আজাদী প্রতিবেদন

পুলিশ জনগণের বন্ধু। কথাটা তারা(পুলিশ) কাজে প্রমাণ করতে চায়। কোন কোন পুলিশ সদস্য সাম্প্রতিককালে এমন নজিরও স্থাপন করেছেন। তবে ব্যাপক পরিসরে এখনো অনাস্থার জায়গা রয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ সহজে পুলিশের কাছে যেতে চায় না। পুলিশ নিজে এগিয়ে এলেও বিশ্বাস করে না। এড়িয়ে যেতে চায়, পালাতে চায়। এই অবস্থায় নানা পুলিশি উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের সাথে মানুষের যোগাযোগ ও আস্থা বাড়ানোর চেষ্টায় বসানো হয়েছে অভিযোগ বক্স। কিন্তু প্রায় দু’সপ্তাহ হয়ে গেল এতে সাড়া কম। যেন কারো কোনো অভিযোগ নেই। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার, ‘কোনো কোনো বক্সে দু’একটা অভিযোগ করলেও সাথে কিছু টাকাও দিয়ে দিয়েছে। যেন এটা ঘুষের টাকাটাও সাথে দিয়ে দেয়া হলো।’ এমন দৃষ্টিভঙ্গিকে দুর্ভাগ্যজনক মনে করলেও হতাশ নয় পুলিশ । তারা মনে করেন আস্থাবর্ধক নানা উদ্যোগে এক সময় পুলিশের সাথে জনগণের বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিকশিত হবে। সচেতনতা ও প্রচার বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে তারা।

কোতোয়ালী থানাধীন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি স্পটে দিন দশেক আগে বসানো হয়েছে ১৫টি স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স। কিন্তু এর মধ্যে কিছু বক্সে টাকাও জমা পড়েছে। এ নিয়ে নানা কথা বলছেন লোকজন। তবে জনগণের সাথে যোগাযোগ সহজ করতে পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর সচেতন মহল মনে করেন পুলিশের সাথে জনগণের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ করতে সেবার মান বাড়ানো এবং সচেতনতামূলক আরো কর্মসূচি নেয়া প্রয়োজন। তাহলে নগরীতে অপরাধপ্রবণতা যেমন কমবে তেমনি পুলিশরাও জনগণের বন্ধু হয়ে উঠবে।

এ ব্যাপারে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর মু. সিকান্দার খান বলেন, পুলিশের অভিযোগ বক্স এখনো আমার চোখে পড়েনি। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এই কার্যক্রম অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। আমাদের দেশে বর্তমান যে পরিস্থিতি, বিশেষ করে পুলিশের যে অবস্থান সেটার উন্নয়নে সহায়ক হবে এই কার্যক্রম। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সঠিকভাবে অভিযান চালালেই আসল উপকারটুকু পাওয়া যাবে। এই বক্স স্থাপনের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতি পুলিশের সাহায্য করার যে মানসিকতা আশা করি সেটা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। অভিযোগ বক্সের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিও থাকা প্রয়োজন।

নগরীর চকবাজার, জামালখান রোডের প্রেস ক্লাব, কাজির দেউড়ি বাজার, নিউমার্কেট মোড়, ওয়াসা মোড়, সিআরবিসহ কোতোয়ালী থানাধীন গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি স্পটে যেখানে জনসমাগম বেশি হয় সেখানে এরকম অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে এমন বক্স বসানোর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও অভিযোগ বক্স বসানো হয়েছে। কিন্তু জনগণের মাঝে এসব বক্স নিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম হয় নি তেমন।

নগরীতে সিএমপির দক্ষিণ ডিভিশনে ৩৭টি বক্সসহ বর্তমানে নগরীতে এমন অভিযোগ বক্সের সংখ্যা ১৪৫টি। নগরীর থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গত তিন মাস ধরে বসানো হয়েছে এসব অভিযোগ বক্স। তবে এসব অভিযোগ বক্স বসানোর মূল সফলতা এখনো আসছে না মন্তব্য করে সিএমপির অতিরিক্ত উপ পুলিশ (দক্ষিণ) কমিশনার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, নগরীতে যেসব অভিযোগ বক্স বসানো হয়েছে সে বিষয়ে মানুষদের মাঝে সচেতনতা আরো বাড়াতে হবে। কোন বিষয়ে অভিযোগ করতে হলে সরাসরি ফোন করা যায়, অ্যাপসের মাধ্যমে দেয়া যায় বা থানায় লিখিত অভিযোগ করা যায়। অভিযোগ বক্স করার মূল উদ্দেশ্য, যারা ডিজিটালাইজড না তাদের জন্য । এটা সিএমপির প্রতিটি বিটে একটি করে আছে। তবে অভিযোগ বক্স স্থাপনের পর যেভাবে অভিযোগ আসার ব্যাপারে ধারণা করেছিলাম সেভাবে আসছে না। এজন্য সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান আবদুর রউফ।

নগরীতে অপরাধ দমনে এবং প্রবণতা কমাতে জনগণের সাথে পুলিশ সদস্যদের ভালো সম্পর্ক থাকা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পুলিশের মাঝে বর্তমানে সাহায্য করার যে মনোভাব দেখা যাচ্ছে তাতে নগরীতে অপরাধ প্রবণতা কমতে পারে । তবে আজকাল সাধারন মানুষ থানায় যেতে ভয় পায়। থানায় এবং আশেপাশে সবসময় অপরাধীদের উপস্থিতি। এজন্য যাদের অভিযোগ জানানোর প্রয়োজন বেশি, তারাই থানায় যেতে চায় না বা অভিযোগ জানাতে চায় না। এব্যাপারেও পুলিশ সদস্যদের ভাবা উচিত। উন্নত বিশ্বে এবং আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোতেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যেরকম সহযোগী ভাব দেখান এবং সেবা দিয়ে থাকে সেটাও অনুসরণ করা প্রয়োজন আমাদের দেশে। তাহলে মানুষের সাথে পুলিশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY