মেহেদী হাসান বুলবুল

জিম্বাবুয়ে জিতলে হবে রেকর্ড। আর শ্রীলংকা জিততে হলে, করতে হবে রেকর্ড। শ্রীলঙ্কার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। ২০১৫ সালে পালেকেল্লের সেই টেস্ট ৭ উইকেট জিতেছিল মেশবাহরা। দেশের মাটিতে লঙ্কানরা সর্বোচ্চ ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে, ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পি সারা ওভালে। এই ম্যাচে জিততে যে চান্দিমাল বাহিনীকে চতুর্থ ইনিংসে করতে হবে রেকর্ড ৩৮৮ রান। যদিও এরই মধ্যে তিন উইকেটে ১৭০ তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। আর এখন পর্যন্ত স্বাগতিকদের সাথে ১৭ টেস্ট খেলে জয়ের দেখা পায়নি জিম্বাবুয়ে। যে পাঁচটি ম্যাচ ড্র হয়েছে তার একটিও শ্রীলংকার মাঠে নয়।

৭ উইকেট না ২১৮ রান? যাই হোক; কলম্বোর পেমাদাসা স্টেডিয়ামের নাম লেখা হবে ইতিহাসের পাতায়। নিজেদের মাটিতে রেকর্ড করতে দিতে চাইবে না শ্রীলংকা। তবে এরই মধ্যে স্বপ্নে বিভোর জিম্বাবুয়েনান শিবির। যে শ্রীলংকান মাঠে ক্রিকেটের কোনো ফরমেটে জয়ের স্বাদ পায় নি জিম্বাবুয়ে সেই স্বাগতিকদের সাথে ওয়ানডে সিরিজ জয়। এবার আবার তাদের মাঠেই টেস্ট ম্যাচ জেতার হাতছানি। স্বপ্ন হয়ত ঘুম কেড়ে নিয়েছে রাজাক্রেমারদের। শুধু নির্ঘুম রাত কাটালে তো হবে না। আজ তাদের একে এক সাজ ঘরে ফেরাতে হবে মেন্ডিস, ম্যাথুস, গুণারত্নে, ডিকবেলা, পেরেরাদের। সম্ভব কী? হ্যাঁ; সম্ভব হয়ত পঞ্চম দিন আর চতুর্থ ইনিংস বলেই। আর ক্রেমারউইলিয়ামস তো আছেই।

আগের দিনের ৬ উইকেটে ২৫২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ওয়ালার ও রাজা। সোমবার ৩৯.১ ওভার ব্যাট করে ১২৫ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ে। আগের দিন অর্ধশতক পাওয়া ম্যালকম ওয়ালার এদিন নিজের ইনিংস খুব একটা বড় করতে পারেননি। ৬৮ রান করা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে আউট করে ১৪৪ রানের জুটি ভাঙেন দিলরুয়ান পেরেরা। দলের সংগ্রহ তিনশ পার হতেই ফিরেন রাজা। ৯৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা ডানহাতি ব্যাটসম্যান এদিন যোগ করেন আরও ৩০ রান। পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি ২০৫ বলে খেলা তার ১২৭ রানের ইনিংসটি গড়া ৯টি চার ও একটি ছক্কায়। শেষ দিকে অধিনায়ক ক্রেমারের ৪৮ তিরিপানোর ১৯ রানে ৩৮৮ টার্গেট দাঁড় করায় জিম্বাবয়ে। রাজাকে বিদায় করে দ্বিতীয় ইনিংসেও পাঁচ ও ম্যাচে ১০ উইকেট নেন রঙ্গনা হেরাথ।

শেষদিন চতুর্থ ইনিংসে ৩৮৮ রানের পাহাড় সমান স্কোর তাড়া করতে নেমে ভালো সূচনা করে শ্রীলংকা। ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। পরের জুটিও করে অর্ধশতক। দিন শেষে কুসাল মেন্ডিসের অপরাজিত ৬০ আর ম্যাথুসের অপরাজিত ১৭ রানে জিম্বাবুয়ের স্কোর ১৭০/৩। ক্রেমার ২ ও উইলিয়ামস নেন ২ উইকেট। জিততে হলে তাদের করতে হবে আরো ২১৮ রান। হাতে আছে ৭ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ৩৫৬ ও ৩৭৭, শ্রীলঙ্কা: ৩৪৬ ও ১৭০/(মেন্ডিস ৬০অপ., ম্যাথিউস ১৭অপ.)

LEAVE A REPLY