় পার্টি মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. এয়াকুব হোসেন, সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টি নেতা শামনুল আলম মাস্টার, রজনুল ইসলাম চৌধুরী, বিভাগীয় সরকারী গণ গ্রন্থাগার উপ পরিচালক মো. রিয়াজউদ্দিন, লাইব্রেরিয়ান আব্বাস উদ্দিন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY