পটিয়া প্রতিনিধি

গরুর দুধ দিতে এসে ঘরে একা পেয়ে পটিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী এক যুবতীকে (২০) ধর্ষণ করেছে এক বখাটে। গত রবিবার পটিয়া পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের আল্লাই ওখাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ধর্ষক আবুল হাসেমের বাড়ি একই এলাকায়। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, পটিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আল্লাই ওখাড়া কাগজিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতার পিতা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে আয় রোজগার করেন। তার সংসারে ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে। তিন মেয়ের মধ্যে তিনি দুই মেয়েকে ইতোমধ্যে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে বাক প্রতিবন্ধী। দুই ছেলেও শ্রমিক হিসেবে মোটর গ্যারেজে কাজ করছে।

প্রতিদিন আবুল হাসেমের কাছ থেকে ঐ বাক প্রতিবন্ধী যুবতীর পরিবার আধা কেজি করে গরুর দুধ ক্রয় করে। গত রবিবার সকাল ১০টায় ঐ ঘরে দুধ দিতে যায় আবুল হাসেম। এ সময় বাক প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে একা পেয়ে সে ঘরের সামনের ও পেছনের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে এ খবর জানাজানি হলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সে ঘটনা স্বীকার করে ধর্ষিতার পরিবারের কাছে মা চেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

ধর্ষিতার পিতা জানান, ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে আমার বাক প্রতিবন্ধী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে আবুল কাসেম। মামলা না করার শর্তে সে আমাদের নিকট মা চেয়েছে। এরপরও আমি এ ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেছি। পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, ‘ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিকে খুব দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ২১ জুন পটিয়া পৌর সদরের সুচক্রদণ্ডী এলাকার ৬ জন বখাটে মিলে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিল। ঘটনার ৬ মাস পর কিশোরীর মা বুঝতে পারে ঐ কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এরপর গত বছরের ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে ওই ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। মামলাটি পটিয়া থানায় তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হলে পটিয়া থানা পুলিশ অভিযুক্ত ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, পিয়াল দে (২০), ইমন দে (২০), জনি দে (২৬), সুজন দে (২২), নয়ন দে (২২) ও সজিব দে (২২)

LEAVE A REPLY